নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা বাতিলই সহিংসতার কারণ : মার্কিন সিনেটে বাংলাদেশ সংক্রান্ত প্রস্তাব গৃহীত

মার্কিন সিনেটে বাংলাদেশ নিয়ে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এতে নির্দলীয় সরকারব্যবস্থা বাতিলকেই সহিংসতার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সাথে প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ওয়ার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের বিচার আন্তর্জাতিক মানদ- পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এ অবস্থায় গত বুধবার বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংস্কারের জরুরি প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে একমত পোষণ করে ‘সেন্স অব দ্য ইউএস সিনেট রিগার্ডিং দ্য ক্রিটিক্যাল নিড ফর পলিটিক্যাল রিফর্ম ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিলটি উত্থাপন করা হয় মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে। ইলিনয় অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত বারাক ওবামার ঘনিষ্ঠ ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর রিচার্ড ডার্বিন কর্তৃক উত্থাপিত এ বিলটি (সিনেট রেজ্যুলেশন ৩১৮) পাসের বিষয়ে গত বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটায় কংগ্রেসের সিনেট কমিটি অন ফরেন রিলেশন্সের চেয়ারম্যান সিনেটর রবার্ট ফার্নান্দেজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিনেট কমিটির ‘বিজনেস মিটিংয়ে’ বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
ওয়াশিংটনের স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি’র টেলিফোনের পরও বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোনো উন্নতি না হওয়ায় সিনেট কমিটির বৈঠকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিশেষ করে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত অস্কার ফার্নান্দেজ-তারানকো তার সাম্প্রতিক ঢাকা সফরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধীদল বিএনপি নেতাদের সমঝোতায় আসার যে পরামর্শ দিয়েছেন, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে কি না তা গুরুত্ব পায় বৈঠকে।
সিনেট কমিটি অন ফরেন রিলেশনসের এ বৈঠকে বাংলাদেশ ছাড়াও ইরান, মিশরসহ ৭টি বিষয়ের ওপর উত্থাপিত পৃথক পৃথক বিল নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ বিষয়ক সিনেট রেজ্যুলেশন ৩১৮ গত ১১ ডিসেম্বর সিনেটে উত্থাপন করেন ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর রিচার্ড ডার্বিন। বিলটি সিনেটে উত্থাপনের দিন এ বিলে তার সঙ্গে কো-স্পন্সর হিসেবে ছিলেন উইমিং অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত রিপাবলিকান সিনেটর মাইকেল এঞ্জি ও কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস্টোফার মারফি। পরে ১৭ ডিসেম্বর এ বিলটিতে কো-স্পন্সর হিসেবে আরও স্বাক্ষর করেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর বারবারা বক্সার ও আরিজোনা অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর জন বুজম্যান।
বাংলাদেশ-বিষয়ক সিনেট রেজ্যুলেশন ৩১৮ গত ১১ ডিসেম্বর ২০১৩ সিনেটে উত্থাপনের দিনই বিলটি বিবেচনার জন্য সিনেট কমিটি অন ফরেন রিলেশনসে পাঠানো হয়। গত বুধবার বিলটির ওপর সিনেট কমিটি বিস্তারিত আলোচনা করে। ফরেন রিলেশন কমিটির  সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে এ প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন।
এ বিলের সামারিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সংলাপ চালিয়ে যেতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে আহ্বান জানায়। এ উদ্দেশে জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ-তারানকোর মধ্যস্থতায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলমান সংলাপ উদ্যোগকে সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতার নিন্দা জানায়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, মানবাধিকার কর্মীদের হয়রানি বন্ধ এবং গ্রামীণ ব্যাংকের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সরকারকে আহ্বান জানায়। নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের বাংলাদেশে প্রবেশ ও দায়িত্ব পালনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানায় যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে বাংলাদেশের সম্ভাব্য নির্বাচনোত্তর যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ নীতি কেমন হবে- এ ধরনের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র্র এখনও বাংলাদেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানকেই প্রাধান্য দিচ্ছে।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদের বলেন, বিষয়টি রুটিন বৈঠক। এ নিয়ে আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।
উল্লেখ্য, গত ২০ নভেম্বর কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে দক্ষিণ এশিয়া সম্পর্কিত পররাষ্ট্র কমিটির শুনানিতেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।