আবারো হামাসের সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতি

ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে এক মাস ব্যাপী যুদ্ধের পর আবার নতুন করে  যুদ্ধের জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে গাজা নিয়ন্ত্রণকারী হামাসের সামরিক শাখা আল কাসসাম ব্রিগেড, তারই একটি এক্সক্লুসিভ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে কাতার ভিত্তিক জনপ্রিয় চ্যানেল আল জাজিরা। খবর জেরুজালেম পোস্ট’র।

কায়রোতে হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে যখন যুদ্ধবিরতি  নিয়ে আলোচনা চলছে তখন আল জাজিরাকে হামাসের সুড়ঙ্গপথ, রকেট লাঞ্চার এবং কংক্রিটের বাঙ্কারের একটি দৃশ্যপট দেখানো হয়েছে।

চ্যানেলটির সামনে হামাস যোদ্ধারা তাদের অস্ত্রশস্ত্রের মজুদ, মর্টার, রকেট, ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করেছেন।
এতে ছদ্মবেশধারী স্নাইপারদের গুলি করার অবস্থানও দেখানো হয়।

 

আল জাজিরার সাংবাদিক তামের আল-মাশালকে একজন হামাস যোদ্ধা বলেন, ‘আমরা এখানে ইসরাইল সীমান্তে আছি এবং যে কোনো কিছুর জন্য প্রস্তুত। আমাদের জনগণ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।’

 

একজন ফিল্ড কমান্ডার বলেন, হামাস যোদ্ধারা তাদের অবস্থান ত্যাগ করেনি। যুদ্ধবিরতি চললেও তারা আগের অবস্থানেই অবস্থান করছেন।

 

‘আমরা এখন খুজা এলাকার রাইফেল পিট১২০ তে অবস্থান করছি। কারণ আমরা ইহুদিবাদী এবং তাদের রাষ্ট্রযন্ত্রকে বিশ্বাস করি না।  এই অবস্থানে থেকেই আমরা এশকলসহ একাধিক ইসরাইলি বসতিতে গুলি চালিয়েছি। এখান থেকে আমরা খুজা এলাকায় শত্রু  সৈন্যদের সমাবেশেও গুলি চালিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘জায়নিস্ট শত্রুদের ২৮ জুলাইয়ের বিকেল ৪ টা ২৫ মিনিটের কথা অবশ্যই মনে থাকবে। সেদিন আমরা এশকলে ৫টি মর্টার হামলা চালাই এবং তাতে ডজন ডজন লোক হতাহত হয়। ওই কালো দিনটির কথা শত্রুদের ভালো করেই মনে থাকবে।’
ওই কমান্ডার বলেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত যদি তাদের মনোপুত না হয় তবে তারা ইসরাইলের বিরুদ্ধে রকেট হামলা পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুত।

হামাসের আর্মার্ড ডিভিশনের একজন যোদ্ধা আন্ডারগ্রাউন্ডের  ক্যামোফ্লেজ বাঙ্কার থেকে আল জাজিরাকে বলেন, ‘আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আগের মতই বর্তমান অবস্থানে থেকে ইসরাইলি ট্যাঙ্ক ও যানবাহনের দিকে তাক করাই আছে। এই সীমান্ত এলাকায় আমরা একাধিক ট্যাঙ্ক গুড়িয়ে দিয়েছি।’

তিনি বলেন, তার যোদ্ধারা হামাসের হাই কমান্ড থেকে এখনো তাদের অবস্থান থেকে পশ্চাদপসরণের কোনো নির্দেশ পাননি।

‘বর্বর শত্রুরা হামাসের শর্ত মেনে না নেয়া পর্যন্ত আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছি।’

অন্য একজন যোদ্ধাকে সুড়ঙ্গপথ থেকে বের হয়ে গিয়ে পাশের মর্টার লাঞ্চারের নিকট অবস্থান নিতে দেখা যায়।

‘আমাদের যেসব শত্রু  এখনো ঘোরের মধ্যে আছে যে তারা তাদের লক্ষ্য অর্জন করেছে- আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন যে প্রতিরোধ যুদ্ধের সব উপকরণ এখানেই আছে। আপনারা আরো দেখতে পাচ্ছেন যে সব উপকরণ নিয়ে আমরা সীমান্ত এলাকাতেই আছি। আমাদের সর্ব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিরোধ যুদ্ধ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত আমরা।’

ভিডিওতে আল জাজিরার সাংবাদিককে হামাসের সুড়ঙ্গপথে হাঁটতে দেখা যায়। যদিও সুড়ঙ্গপথ ধ্বংসের কথা বলেই ইসরাইলি গাজায় স্থল অভিযান চালিয়েছে।

এ সময় ওই সাংবাদিক বলেন,  ‘প্রতিরোধ যোদ্ধারা প্রস্তুত।’

প্রতিবেদনের শেষে আল জাজিরার সাংবাদিক একটি সুড়ঙ্গপথ দেখান যা একেবারেই সচল।

 

ওই সাংবাদিক জানান, ‘কাসসাম ব্রিগেড জানাচ্ছে ইসরাইল সীমান্তের এই সুড়ঙ্গপথ অ্যাকশনের জন্য প্রস্তুত। যোদ্ধারা বলছেন, আবার যুদ্ধ শুরু হলে চমক দেয়ার মত বেশ কিছু ব্যবস্থা তাদের হাতে রয়ে গেছে।’

 

ফিলিস্তিনিরাই বিজয়ী: হামাস নেতা

এদিকে হামাসের শীর্ষ নেতা এজাত আল-রাশেক বলছেন, তাদের যোদ্ধাদের নিরস্ত্র করার যে দাবি ইসরাইল জানাচ্ছে তাতে তারা কান দেয়ার প্রয়োজন বোধ করছেন না।

কায়রোতে দুপক্ষের মধ্যে আলোচনাকালে তিনি বলেন, ইসরাইল আলোচনায় বসতে রাজী হয়েছে কারণ তারা গাজায় জিততে পারেনি।

‘ফিলিস্তিনিরাই বিজয়ী হয়েছে’,বলেন রাশেক।

তিনি বলেন, ‘ইসরাইলের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়া এবং গাজা থেকে সৈন্যদের প্রত্যাহার করে নেয়ার কারণ তারা মরণ দশায় উপনীত হয়েছিল।’

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।