সৌদি রাজকন্যার বিদ্রোহের ডাক

সৌদি আরবের বাদশাহ আবদুল্লাহর মেয়ে রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে জেগে উঠার জন্য দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। রাজকন্যা সাহার তার আরো তিন বোনসহ জেদ্দায় রাজপ্রাসাদে বেশ কয়েক বছর ধরে বন্দী রয়েছেন।

সৌদি বাদশাহর মেয়েরা মনে করেন, সৌদি নারীদেরও স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার স্বাধীনতা রয়েছে। এর ফলে ৮৯ বছর বয়সী বাদশাহ আবদুল্লাহ তার কন্যাদের বন্দী করে রাখেন এবং কোনো পুরুষ যেন তাদের বিয়ে না করে সে নির্দেশ দেন।

সূত্র জানায়, রাজকন্যা সাহারের টুইটার অ্যাকাউন্ট ইংরেজি ও আররি ভাষায় লেখা তাদের বন্দী জীবন, মানবাধিকার ও তার পিতার রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কথায় ভরপুর। তিনি তার টুইটার বার্তায় জনগণকে রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে জেগে উঠার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। সৌদি জনগণকে রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে জেগে উঠার জন্য এক ভিডিও বার্তায় তিনি আহ্বান জানান।

এক ভিডিও বার্তায় সাহার বলেন, “আমরা তোমাদের পথ অনুসরণ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, তোমাদের প্রচেষ্টা আমরা কখনো বৃথা যেতে দেব না। আল্লাহর সাহায্য আমাদের সঙ্গেই থাকবে। মুক্তিকামী মানুষের নেতা আয়াতুল্লা নিমার আল নিমারের কাছ থেকে আমরা দৃঢ়তা শিখেছি। রাজবন্দিদের মুক্তি দেয়ার দাবি জানানোর কারণে জান্তাবাহিনী তাকে মেরেছে, আহত করেছে এবং জেলে ভরেছে।”

সাহার ও তার তিন বোনকে গত ১৩ বছর ধরে বন্দী করে রাখা হয়েছে। তাদের মা সৌদি আরব থেকে পালিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি লন্ডনে আশ্রয় গ্রহণ করেন সংবাদ মাধ্যমে জানা যায়।

সম্প্রতি নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সাহারের মা বলেন, আমার কন্যারা সৌদি আরবসহ গোটা আরব বিশ্বের নারীদের দুর্দশাগ্রস্থ জীবন নিয়ে সহানুভূতিশীল। এখানে আমারা যে অন্যায়-অবিচার দেখচি তা সত্যিই ভয়াবহ। এ ব্যাপারে কারো কিছু বলা উচিত।

এদিকে রাজকন্যা সাহারের ভিডিও বার্তার জের ধরে সৌদি সরকার চাইলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দিতে পারে।  সুত্র: আরব নিউজ ও আল জাজিরা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।