৮০৩২ রোহিঙ্গার তালিকা হস্তান্তর, ফিরিয়ে নেয়ার আশ্বাস মায়ানমার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

মায়ানমারের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আর প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া আট হাজার ৩২ জন রোহিঙ্গার তালিকাও হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন।

শুক্রবার সচিবালয়ে দুই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের বৈঠক হয়।এ বৈঠকেই এই তালিকা হস্তান্তর হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন।

জানা গেছে, ঢাকা সফররত দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খ শোয়ের হাতে তুলে দিয়েছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, মায়ানমারের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেয়াসহ ১০ দফা নিয়ে আলোচনা হয়েছে্। তবে আরও অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হবে। তাদের কাছে ৮০৩২ রোহিঙ্গার তালিকা হস্তান্তর করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমার যে তালিকা দিয়েছি তারা তা পর্যবেক্ষন করে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে তারা।

মন্ত্রী বলেন, তবে কখন থেকে ফিরিয়ে নেয়া হবে এ ব্যাপারে কোনো তারিখ চূড়ান্ত হয়নি আলোচনার অগ্রগতিতে আস্থা এসেছে মায়ানমারের নাগরিকদের তারা ফিরিয়ে নেবে।

আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ১১ লাখ মায়ানমার নাগরিকের তালিকা করা হয়েছে।বৈঠকে তাদের কাছে এক হাজার ৬৭৩টি রোহিঙ্গা পরিবারের আট হাজার ৩২ জনের তালিকা দিয়েছি।

এদের ফিরিয়ে নেওয়ার আগে তাদের পরিচয় যাচাই করার কথা মায়ানমারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন বলে জানান তিনি।

দুই দেশের সীমান্তের ‘শূন্য রেখায়’ অবস্থানরত ছয় হাজারের বেশি রোহিঙ্গা যাতে তাদের এলাকায় ফিরে যেতে পারেন সে বিষয়ে আলোচনার জন্য ২০ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক সেদেশে যাবেন বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সেখানে জেলা প্রশাসক পর্যায়ে মিটিং হবে।

প্রসঙ্গত, কয়েক দশক ধরে মায়ানমারে জাতিগত নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গাদের ওপর গত ২৫ অগাস্ট নতুন করে সেনাবাহিনীর দমন অভিযান শুরু হলে ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আসতে শুরু করে তারা। এই কয় মাসে সাত লাখের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। আগে বিভিন্ন সময়ে আসা আরও চার লাখের মতো রোহিঙ্গার ভার বহন করছে বাংলাদেশ।

এই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য গত ২৩ নভেম্বর মায়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্মতিপত্র সই হয়। এর ভিত্তিতে দুই দেশ যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করে এবং ১৬ জানুয়ারি ওই গ্রুপের প্রথম বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিভিন্ন বিষয় ঠিক করে ‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ স্বাক্ষরিত হয়।

উল্লেখ্য, জানুয়ারির শেষ দিকেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে যায়।