রোহিঙ্গাদের ওপর ‘জাতিগত নিধন’ চলছে, অচিরেই ব্যবস্থা

মায়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে চলমান সহিংসতাকে ‘জাতিগত নিধন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে জড়িত বার্মার সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের শাস্তি প্রদানের হুমকি দেন। মায়ানমারের সেনাবাহিনী ও উগ্রপন্থী বৌদ্ধ মিলিশিয়াদের নির্যাতনে ৬ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগকে ‘অসহনীয় দুঃখকষ্ট’ বলে অভিহিত করেন তিনি এবং এই অবস্থার জন্য তিনি মায়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় চরমপন্থী বৌদ্ধদেরকে দায়ী করেন।

যদিও দেশটির সেনারা এই সঙ্কটের জন্য রোহিঙ্গা স্বাধীনতাকামীদের দায়ী করেন। টিলারসন বলেন, ‘কোনো উস্কানি ভয়ঙ্কর নৃশংসতার ন্যায্যতা প্রমাণ করতে পারে না।’

বিবৃতিতে টিলারসন বলেন, ‘বিদ্যমান তথ্য থেকে সতর্ক এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের পরে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত জাতিগত নিধন চলছে।’

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রাখাইনে বিপুল সংখ্যক মানুষ অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হচ্ছে এই দুর্ভোগ থেকে তাদের পরিত্রাণ দেয়া। উদ্ভূত ভয়াবহ পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহে আমি রাখাইনের সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য অতিরিক্ত ৪৭ মিলিয়ন ডলার মানবিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছি। গত আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত রোহিঙ্গা সঙ্কট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র মোট ৮৭ মিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তা দিয়েছে।’

রেক্স টিলারসন বলেন, ‘১৫ নভেম্বর আমি বার্মার রাজধানী নাইপিদো সফর করেছি। এ সময় দেশটির স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি এবং সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ সিনিয়র সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইয়াংয়ের সঙ্গে আমি আলাদাভাবে সাক্ষাৎ করেছি। আমি তাদের কাছে বার্মার সফল গণতান্ত্রিক উত্তরণে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। কেননা নির্বাচিত সরকার সংস্কার বাস্তবায়ন এবং শান্তি ও পুনর্মিলনের জন্য কাজ করে। বার্মিজ সরকারও রাখাইন রাজ্যের বিধ্বংসী সঙ্কট সমাধানে চেষ্টা করছে।’

এর আগে ১৮ নভেম্বর কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। তাদের মধ্যে দুই জন সিনেটর ও তিন জন কংগ্রেসম্যান ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট।

উখিয়া উপজেলার বালুখালী ক্যাম্পে গিয়ে সেখানে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলাপ করেন তারা। ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিনেটর জেফ মার্কলে জানান, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কাছে পাওয়া সব তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে উপস্থাপন করা হবে।

উল্লেখ্য, এ বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার পর রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করে মায়ানমার। এ অভিযানের পর ৬ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘ মায়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনযজ্ঞের অভিযোগ এনেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বলছে, রোহিঙ্গারা মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর সমালোচনার মুখে মায়ানমারের পাশে দাঁড়িয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের দুই প্রভাবশালী সদস্য চীন ও রাশিয়া।

সূত্র: এপি