আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও বিশ্ব ব্যাংকের কর্মসূচিতে বাংলাদেশ নিষিদ্ধ

বাংলাদেশের শ্রম আইন এবং শ্রমিকদের ইউনিয়ন করার অধিকারের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং বিশ্ব ব্যাংক। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় পোশাক শিল্পের নজরদারি সংক্রান্ত একটি কর্মসূচিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ঠেকিয়ে দিয়েছে তারা। খবর ওয়াশিংটন পোস্ট’র। শনিবার ‘আইএলও,ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ডিমান্ড লেবার চেইঞ্জেস ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

বাংলাদেশে একের পর এক ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনার পর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ‘গ্লোবাল বেটার ওয়ার্ক প্রোগ্রাম’ নামের একটি কর্মসূচিতে বাংলাদেশের অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে অস্বীকৃতি জানিয়েছে আইএলও এবং বিশ্ব ব্যাংক। এই দুটি সংস্থা যৌথভাবে কর্মসূচিটি পরিচালনা করে থাকে।

চীনের পরেই বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহ্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। এদেশে প্রায় ৫ হাজার পোশাক কারখানা রয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র সফররত বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে বোঝাতে চাইছেন যে, তারা দেশের শিল্পের মানোন্নয়নে সচেষ্ট।

নিরাপত্তা পরিদর্শনের পাশাপাশি কর রেয়াত সুবিধা বাতিল করে দেয়ার হুমকি দিয়ে বাংলাদেশকে চাপ দিয়ে যাচ্ছে ওবামা প্রশাসন।

অন্যদিকে, ক্যাপিটল হিলের আইন প্রণেতারা এবং ধর্মীয় ও বিনিয়োগকারী সংগঠনগুলো  যুক্তরাষ্ট্রের রিটেইলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে যাতে তারা ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর সঙ্গে একত্রিত হয়ে বাইরের লোক দিয়ে বাংলাদেশের পোশাক কারখানায় পরিদর্শন চালায়।

তারা বলছেন, বাংলাদেশে স্থানীয় প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় পশ্চিমা প্রধান প্রধান রিটেইলাররা নজরদারি বাড়ালে গার্মেন্ট কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

গত নভেম্বর থেকে বাংলাদেশে অগ্নিকাণ্ডে ও ভবনধসে অন্তত দেড় হাজার পোশাক শ্রমিক নিহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ১২০টি কোম্পানি ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর কাছে লেখা এক চিঠিতে দ্য ইন্টারফেইথ সেন্টার অন করপোরেট রেসপন্সিবিলিটি বলেছে, ‘এতে প্রমাণিত হয় যে বাংলাদেশে কর্মপরিবেশের উন্নয়নে বিশ্বের বড় কোম্পানিগুলো ব্যর্থ হয়েছে।

‘আমরা বিশ্বাস করি, কোম্পানিগুলো এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই শুধু অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব। তাই সংস্কারের জন্য তাদের বাণিজ্যিক ক্ষমতার অবশ্যই পূর্ণ ব্যবহার করতে হবে।’

বেটার ওয়ার্ক প্রোগ্রামে অংশ নেয়ার জন্য গত বছর আবেদন জানিয়েছিল বাংলাদেশ। এই কর্মসূচির আওতায় পূর্বঘোষণা ছাড়াই বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় বাইরের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পোশাক কারখানা পরিদর্শনের ব্যবস্থা রয়েছে।

তবে আইএলও এবং বিশ্ব ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশের শ্রম আইন এতোটাই দুর্বল এবং শ্রমিক ইউনিয়ন করার পরিস্থিতি এতেটাই খারাপ যে এক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতি ছাড়া তাদের এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেয়া যাবে না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।