গণতন্ত্রকে নির্বাসনে দিয়ে সরকার একদলীয় শাসন কায়েম করেছে: খসরু

গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়ে সরকার দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, আজকে দেশে যে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করেছে সরকার তার সমুচিত জবাব দিতে জনগণ অপেক্ষায় আছে।সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম ৭১’ আয়োজিত এক আলোচনায় তিনি এ অভিযোগ করেন।আমির খসরু বলেন, ক্ষমতাসীনদের একচেটিয়া লুটপাট-দুর্নীতির কারণে দেশে ঋণের বোঝা বাড়ছে। গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়ে সরকার দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছে।

 

খসরু বলেন, স্বাধীনতার পর এমন পরিস্থিতিতে দেশ আসবে এমনটা জনগণ চিন্তাও করেনি। ১৭ বছর আগে এই সরকার দুর্নীতির স্বীকৃতি পেয়েছিল। আজ তারা বিশ্বে স্বৈরাচার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। শিগগির তারা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ দুর্নীতিবাজ সরকার হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় যেভাবে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলছে একইভাবে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতি হচ্ছে। আর রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় যখন দুর্নীতি হচ্ছে তখন আর দুই-পাঁচ লাখ টাকার দুর্নীতি হয় না। এখন শুনবেন ১০০ কোটি, পাঁচশ কোটি, হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হচ্ছে। আর এই টাকা দেশে রাখার সুযোগ নেই। এই টাকা যাচ্ছে সুইস ব্যাংকে এবং তার প্রবৃদ্ধিও হচ্ছে। এর কোনো বিচার হবে না।

 

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তারা টাকা নিয়ে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, দেড় বছর পার হয়ে গেলেও কোনো প্রতিবেদন তারা দিচ্ছে না। তদন্ত রিপোর্ট তারা দিচ্ছে না। এর বিচার হবে না। কারণ এসব হচ্ছে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়। বিচার এখন হবে না, বিচার হবে সময়মতো। লুটপাটের টাকা নিয়ে যাওয়ায় যে শূন্যতা সৃষ্টি হচ্ছে তা পূরণ করতে ঋণ নিচ্ছে।

 

আগামী প্রজন্মের উপর চাপবে এই বোঝা।সরকার দেশকে অর্থনৈতিক সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে আমির খসরু বলেন, দেশকে বাঁচানোর জন্য, গণতন্ত্রকে মুক্তির জন্য, দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য দেশের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। গণতন্ত্রের পক্ষে লড়াই করতেই আজ খালেদা জিয়া জেলে। খালেদা জিয়াকে জেলে রাখার মানে হলো বাংলাদেশের মানুষকে নির্বাচনের বাইরে রাখা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণ প্রস্তুত হয়ে আছে জবাব দেওয়ার জন্য। আপনারা লিফলেটগুলো জনগণের কাছে পৌঁছে দেবেন। জনগণ সময়মতো জবাব দেবে।