মানবাধিকার লঙ্ঘন: শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে অভিযোগ

বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক ক্রিমিনাল কোর্টে (আইসিসি) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে হিউম্যান রাইটস এন্ড ডেভোলেপমেন্ট ফর বাংলাদেশ এবং গ্রেটার ওয়াশিংটন ডিসি বাংলাদেশী আমেরিকানরা।

দুই সংগঠনের পক্ষ মারটিন এফ ম্যাকমহন এন্ড অ্যাসোসিয়েটস গত বৃহস্পতিবার অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানোর জন্য একই দিন বিকালে ওয়াশিংটন ডিসি ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে এটর্নি মারটিন এফ ম্যাকমহন সাংবাদ সম্মেলন করেন।

এ সময় এটর্নিকে সহযোগিতা করেন ওলিভার টডিল ও মুয়াজ রহমান।

সাংবাদ সম্মেলনে এটর্নি মারটিন এফ ম্যাকহাম এটর্নি সরাসরি  মানবাধিকার লংঘনে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। মামলায় মোট ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে  ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদসহ নয় জনকে আসামি করা হয়েছে। ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ হিসেবে বাকি আসামিরা হলেন- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড মহীউদ্দীন খান আলমগীর, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার, র্যা বের মহাপরিচালক মোকলেসুর রহমান ও বিজিবির মহাপরিচালক আজিজ আহমেদ।

বাকিরা হলেন ঢাকা মেট্রো পলিটন পুলিশ কমশিনার বেনজির আহমেদ, চট্রগ্রামের পাঁচলাইশ থানার ওসি প্রদ্বীপ কুমার, ডিএমপি মতিঝিল জোনের এসি মেহদী হাসান, ডিএমপি লালবাগ বিভাগের ডিসি হারুন অর রশিদ, মিরপুর মডেল থানার ওসি সালাউদ্দিন, গোয়েন্দা বিভাগের এডিসি মশিউর রহমান, দারুস সলাম থানার ওসি খলিলুর রহমান, কাফরুল থানার ওসি আব্দুল লতিফ, কাফরুল থানার সাব ইনেসপেক্টর আশিক, যাত্রা বাড়ী থানার ওসি রফিকুল ইসলাম, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদাজ্জামান নূর, শহিদুল ইসলাম, এম এম মোস্তাফিজুর রহমান ও হারুন রশিদ, পাবলিক প্রসিকিউটর সাজ্জাদুল হক শিহাব ও আসলাম।

সাংবাদ সম্মেলনে এটর্নি মারটিন উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাগ্রহণের পর থেকেই দেশে মানবাধিকর লঙ্ঘন করে আসছে। বাংলাদেশে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে এটর্নি বলেন, “বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ বাংলাদেশী মিডিয়াসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, বিভিন্ন মানবাধিকার ও এনজিও সংস্থার রিপোর্টে রয়েছে।”

এটর্নি মারটিন বলেন, “অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে রাষ্ট্রের চাপে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দিক দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র হুমকির মুখে আছে। গত কয়েক মাস যাবৎ রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে বিচারবহির্ভূত বেসামরিক মানুষ হত্যা, হয়রানি এবং গ্রেফতার ও অত্যাচার করা হচ্ছে।”

২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ও ৫-৬ মে’র হত্যাকাণ্ডসহ দৈনিক আমার দেশ’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করে নির্যাতন, হেফাজতে ইসলামের নেতা আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ও ছাত্রনেতা দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার ও নির্যাতন, বিরোধীদলীয় নেতা ইলিয়াস আলী গুম, শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলাম হত্যা, ছাত্রনেতা মোহাম্মদ ফিরোজ খান ও আনোয়ারুল ইসলাম মাসুম পুলিশ কর্তৃক নির্যাতনের শিকার এবং আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর সাক্ষী সুখরঞ্জন বালী নিখোঁজ ও কলকাতায় আটক থাকার ঘটনা তুলে ধরেন।

এটর্নি মারটিন দাবি করেন, বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশে বাংলাদেশ পুলিশসহ র্যালব, বিজিবি ও ডিজিএফআইসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন করে আসছে।

অভিযোগে এটর্নি মারটিন উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে ২০০৯ সালে বিচার বহির্ভূত হত্যা ১৫৪ জন, ১০ সালের ১২৭ জন, ১১ সালে ৮৪ জন ও ১২ সালে ৭০ জন। ২০০৯ সালে বন্দি অবস্থায় মৃত্যু ৫০ জন, ২০১০ সালে ৬০ জন, ১১ সালে ১০৫ জন, ১২ সালে ৬৩ জন। ২০০৯ সালে গুম হয়েছেন ৩ জন, ১০ সালে ১৮ জন, ১১ সালে ৩০ জন, ১২ সালে ২৪ জন।

২০০৯ সালে নির্যাতনে আহত ও নিহত হয়েছেন ৮৯ জন, ১০ সালে ৬৭, ১১ সালে ৪৬, ১২ সালে ৭২ জন। সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার ২০০৯ সালে ২২১ জন, ১০ সালে ২৩১ জন, ১১ সালে ২৫৯ জন, ১২ সালে ২৮৯ জন।

রাজনৈতিক হত্যার শিকার ২০০৯ সালে ২৫১ জন, ১০ সালে ২২০ জন, ১১ সালে ১৩৫ জন ও ১২ সালে ১৬৯ জন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এটর্নি মারটিন বলেন, “আন্তর্জাতিক আদালতে আমরা অভিযোগটি দাখিল করেছি। আমরা আশা করছি আসিসি অভিযোগগুলো তদন্ত করে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে চূড়ান্তভাবে মামলাটি গ্রহণ করে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দ্রুত প্রদক্ষেপ নিবে।”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।