সিরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

সিরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগে দামেস্কে বহু বেসামরিক লোককে নির্মমভাবে হত্যার প্রতিবাদে ‘কয়েক দিনের মধ্যেই’ সিরিয়ায় হামলা চালানো হতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী সংবাদপত্র ডেইলি মেইল।

বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ৪০ মিনিট ধরে আলোচনা করেছেন। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই হামলার খুটিনাটি সম্পর্কে ঠিক করা হবে।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বাহিনীর রাসায়নিক অস্ত্রে গত সপ্তাহে শিশুসহ অন্তত ১৩০০ লোক নিহত হয়।
এ ঘটনায় আসাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন ওবামা।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ বলেছেন, যেসব প্রমাণ হাতে এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে যে আসাদের বাহিনীই ভয়াবহ নার্ভ গ্যাস ব্যবহার করেছে।

হেগ বলেন, ‘কেউ কোনো শাস্তি ছাড়াই রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে এভাবে মানুষ হত্যা করবে এবং সেজন্য তাকে কোনো পরিণতি ভোগ করতে হবে না-একুশ শতকে আমরা এটা হতে দিতে পারি না।’

‘আমরা মনে করি এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে স্বৈরশাসকরা, তা আসাদ হোক বা অন্য কেউ, যারা এভাবে নিজ জনগণকে হত্যা করে তারা সীমা অতিক্রম করে এবং এর জবাব বিশ্ব দিবেই।’

হামলার জন্য ওই অঞ্চলে নিয়োজিত নৌ কমান্ডাররা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগামী ১০ দিনের মধ্যেই হামলা চালানো হতে পারে।
ইতোমধ্যেই চতুর্থ মার্কিন রণতরীকে ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন করা হয়েছে।

সরকারি সূত্রের খবর, ক্রজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্লিৎস দিয়ে স্বল্প মেয়াদে ত্বরিত হামলা চালানো হবে। তবে এ দফায় সিরিয়ার রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নেই।

আসাদের রাসায়নিক অস্ত্রের সক্ষমতার কথা মাথায় রেখেই হামলার বিষয়টি চূড়ান্ত করছেন লন্ডন এবং ওয়াশিংটনের সামরিক পরিকল্পনাবিদরা।

রাশিয়া সিরিয়াকে অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করায় বিমান হামলার পরিবর্তে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হবে।

আসন্ন হামলার কথা মাথায় রেখে সিরিয়া এবং তার মিত্র ইরান যে কোনো হামলার ব্যাপারে কড়া হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, এর পরিণতি হবে করুণ।

সিরিয়া বলেছে, এতে মধ্যপ্রাচ্যে আগুন জ্বলবে। সিরিয়ার মিত্র রাশিয়াও একতরফা হামলার বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছে।

সম্ভাব্য হামলা এড়াতে সিরিয়া সরকার গতরাতে জাতিসংঘকে দামেস্কের রাসায়নিক অস্ত্র হামলার স্থানটি পরিদর্শন করার অনুমতি দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আজ তাদের কাজ শুরু করবেন।

তবে লন্ডন এবং ওয়াশিংটন সিরিয়ার প্রস্তাবকে নাকচ করে দিয়ে বলেছে, ‘ অনেক দেরি হয়ে গেছে।’ এতোদিনে প্রমাণাদি নষ্ট করা হয়ে গেছে।

ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ফ্রান্স রাসায়নিক হামলার জন্য আসাদের বাহিনীকে দায়ী করে বলেছে, বিদ্রোহীদের এ ধরণের হামলার সক্ষমতা নেই।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাসোয়াঁ ওঁলাদ রবিবার ক্যামেরনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। তিনি দ্রুত সামরিক হামলার তাগিদ দিয়ে বলেছেন, ওই বর্বরতার জন্য শাস্তি পেতে হবেই।

দ্রুত হামলা শুরুর জন্য জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হবে।

কারণ হামলার জন্য জাতিসংঘে প্রস্তাব তুললে তাতে রাশিয়া ভেটো দেবে এবং এতে সময়ক্ষেপণ হবে বলে মন্তব্য করেছেন ক্যামেরন।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।