মোদির শপথ আজ, অতিথি সাতটি দেশের সরকার প্রধানসহ ৪০০০

হিন্দু জাতীয়তাবাদী নেতা নরেন্দ্র মোদি ভারতের পঞ্চদশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সোমবার সন্ধ্যায় শপথ নিচ্ছেন । তার শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন সাতটি দেশের সরকার প্রধানসহ ৪,০০০ অতিথি। খবর এনডিটিভি’র।

রাষ্ট্রপতি ভবনের এটা হচ্ছে অন্যতম বড় আয়োজন। এর আগে এখানে কোনো অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন ১,৪০০-১,৫০০ জনের মত।

রাষ্ট্রপতি ভবনের সামনে প্রশস্ত আঙিনায় এর আগে আরও দুজন প্রধানমন্ত্রী শপথ নিয়েছিলেন। চন্দ্রশেখর ও অটল বিহারি বাজপেয়ি। কিন্তু কখনো এভাবে প্রতিবেশীরা আমন্ত্রিত হননি।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসে, নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালা, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোগবে এবং মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী নবীন রামগুলাম যোগ দিচ্ছেন শপথ অনুষ্ঠানে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপান সফরে থাকায় পাঠিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে। গতকাল রোববার দুপুরে তিনি দিল্লি পৌঁছেছেন।

তবে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা, পশ্চিমবঙ্গের মমতা ব্যানার্জি, কেরালার ওমেন চণ্ডি অথবা কর্ণাটকের সিদ্ধারামাইয়া আসছেন না শপথ অনুষ্ঠানে। অবশ্য মনমোহন সিং, সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধী উপস্থিত থাকছেন।

অনিশ্চয়তা আছে মোদির স্ত্রী যশোদাবেনকে নিয়েও। গুজরাটের স্থানীয় টিভিকে তিনি বলেছেন, নিয়ে গেলে অবশ্যই যাবেন। যোগাযোগ না থাকলেও স্বামী যে শেষ পর্যন্ত তাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন তাতেই তিনি কৃতজ্ঞ।

সংশয় রয়েছে মোদির অশীতিপর মা হীরাবেনের আসা নিয়েও। মোদির ভাইয়েরা পরিবার নিয়ে আসবেন শোনা যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির পরিবার ও অতিথিদের সঙ্গেই মোদির পরিবারের সদস্যরা বসবেন। ভাবী প্রধানমন্ত্রী নিজের পরিবারের জন্য ২০টা পাস নিয়েছেন। আসছেন বাদোদরার মোদির প্রার্থী-পদের জন্য অন্যতম প্রস্তাবক সেই চা-বিক্রেতা কিরণ মাহিদা। এই মহূর্তে তিনি ভিআইপি।

কিন্তু সবচেয়ে বড় উৎকণ্ঠা মন্ত্রিসভায় কারা আসছেন, কে কোন দপ্তর পাচ্ছেন ও মন্ত্রিসভার বহর কী হচ্ছে তা নিয়ে। রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি ভবনকে এই তথ্য জানানো হয়নি। সোমবার দুপুর নাগাদ তা চূড়ান্ত হবে।

সন্ধ্যা ছটায় অনুষ্ঠান শুরু হচ্ছে। এরপর রাষ্ট্রপতি প্রণব বিদেশি রাষ্ট্রনায়কদের সম্মানে নৈশভোজ দেবেন। পরের দিন মঙ্গলবার সকাল থেকে হায়দরাবাদ হাউসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রতিবেশী রাষ্ট্রনায়কদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বসবেন। প্রত্যেকের জন্য বরাদ্দ আধা ঘণ্টা।

রাষ্ট্রপতি ভবনে যাওয়ার সব রাস্তা গতকাল থেকেই সাধারণের জন্য বন্ধ। আধা সামরিক বাহিনী টহল দিচ্ছে। প্রত্যেক বছর ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থার যে ধরনের বন্দোবস্ত হয়, সোমবারাও সে রকমই থাকছে।

আকাশপথে রাষ্ট্রপতি ভবন ঘিরে দুই কিলোমিটার থাকছে ‘নো ফ্লাই জোন’। অনাকাঙ্ক্ষিত ফোন কল ঠেকাতে গোটা চত্বর থাকবে জ্যামারের আওতায়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।