এবার চীনের ‘নববর্ষ শিক্ষা নিষেধাজ্ঞায়’ আতঙ্কিত হুই মুসলিমরা

চীনের জাতিগত সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিমদের পর এবার হুই মুসলিমদের ওপরও একই ধরনের নিপীড়ন শুরু হয়েছে। মসজিদে ধর্মীয় শিক্ষায় নিয়োজিত ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের ওপর সাম্প্রতিক একটি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তারা কিভাবে তারা তাদের জীবন পরিচালনা করবে সে ব্যাপারে রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ অনভিপ্রেত।

তাদের বড় ভয়- চীনা সরকার উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় গনসু প্রদেশের তাদের গুয়াংগুই’তেও একই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে; যেটি পশ্চিমের বৃহত্তর জিনজিয়াং অঞ্চলের উইঘুর মুসলমানদের দমনের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে।

সমাজের মধ্যে ভালভাবে একীভূত হওয়া এবং সরকারের সঙ্গে কয়েক দশকের মসৃণ সম্পর্কে অভ্যস্ত অনেক হুই এখন বিচ্ছিন্নতা দেখছেন। কেননা চীনা কর্তৃপক্ষ সেখানে সশস্ত্র পুলিশ চেকপয়েন্ট, শিক্ষার পুনঃর্বিন্যাস কেন্দ্র এবং গণহারে ডিএনএ সংগ্রহের মাধ্যমে অনেকটা সামরিক আইনের ধাঁচে জিনজিয়াংকে পরিচালনা করেছেন।

গত জানুয়ারিতে গুয়াংগুই কাউন্টির স্থানীয় সরকারের শিক্ষা কর্মকর্তারা মুসলিম অধ্যুষিত রাজ্যটিতে ‘লুনার নববর্ষের’ বিরতির সময় শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষাকে নিষিদ্ধ করেন।গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া সপ্তাহব্যাপী এই পাবলিক ছুটি প্রায় কয়েক সপ্তাহ ধরে চলবে।

উইঘুর সম্প্রদায়ের ওপরও কর্তৃপক্ষ একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। যাইহোক, ছুটির পরেও এই নিষেধাজ্ঞাটি অব্যাহত থাকবে কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে, ধর্মের ওপর নজরদারি বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে গত ১ ফেব্রুয়ারি তারিখে জারি করা নতুন জাতীয় প্রবিধানের সঙ্গে এটিকে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেই মনে হচ্ছে।

হেনান প্রদেশের হুই ইমাম লি হ্যায়ং বলেন, ‘আমরা মনে করি এটি হাস্যকর এবং আশ্চর্যজনক।’ চীনের সাংবিধানিক আইনের বিরুদ্ধে নিন্দা জানানোর জন্য ব্যাপকভাবে প্রচারিত অনলাইন নিবন্ধে তিনি ব্যাপক প্রচার পেয়েছেন।

লি রয়টার্সকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতো মৌখিকভাবে। এটি বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষের নজর খুব একটা থাকত না এবং প্রায়ই এই নির্দেশ উপেক্ষা করা হতো। কিন্তু এই বছর আরো কঠোর নিয়ম আরোপ এটা দেখাচ্ছে যে কর্তৃপক্ষ এটি বাস্তবায়নের ব্যাপারে কতটা সিরিয়াস।’

লিনজিয়া সরকারের দপ্তর থেকে নতুন এই পলিসি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলেনি। কেবল বলা হয়েছে যে, চীনের সংবিধান অনুযায়ী ‘ধর্ম এবং শিক্ষা’কে পৃথকীকরণ করা প্রয়োজন। উল্লেখ্য, লিনজিয়া সরকাররের এই দপ্তর থেকে লিনজিয়া সিটি ও গুয়ানগুই’র কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চীনের রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের ধর্মীয় বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কিন্তু রাজ্য কাউন্সিলের তথ্য অফিস বলেছে যে, আইন অনুযায়ী শিশুসহ চীন তার নাগরিকদের ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করে থাকে।