সৌদিতে ক্রমেই বিপদজনক হয়ে উঠছে মার্স ভাইরাস, নিহত ৮১

মিডল ইস্ট রিস্পাইরেটোরি সিন্ড্রোম (MERS) সৌদি আরবে ক্রমেই বিপদজনক হয়ে উঠছে।  সৌদি আরবের প্রত্যন্ত অঞ্চলে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস।  সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮১তে।

এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা মোট ২৬১ যার মধ্যে ৮১ জনই মৃত্যুবরণ করেছেন।    মাত্র এক সপ্তাহে এই রোগে মোট ১৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন যা শতকরা হিসেবে ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।  এদের মধ্যে সৌদি আরবের  বাণিজ্যিক নগরী হিসেবে খ্যাত জেদ্দায় সাতজন, রাজধানী রিয়াদে ছয়জন যাদের মধ্যে একজন মারা গিয়েছেন, তিনজন মদিনায় এবং একজন তাবুকে।

এই রোগ খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পরপরই সৌদি আরবের সাধারণ জনগণের ভেতর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।  এদিকে কোনো কারণ না দেখিয়েই সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রী ড. আবদুল্লাহ আল রাবিয়াহকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তার স্থলে শ্রমমন্ত্রী আদেল ফাখিকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এখন থেকে তিনি শ্রম মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করবেন।

মার্স ভাইরাস সম্পর্কে সৌদি রাজপরিবারের চিকিৎসক দলের সদস্য ডা. আরিফুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, মার্স ভাইরাস থেকে বাঁচতে হলে জনসাধারণকে সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে, বিশেষ করে খাবার গ্রহণ, মুখে, চোখে, নাকে  হাত দেবার পূর্বে সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।  এছাড়া কারো যদি খুব বেশি জ্বর, সর্দি, কাশি, শারীরিক ব্যথা অনুভূত হলে বিলম্ব না করে তাৎক্ষণিক ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে এমন রোগীদের হাঁচি এবং কাশি থেকে দূরে থাকতে হবে, কেননা মানুষের হাঁচি-কাশি থেকে ৬ ফুট দূর পর্যন্ত ভাইরাস ছড়াতে সক্ষম হয়।

বাংলাদেশীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ যেন জনবহুল এলাকায় বেশি যাতায়াত না করে, বিশেষ করে রিয়াদের হারা এবং বাথা বাজারকে যেন এড়িয়ে চলে। যদি একান্তই প্রয়োজন হয় তাহলে যেন তারা মাস্ক পরিধান করে এবং কর্মক্ষেত্রে যেন অবশ্যই মাস্ক পরিধান করে কাজ করে।

তবে মার্স ভাইরাসটি উট থেকে ছড়াচ্ছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় উদ্বিগ্ন হলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, বিশ্বব্যাপী উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। কেননা ভাইরাসটি যেহেতু উট থেকে ছড়াচ্ছে, তাই এটা মানুষের শরীরে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে না।

মার্সের এখন পর্যন্ত কোনো টিকা কিংবা প্রতিরোধক আবিষ্কৃত হয়নি, তাই সবার সচেতনতাই এখন পর্যন্ত একমাত্র উপায়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।