অবশেষে গাজায় দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি

অবশেষে মিশরের মধ্যস্থতায় গাজায় দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলো। কায়রোর সংবাদ মাধ্যম মিনা জানায়, দুই পক্ষের সম্মতিতে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৭টা থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

গাজার ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেয়ার শর্ত থাকায় হামাস এ যুদ্ধবিরতিকে তাদের বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেছে। এদিকে যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে উভয়পক্ষকে শর্ত মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে আমেরিকা।

মিশরের মধ্যস্থতায় দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার পরই সন্ধ্যায় রাস্তায় নেমে পড়েন গাজার শত শত নারী-শিশু-পুরুষ। আনন্দ ভাগাভাগি করতে অনেকে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন ।

একজন বলেন, “খুবই খুশি লাগছে। ক্ষত, বেদনা, অবরোধ আর ধ্বংসের মধ্যেও আজকে আমরা আনন্দিত।”

আর একজন বলেন, “অবিশ্বাস্য অনুভূতি। আল্লাহকে ধন্যবাদ। আমাদের শহীদের রক্ত বৃথা যায়নি।’”

গাজার ওপর থেকে ইসরাইলি অবরোধ তুলে নেয়ার শর্ত থাকায় এ যুদ্ধবিরতিকে নিজেদের বিজয় হিসেবে দেখছে ফিলিস্তিনের কট্টরপন্থি গোষ্ঠী হামাস।

হামাস মুখপাত্র সামি আবু জুহুরি বলেন, “আমাদের কাছে ধ্বংসাত্মক ইসরাইল হার মেনেছে। আমরা এ বিজয়ের জন্য প্রথমে সর্বশক্তিমান আল্লাহকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, দ্বিতীয়ত আমাদের সাহসী জনগণকে। আরবের সেনাবাহিনী যা পারেনি তারা তা পেরেছে।”

বিবিসি জানায়, যুদ্ধবিরতির শর্ত বলা হয়েছে, গাজার সঙ্গে ইসরাইল ও মিশরের ক্রসিংগুলো তাৎক্ষণিকভাবে খুলে দেয়া হবে, গাজাবাসীর জন্য মৎস্য শিকারের অঞ্চলের পরিধি বাড়াতে হবে।

আর এক মাস পর গাজায় একটি সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দর নির্মাণের ব্যাপারে আলোচনা করবে ইসরাইল ও ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, ইসরাইলকে আশস্ত করা হয়েছে, গাজা থেকে কোনো রকেট ছোঁড়া হবে না।

যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার বিষয়টি ইসরাইলও নিশ্চিত করেছে।

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মার্ক রিগিভ বলেন, “ইসরাইল মিশরের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। আমরা আশা করছি, এবার যুদ্ধবিরতি টেকসই হবে।”

এর আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ব্যাপারে ফিলিস্তিনিদের সম্মতির কথা জানান ফিলিস্তিনির প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। তিনি গাজা পুনর্গঠনে সহায়তা দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছেন।

আমেরিকা এ যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে ফিলিস্তিন ও ইসরাইলকে শর্ত মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেন সাকি বলেন, “আমরা জোরালোভাবে আজকের যুদ্ধবিরতির প্রতি সমর্থন জানাচ্ছি। আমরা সবপক্ষকে যুদ্ধবিরতি শর্ত শতভাগ মানার আহ্বান করছি। আমরা আশা করছি, এ যুদ্ধবিরতি স্থায়ী ও টেকসই হবে-যা রকেট ও মর্টার হামলার অবসান ঘটাবে এবং গাজা সংকটের সমাধান আনবে।”

তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কিছুক্ষণ আগেও গাজায় হামলা চালায় ইসরাইল। মঙ্গলবার ইসরাইলি হামলায় ছয় ফিলিস্তিনি নিহত হন।

গত ৮ জুলাই থেকে গাজায় ইসরাইলের অপারেশন প্রক্টেকটিভ নামের আগ্রাসনে প্রাণ হারায় দু হাজার দু’শ ফিলিস্তিনি। ইসরাইলি বিমান হামলা আর গোলা নিক্ষেপে গুড়িয়ে গেছে প্রায় পুরো গাজা। অন্যদিকে গাজা থেকে ছোঁড়া রকেটে নিহত হয়েছে ৬৪ ইসরাইলি। সূত্র: ওয়েবসাইট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।