নতুন করে মিশরের রাজধানী কায়রোর রাজপথে নামার পরিকল্পনা করছে মুসলিম ব্রাদারহুড

নতুন করে মিশরের রাজধানী কায়রোর রাজপথে নামার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন  মুসলিম ব্রাদারহুড। তারা কায়রোজুড়ে বিক্ষোভ পদযাত্রা কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। এ সময় শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ব্যপারে তাদের দৃঢ় প্রতিজ্ঞার বিষয়টিও পূনর্ব্যক্ত করে ব্রাদারহুড।

কায়রোতে মুরসি সমর্থকদের বিক্ষোভ সমাবেশের ওপর মিশরীয় নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর রক্তাক্ত ক্র্যাকডাউন এবং দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির একদিন পরই বৃহস্পতিবার তারা এ ঘোষণা দিল।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ব্রাদারহুডের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আজ বিকেলে আল ইমান মসজিদ থেকে গণহত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ পদযাত্রার পরিকল্পনা করা হয়েছে।’ জরুরি অবস্থা সত্বেও তারা এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে বলে জানা গেছে।

তবে তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ থাকবে বলে জানিয়েছেন ব্রাদরহুডের মুখপাত্র গেহাদ আল হাদ্দাদ।

তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময়ই অহিংস এবং শান্তিপূর্ণ থাকবো। আমরা এখনও মনোবল হারাইনি। আমরা এখনো অনমনীয় এবং দুর্দমনীয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই সেনা অভ্যুত্থানকে পরাস্ত না করা পর্যন্ত আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবো।’

এদিকে গতকালের ক্র্যাকডাউনসহ এর পর মিশরজুড়ে বিক্ষোভ-সংঘর্ষে এ পর্যন্ত অন্তত ৪২১ জন মুরসি সমর্থক নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মিশরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র খালেদ আল খাতীব। এছাড়া আরো ৩৫৭২ জন আহত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো জানান, মুরসি সমর্থকদের প্রধান বিক্ষোভ এলাকা রাবা আল আদাবিয়া ক্যাম্পে অভিযানে ১৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একইভাবে নাহদা স্কোয়ারে ৫৭ জনের এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ২২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এপির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানান ওই মুখপাত্র।

এদিকে সেনা মদদপ্রাপ্ত মিশরের অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এ সময় অন্তত ৪৩ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন।

তবে বিবিসি বলেছে, মিশরীয় কতৃপক্ষ দেশব্যাপি নিহতের সংখ্যা অন্তত ৫২৫ বলে জানিয়েছে।

কিন্তু মুসলিম ব্রাদারহুড দাবি করেছে তাদের অন্তত প্রায় আড়াই হাজার লোক নিহত এবং দশ হাজার লোক আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে সেনা মদদপ্রাপ্ত মিশরের অন্তর্বর্তী সরকার কতৃপক্ষ মুরসি সমর্থকদের উপর ক্র্যাকডাউনের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, তাদের এছাড়া আর কোন উপায় ছিলনা।

এদিকে বুধবার রাত থেকেই মুরসি সমর্থকদের অবস্থান কর্মসূচি এলাকাসহ আরো কয়েকটি এলাকায় জারি করা কার্ফ্যু শিথিল করে দেয়া হয়েছে। বুধবারের সংঘর্ষ স্থলগুলোর উপর দিয়ে যানবাহন চলাচলও শুরু হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।