মায়ানমারে কী ঘটছে, কেন থামছে না বীভৎস হত্যাযজ্ঞ আর নির্মম পাশবিকতা ?

মায়ানমারের সেনাবাহিনী এবং চরমপন্থী বৌদ্ধরা রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর বীভৎস হত্যাযজ্ঞ আর নির্মম পাশবিকতা চালাচ্ছে । সাম্প্রতিক সহিংসতায় এ পর্যন্ত চার হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংগঠন ও রাষ্ট্র অভিযোগ করে আসছে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উপর ‘জাতিগত নিধন’ চলছে।

রোহিঙ্গারা কয়েক প্রজন্ম ধরে মায়ানমারে বসবাস করে আসলেও তাদেরকে নাগরিকত্ব দেয়া হয়নি এমনকি মৌলিক অধিকারগুলোও দেয়া হয়নি। তারা বঞ্চিত হয়ে আসছিল চলাফেরার স্বাধীনতা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুবিধা থেকে।

গত ২৫ আগস্ট কয়েকটি পুলিশ ফাঁড়ি ও সেনা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গাদের উপর অভিযান শুরু করে মায়ানমার সেনাবাহিনী। এতে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে অন্তত চার লাখ রোহিঙ্গা।

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অভিযোগ রাখাইন রাজ্য থেকে তাদেরকে সমূলে উৎখাত করতে পোড়ামাটি নীতি গ্রহণ করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। হত্যা, ধর্ষণ, বেপরোয়া গুলিবর্ষণের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মায়ানমারের সাধারণ বৌদ্ধরা সামরিক বাহিনী ও সু চির ভূমিকার প্রশংসা করছে। তারাও মনে করে, রোহিঙ্গারা বহিরাগত। সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মায়ানমারের জন্য তারা বড় হুমকি।

রোহিঙ্গা বিতাড়নের জন্য সামরিক বাহিনী যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা সমর্থন করছে বৌদ্ধ ভিক্ষু থেকে শুরু করে সাধারণ মায়ানমার নাগরিকরা।

বর্তমান পরিস্থিতি কী?

মায়ানমারের এই যুদ্ধ এখনো পর্যন্ত থামানো যায়নি এবং হাজার হাজার রোহিঙ্গা তাদের নিজ রাজ্য রাখাইন ছেড়ে নিরাপত্তার খোঁজে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে।

এসব রোহিঙ্গা শরণার্থীর চাপে কঠিন অবস্থা মোকাবেলা করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। এজন্য তারা আর শরণার্থী নিতে চাচ্ছে না। এসব শরণার্থীদের সীমান্ত বরাবর অস্থায়ী ক্যাম্পে বসবাস করতে হচ্ছে।

অসহায় এসব লোকদের সহায়তায় চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে শরণার্থীদের সহায়তা করার জন্য তাদের কাছে পর্যাপ্ত পানি, খাদ্য ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নেই।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, সাধারণ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মায়ানমারের সামরিক বাহিনী আইন ভঙ্গ করে যে বর্বরতা চালিয়েছে সে বিষয়ে তারা প্রতিবেদন পেয়েছে।

সংস্থাটির শীর্ষ মানবাধিকার কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের ওপর যে পাশবিকতা চালানো হচ্ছে তা দেখে মনে হচ্ছে মায়ানমার থেকে কর্তৃপক্ষ তাদেরকে দেশটি থেকে বিতাড়িত করতে চাচ্ছে।

তিনি এটিকে ‘জাতিগত নিধন’ বলে অভিহিত করেন।

 

জাতিসংঘ বলছে যে মায়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূল করার চেষ্টা করছে। তবে, মায়ানমারের সামরিক কর্তৃপক্ষ এই অবিযোগ অস্বীকার করেছে।

পরবর্তীতে কি ঘটতে যাচ্ছে?

ঠিক কি ঘটছে কিংবা পরবর্তীতে কি ঘটতে যাচ্ছে তা জানা অত্যন্ত কঠিন কেননা মায়ানমার সরকার পরিস্থিতিকে অত্যন্ত জটিল করে ফেলেছে। তারা এ ব্যাপারে কাউকে কোনো তথ্য দিচ্ছে না কিংবা কাউকে ওই এলাকায় প্রবেশ করতেও দিচ্ছে না।

সহিংসতা বন্ধে উদ্যোগ নিতে বিশ্ব নেতৃত্ব মায়ানমারের নেত্রী অং সান সুচিকে চাপ দিচ্ছে। ২০১৫ সালে তিনি যখন ক্ষমতায় আসেন তখন সবাই প্রত্যাশা করেছিল সু চি এবার উত্তেজনা প্রশোমনে ব্যবস্থা নিবেন। কিন্তু তিনিও জান্তা সরকারবেই অনুসরণ করছেন।

যদিও তিনি সরাসরি মায়ানমার সামরিককে নিয়ন্ত্রণ করেন না। তবে অনেক বিশ্ব নেতৃবৃন্দ এবং মানবাধিকার কর্মীরা মনে করছেন যে, সহিংসতার বিরুদ্ধে সু চি চাইলে তার মুখ খুলতে পারেন কিন্তু তিনি এখনো পর্যন্ত তা করেন নি।

এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনালকে তিনি বলেন, ‘১৮ মাসের মধ্যে আমাদের কাছে এই সমস্যাটির সমাধানের আশা করা কিছুটা অযৌক্তিক।’  তিনি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে তার কাছে পর্যাপ্ত রিসোর্স নেই। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন বলে তিনি দাবি করেন।