তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি এইচআরডব্লিউর: মতিঝিল গণহত্যা

হেফাজতে ইসলামের অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ৫ ও ৬ মে ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় হতাহতের ঘটনায়  আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ(এইচআরডব্লিউ)  আলাদা তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে।   ১১ মে শনিবার এক বিবৃতিতে এই দাবি জানায় এইচআরডব্লিউ। বিবৃতিতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের(আইসিটি) রায়ের প্রতিবাদ ও পাল্টা প্রতিবাদে ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল মাসজুড়ে চলা হতাহতের ঘটনারও তদন্তের দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, “৫ ও ৬ মে অবরোধে হতাহতের ঘটনায় প্রকৃত মৃতের সংখ্যা এখনো পরিষ্কার নয়। সরকারের পক্ষ থেকে মৃতের সংখ্যা ১১ বলা হলেও হেফাজতের পক্ষ থেকে কয়েক হাজার দাবি করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমগুলোর পক্ষ থেকে মৃতের সংখ্যা বলা হচ্ছে প্রায় ৫০ জন। মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন।

এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস বলেন, “আইসিটি ও জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে বিক্ষোভের আধিক্য দেখা দিতে পারে। একটি স্বাধীন, দায়িত্ববোধসম্পন্ন এবং উন্নত নীতি ছাড়া আমাদের নিয়মিতভাবে এই রক্তের বন্যা প্রত্যক্ষ করতে হতে পারে।”  ৯ মে ঘোষিত জামায়াতের নেতা কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে আইসিটির রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বিক্ষোভ আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানায় এইচআরডব্লিউ।

বিরোধী আদর্শ, সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি হামলা না চালাতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও হেফাজতের প্রতি আহ্বান জানায় এইচআরডব্লিউ।

এইচআরডব্লিউ জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যবহারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়।

অ্যাডামস বলেন, “প্রতিটি মৃত্যুর বিষয় তদন্ত করার দায়িত্ব সরকারের; সেটি বিক্ষোভকারী বা পুলিশ, যে-ই হোক না কেন।”

এইচআরডব্লিউ জানায়, রক্ষণশীল মুসলিম সংগঠন হেফাজত ‘ঢাকা অবরোধ’ শিরোনামে ঢাকা এবং দেশের অন্যান্য অংশে সমাবেশ করে। হেফাজত ও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ‘গণহত্যা’ চালানোর দাবি করা হলেও এর প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে দুশ্চিন্তাই কেবল ছড়িয়েছে।

অ্যাডামস আরো বলেন, “সরকার যদি ৫ ও ৬ মের ঘটনাটি দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে তদন্ত না করে, তবে গুজব ও আতঙ্ক ছড়াতেই থাকবে।”

বিবৃতিতে দিগন্ত ও ইসলামিক টিভি লাইভ সংবাদ পরিবেশনের সময় বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া, ‘আমার দেশ’ পত্রিকা বন্ধ, মাহমুদুর রহমান গ্রেফতার এবং ব্লগারদের গ্রেফতার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।

অ্যাডামস বলেন, “সরকার নিজেকে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে উদার ও গণতান্ত্রিক বলে দাবি করলেও সমালোচকদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে।”


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।