মানব ইতিহাসের সবচাইতে ভয়ংকর চিত্র ২য় বিশ্বযুদ্ধে বিভীষিকাময় নাগাসাকি হামলার ৭৩ বছর - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

মানব ইতিহাসের সবচাইতে ভয়ংকর চিত্র ২য় বিশ্বযুদ্ধে বিভীষিকাময় নাগাসাকি হামলার ৭৩ বছর



সেলিম চৌধুরী হীরা, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

৯ আগষ্ট মানব ইতিহাসের সবচাইতে ভয়ঙ্কর নাগাসাকি পরমানবিক বোমা হামলার ৭৩ বছর আজ। নির্দেশটা আগে দিয়ে ছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারিট্রুম্যান,বাকী ছিল শুধু বাস্তবায়ন। ১৯৪৫ সালের ৬ আগষ্ট ২য় বিশ্বযুদ্ধের দাবানল খুব জোরেশোরে বেজে উঠল। জাপানের হিরোশিমা শহরে স্থাণীয় সময় সকাল ৮.১৫ মিনিট। মার্কিন বোমারু বিমান ‘‘ এলোনা গে’’ বয়ে নিয়ে এল গন বিধ্বংসী মরনাস্ত্র ‘‘লিটল বয়’’। ফেলা হলো জাপানের হিরোশিমা শহরের উপর। এরমাত্র ৩ দিন পর ৯ আগষ্ট মধ্যরাতে নাগাসাকির উপর নিক্ষেপ করা হয় ‘‘ ফ্যাটম্যান’’ নামক ২য় মরনাস্ত্র আনবিক বোমাটি। নাগাসিকা জাপানের আরেকটি ব্যস্ততম শহর। ৯ আগষ্ট ১৯৪৫ স্থানীয় সময় রাত ৩.৪৭ মিনিট। নগরীর সবাই তখন গভীর ঘুমে বিভোর। সে ঘুম থেকে অনেকেই চিরনিন্দ্রায় চলে গিয়েছিল। মাত্র ৩ দিনের মাথায় হিরোশিমার পূনরাবৃত্তি হলো নাগাসাকিতে। নিক্ষেপ করা হলো ধ্বংসত্মাক ফ্যাটম্যান নামক ২য় আনবিক বোমাটি। নিমিষেই ঘুমন্তনগরী পরিনত হলো মৃত্যুপুরীতে।

 

নাগাসাকি ছিল পারমানবিক বোমা হামলা ২য় লক্ষ্য। সাথে সাথে আনুমানিক ৪০ হাজার মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লো। পাশাপাশি ৪৭ হাজার ৯’শ আহত ও বোমার বিষক্রিয়ায় অসুস্থ্য হয়ে কিছুদিনের মধ্যে চির বিদায় নিল। ৫ বছর পর তা গিয়ে দাড়ালো প্রায় ১ লক্ষ ৩৫ হাজারে। তার মধ্যে ২ হাজার জন কোরিয়া শ্রমিক। নাগাসাকি দ্বীপটি ছিলো জাপানের রাজকীয় নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ন জাহান নিমার্ণ কারখানা। সে কারখানায় কাজ করত কোরিয়ান শ্রমিকরা। এই বোমা ছিল লিটল বয় নামক বোমা থেকেও বেশি ধ্বংসাত্মক। ফ্যাটম্যান পারমানবিক বোমাটি একটি উপত্যাকায় ক্যাথলিক গীর্জার উপরে ফেলা হলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ছিলো হিরোশিমার মতই।

 

হিরোশিমা ও নাগাসাকি শহর দুটিতে বোমার ধ্বংসলীলা পরবর্তীতে বোমার বিষ ক্রিয়ায় সৃষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় আরো প্রায় ২ লক্ষ ১৪ হাজার জন।

 

জাপানের আসাহি শিম্বুন- এর করা হিসাব অনুযায়ী বোমার প্রতিক্রিয়া হিরোশিমায় মৃত্যুর সংখ্যা ২ লক্ষ ৪৭ হাজার জন, নাগাসাকিতে ১ লক্ষ ৪৫ হাজার জন। দুই শহরেই মৃত্যু বরণকারীদের অধিকাংশই ছিলো বেসামরিক সাধারন লোকজন। এ হলো বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে সংগৃহিত নমূনা, কিন্তু বাস্তব চিত্র ছিল আরো অনেক বেশি ভয়াবহ।

 

সেই রক্তস্নাত শোকাহত স্মৃতি আজ বিশ্ববাসী স্মরন করে শোক আর বেদনার অভিব্যাক্তিতে। যুগে যুগে যুদ্ধবিরোধী প্রচারনা এবং আন্দোলনে হিরোশিমা ও নাগাসাকির সেই দিনের ভয়াল স্মৃতিকে তুলে ধরা হয় যুদ্ধকে ঘৃনা জানাতে।

 

পারমানবিক বোমা হামলা সাথে সাথেই যে শুধু মানুষ পুড়ে মারা গেছে তা কিন্তু নয় বোমার তেজস্ক্রিয়া, শরীরের নানাহ অংশ পুড়ে যাওয়া, মারাত্মক ভাবে আহত হওয়া, ক্যান্সার, অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ববরনসহ নানাহ রোগে আক্রান্ত হওয়ার বিভর্ষ মানুষের স্মৃতি। বোমার হামলার ভয়াবহতার জের মানবজাতিকে টানতে হয়েছে বছরের পর বছর।

 

প্রতিবছর ৬ ও ৯ আগষ্ট পালিত হয় মানব ইতিহাসের সবচাইতে ভয়াবহ ঘটনা পারমানবিক বোমা বিষ্ফোরন দিবস।

 

এক নজরে ফ্যাটম্যান বোমা ঃ উৎপাদনকারী দেশ-যুক্তরাষ্ট্র। ইউরেনিয়াম- ২৩৯, ওজন- প্রায় ৪ হাজার ৬৩০ কেজি। দৈর্ঘ্য- ১০.০৬ ফুট, পরিধি- ৫ ফুট, বহনকারী বিমানের নাম- বি-২৯ বক্সকার, পাইলটের নাম- মেজর চালর্স ডব্লু সুইনি, বোমা পতনে সময় লাগে- ৪৩ সেকেন্ড, মূল আঘাত- ক্যাথলিক গির্জা, বিষ্ফোরনের মাত্রা- ২১ কিলোটন টিএনটির সমতুল্য।


এ সম্পর্কিত আরো খবর