মুরসিকে মুক্তি দিতে সামরিক বাহিনীর প্রতি আমেরিকার আহ্বান

আমেরিকা শুক্রবার মিশরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে মুক্তি দিতে সামরিক বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে, মুরসির হাজার হাজার সমর্থক তাকে ক্ষমতা পুনর্বহালের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জেন পসাকি জানান, এর আগে মুরসিকে মুক্তি দেয়ার ব্যাপারে জার্মানি যে আবেদন জানিয়েছে আমেরিকা তার সঙ্গে আমেরিকা একমত পোষণ করেছে। আমেরিকা এখন ‘প্রকাশ্যে’ একই অনুরোধ জানাচ্ছে। মিশরের অন্তর্বর্তী সরকারের নেতাদের মতে, ক্ষমতাচ্যুত ইসলামপন্থী প্রেসিডেন্টকে একটি নিরাপদ স্থানে বন্দি রাখা হয়েছে। গত ৩ জুলাই মুরসিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়ার পর থেকে তাকে আর জনসম্মুখে দেখা যায়নি।

পসাকি জানান, আমেরিকা চায় মুরসিকে যেখানে রাখা হয়েছে সে সম্পর্কে আরোপিত বিধি নিষেধ তুলে নেয়া হোক। এদিকে, হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মিশরের বর্তমান সংকট নিয়ে শুক্রবার টেলিফোনে সৌদি বাদশাহ আব্দুল্লাহর সঙ্গে কথা বলেন।

এতে বলা হয়, এসময় তারা একমত হন যে, মিশরের স্থিতিশীলতা রক্ষার ক্ষেত্রে আমেরিকা ও সৌদি আরবের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। সামরিক অভ্যুত্থানে মুরসির পতনের পর মিশরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় ওবামা ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেন। তিনি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উল্লেখ্য, বাদশাহ আব্দুল্লাহ হচ্ছেন প্রথম বিদেশী রাষ্ট্র প্রধান যিনি মিশরের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্ট আদলি মনসুরকে অভিনন্দন জানান।

এদিকে, জার্মানি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির মতো নির্ভরযোগ্য সংস্থাকে মুরসির কাছে যাওয়ার অনুমতি দেয়া উচিত।

শুক্রবার রাজধানী কায়রোতে মুরসির সমর্থক ও বিরোধীরা পাল্টাপাল্টি সমাবেশ করলে সেখানে নতুন করে সহিংসতার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে ইফতারের আগ মুহূর্তে ইসলামপন্থী লাখ লাখ প্রতিবাদকারী মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করে। তারা পবিত্র রমজান মাসের প্রথম শুক্রবার একসঙ্গে ইফতার করে।

অন্যদিকে, কায়রোর তাহরির স্কয়ার ও ইত্তিহাদিয়া প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের বাইরে মুরসি বিরোধী শত শত বিক্ষোভকারী একত্রে ইফতার করে।

মুরসির সমর্থকরা এদিন পাশ্ববর্তী নসর সিটিতে রাবা আল-আদাবিয়া মসজিদের বাইরে বিক্ষোভ সমাবেশ করে।

এসময় তারা মিশরের পতাকা ও পবিত্র কোরান শরীফ উত্তোলন করে দেশের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে উৎখাতকারী সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে শ্লোগান দেয়।

শুক্রবারের বিক্ষোভ-সমাবেশে ইসলামপন্থী প্রধান নেতা সাফওয়াত হেগাজি বলেন, ‘আমরা এ প্রতিরোধ আন্দোলন অব্যাহত রাখবো।’

তিনি আরো বলেন,‘আমরা প্রয়োজনে এক বা দুই মাস এমনকি প্রয়োজন হলে এক বা দুই বছর এখানে অবস্থান করবো। আমাদের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ মুরসিকে ক্ষমতায় পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আমরা স্থান ত্যাগ করবো না।’

হেগাজি মুরসির পুনর্বহাল, দ্রুত পার্লামেন্ট নির্বাচন এবং জাতীয় ঐক্যের জন্য একটি তদারক কমিটি গঠনের দাবি জানান।

সমাবেশে যোগ দেয়া মোহাম্মাদ ইউসরি নামের এক কিশোর বলে, ‘আমি মুরসির জন্য আমার জীবন উৎসর্গ করতে চাই। আমাদের রক্ত দিয়ে হলেও আমরা মুরসিকে রক্ষা করবো।’

কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে মুরসির সমর্থনে হাজার হাজার লোক বিক্ষোভ করে। সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

মুরসির পদত্যাগের দাবিতে রাজপথে লাখ লাখ লোক অবস্থান নেয়ার পর সামরিক বাহিনী মুরসিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়। সূত্র: এএফপি


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।