আসামে মুসলমানদের ওপর হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫

ভারতের আসামে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর বড়ো জঙ্গিদের নৃশংস হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ জনে। শনিবার বাকসা জেলার খাগড়াবাড়ি গ্রাম থেকে আরো ৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। নিহতদের মধ্যে চারটি শিশু ও দু জন মহিলা।

এ ঘটনার পর আসামজুড়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুন গগৈয়ের পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে। রোববার আসামের বনধ, ধর্মঘট প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে বিভিন্ন সংগঠন।

এ ঘটনার তদন্ত এনআইএকে (ন্যাশনাল ইনভেষ্টিগেশন এজেন্সি) তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে তরুণ গগৈ সরকার। এ পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে ২২ জনকে। উপদ্রুত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। নৃশংস হামলার জন্য নরেন্দ্র মোদীকে কাঠগড়ায় তুলেছে কংগ্রেস, ন্যাশনাল কনফারেন্সের মতো দলগুলি। বিজেপির দাবি, কংগ্রেসের ব্যর্থতার জন্যই আসামে হামলার ঘটনা ঘটছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত কোকড়াঝাড় ও বাকসা জেলায় কয়েকটি বাড়িতে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে নারী ও শিশুসহ ২৩ বাংলাভাষী মুসলমানকে হত্যা করে নিষিদ্ধঘোষিত ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট অব বোড়োল্যান্ডের সন্ত্রাসীরা।

এ ছাড়া, বাকসা  জেলায় মানস জাতীয় উদ্যানের কাছে বেকি নদীর তীর ঘেঁষা মুসলিম সম্প্রদায়ের কমপক্ষে ৭০টি ঘরবাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে উগ্রপন্থীরা।
এই ঘটনায়  বকসা, কোকড়াঝাড়সহ আসামের জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। জারি করা হয়েছে সান্ধ্য আইন। তবে, সেনা মোতায়েনের পরও মুসলমানদের ওপর হামলা চালিয়েছে জঙ্গিরা। গুরুতর আহত অবস্থায় ১৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আবারো জঙ্গি হামলার আতঙ্কে এরইমধ্যে এক হাজারেরও বেশি মুসলমান বোড়োল্যান্ড ছেড়ে ধুবড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।

বর্বরোচিত এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র নিন্দা করেছেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আবসু, আমসু, এবিআমসু-সহ আসামের বিভিন্ন দল ও সংগঠন।

এদিকে, আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ এ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করেছেন। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবার ও আহতদের জন্য ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।