ভারতের কেরালায় ধর্ষণের বিরুদ্ধে আইনজীবীদের অর্ধনগ্ন প্রতিবাদ!

প্রতিদিনই কেউ না কেউ ধর্ষিত হয়ে খবরের পাতার শিরোনাম হচ্ছে। দেশজুড়ে একের পর এক চলছে ধর্ষণ যজ্ঞ! আর ধর্ষণের বিরুদ্ধে নগ্ন হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিল ভারতের মণিপুর রাজ্যের বেশ কয়েকজন সাহসী নারী।

 

পুরুষ সমাজের বিবেকে হাতুড়ির আঘাত হেনেছিলেন তারা। সেনা জওয়ানের হাতে ধর্ষণ এবং নিগ্রহের প্রতিবাদে নগ্ন মিছিল করেছিলেন মণিপুরের রাজপথে এবং সেনা ক্যাম্পের গেটের বাইরে। নির্ভয়া মৃত্যুর আগে নিজের মধ্যে জ্বলতে থাকা প্রতিবাদের আগুন সঞ্চারিত করেছিলেন আম জনতার মধ্যে। তোলপাড় হয়ে গিয়েছিল সারা দেশ। কিন্তু তাতে পৈশাচিকতায় কোনও ভাঁটা পড়েনি।

 

নির্ভয়ার সেই তুষের আগুন আবার নগ্নতার অন্তরালে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে এসেছে রাজপথে। কথায় বলে রক্ষকই ভক্ষক। কিন্তু সেই রক্ষকের শরীরে যদি পড়ে ধর্ষণের আঁচড়? তখন কোথায় মুখ লুকায় গণতন্ত্র? সেই প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকলেও একদল সাহসী মহিলা আইনজীবী যে তাদের সহকর্মীর উপর হওয়া পৈশাচিক অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করে নেবেন না তা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন। হোক না সেই সহকর্মী অপরিচিতা। তাতে কী বা যায় আসে! মনুষ্যত্বের কর্তব্য তো পরিচিত-অপরিচিত বুঝে হয় না।

 

সেই কর্তব্যের তাগিদেই উত্তরপ্রদেশের নারী বিচারককে ধর্ষণের প্রতিবাদে কেরল হাইকোর্টের নারী আইনজীবীরা অর্ধনগ্ন হয়ে পথে হাঁটলেন। গায়ের উপর আলগা হয়ে রইল শুধু সাদা, গেরুয়া এবং সবুজ কাপড়। পাশাপাশি দাঁড়ালে তবেই যে পূর্ণ হয় ভারতের তেরঙা পতাকা! কিন্তু একজনও ছিটকে গেলে হারিয়ে যায় পতাকার বা দেশের আকার-অস্তিত্ব।

 

কোচির রাজপথ সাক্ষী থাকলো এই ধিক্কাররের। কিন্তু প্রশ্ন হল এই প্রতিবাদের ফলে ভারতের সর্বনাশা ধর্ষণ নেশার মনঃস্তত্বে কোন পরিবর্তন আসবে কী?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।