সৌদিতে ট্যাঙ্ক বিক্রিতে জার্মানির অস্বীকৃতি

চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও সৌদি আরবে প্রায় ৮০০ সমর ট্যাঙ্ক বিক্রিতে জার্মান সরকার অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। খবর এএফপি’র। অত্যাধুনিক এসব ট্যাঙ্ক কেনার জন্য সৌদি সরকার ২৫০০ কোটি ডলার বা ২ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল।

জার্মানির রবি বাসরীয় পত্রিকা বিল্ড জানায়, লেপার্ড-২ নামের এই ট্যাঙ্ক বিক্রির চুক্তিটি ছিল জার্মানির অস্ত্র বিক্রির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চুক্তি (পৃথিবীর বহু দেশের জিপিডির চেয়েও বেশি অর্থ বরাদ্দ ছিল এই চুক্তিতে)।

কিন্তু দেশটির জোট সরকারের অর্থমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েল এই চুক্তির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছেন এই বলে যে ‘স্বৈরতান্ত্রিক রাজতান্ত্রিক পরিবারের’ কাছে এসব অস্ত্র সরবরাহ করা যাবে না। বিল্ড জানায়, অর্থমন্ত্রীর অনুমোদন ছাড়া এই চুক্তি বাস্তবায়নের কোনো সুযোগ নেই।

তাছাড়া চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য জার্মারিন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদেও পাঠানো হয়নি। জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলও এই পরিষদের সদস্য।

সৌদি আরব ৬০০-৮০০ লেপার্ড সমর ট্যাঙ্ক কিনতে চেয়েছিল। এজন্য দেশটি ২৫ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছিল।

সৌদি সরকারের মানবাধিকার লংঘন এবং ইসরাইলের নিরাপত্তা হুমকির কারণে কয়েক দশক ধরেই রাজতান্ত্রিক এই দেশটিতে ভারী অস্ত্র বিক্রিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে আসছে জার্মানী।

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ব্যয়ে শীর্ষে সৌদি আরব
এদিকে আলজাজিরা জানায়, সৌদি আরব গত বছর সামরিক খাতে ৬৭০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে। এক্ষেত্রে বিশ্বে চতুর্থ  এবং মধ্যপ্রাচ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে দেশটি।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইন্সটিটিউট এ তথ্য দিয়েছে।

সংস্থার পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, ২০১২ সালের তুলনায় সামরিক খাতে সৌদি ব্যয়  বেড়েছে ১৪ শতাংশ। এ ছাড়া, সামরিক খাতে ব্যয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য, জাপান ও ফ্রান্সকে পিছনে ফেলে দিয়েছে সৌদি আরব।

গত ১০ বছরে সৌদি সামরিক ব্যয় দ্বিগুণ হয়েছে বলে সংস্থাটির পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে।

সামরিক খাতে ব্যয়ের ক্ষেত্রে বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে আমেরিকা এবং গত বছর দেশটি ব্যয় করেছে ৬৪০ বিলিয়ন ডলার। চীন ব্যয় করেছে ১৮৮ বিলিয়ন ডলার এবং রাশিয়া ব্যয় করেছে ৮৭.৮ বিলিয়ন ডলার।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর বিশ্বে সামরিক খাতে ১.৭৮৫ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।