তুর্কি জনগণ তাদের স্বাধীনতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ত দিয়ে রক্ষা করবে: এরদোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান ২৫ আগস্ট মালাজগ্রিত(মানজিকার্ট) যুদ্ধের সহস্রাব্দ পূর্তি উপলক্ষে তুর্কি জনগণের নিজ দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় দৃঢ় মনোভাবের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। এই যুদ্ধটি ছিল প্রায় এক সহস্রাব্দ আগে তুর্কি সৈন্যবাহিনী কর্তৃক আনাতোলিয়া বিজয়ের এক ঐতিহাসিক যুদ্ধ।

 

মালাজগ্রিতের যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২৬ আগস্ট ১০৭১ সালে। এই দিন সেলজুক তুর্কিগণ সুলতান আলপারসালানের নেতৃত্বে বাজাইন্টাইন সৈন্যবাহিনীকে পরাজিত করার মাধ্যমে আনাতোলিয়াতে তুর্কি শাসনের দ্বার উন্মুক্ত করেন। আর ১৯২২ সালের ৩০ আগস্ট গ্রীক হানাদার বাহিনী তুরস্কের সেনাবাহিনীর হাতে চুড়ান্ত পরাজয় বরণ করে।

 

ভিডিও বার্তায় এরদোগান ১০৭১ সালে মালাজগ্রিত ও ১৯২২ সালে দুমলুপিনার বিজয়ের কথা স্মরণ করেন যে বিজয় দিবসগুলো ঈদুল আজহার পর পরই উদযাপন করা হবে।

প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান একটি লিখিত বার্তায় বলেন, ‘যারা তুরস্ককে ভেতর এবং বাহির থেকে আক্রমণ করতে চায় তাদেরকে বলতে চাই- আমাদের জনগণ তুরস্কের মাটি ১,০০০ বছরেরও অধিক কাল ধরে আঁকড়ে ধরে রয়েছে।’

তুরস্কের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হচ্ছে, ‘আমাদের দেশের জনগণ তাদের স্বাধীনতাকে, তাদের মাতৃভূমিকে এবং তাদের ভবিষ্যতকে রক্ষা করার জন্য দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ রয়েছে।’

 

এরদোগান বিজয় সপ্তাহকে সম্মান জানিয়ে ভিন্ন আরেকটি লিখিত বার্তা দেন। যাতে তিনি তুর্কি সৈন্যগণ কর্তৃক দুটি ঐতিহাসিক বিজয়ের প্রতি আলোকপাত করেন। এর একটি হচ্ছে মালাজগ্রিতের যুদ্ধক্ষেত্র এবং অন্যটি ১৯২২ সাল গ্রিক সৈন্য বাহিনী কর্তৃক তুরস্কের উপর একটি বড় আক্রমণে তুর্কি বাহিনি কর্তৃক তাদের ওপর বিজয় লাভ।

 

তিনি ওই বড় আক্রমণের যুদ্ধটিকে স্মরণ করে বলেন, এটি ছিল তুর্কি সৈন্যবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত একটি অন্যতম বড় যুদ্ধ এবং তিনি একে, ‘দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য এক যুগান্তকারী যুদ্ধ বলে অবহিত করেন।’

‘ইতিহাস জুড়ে আমরা দেখতে পাই আমাদের দেশপ্রেমিক জনগণ তাদের জাতিকে এবং তাদের ধর্মীয় মূল্যবোধকে তাদের রক্ত দিয়ে রক্ষা করেছিল।’

প্রসঙ্গত, ৩০ আগস্ট দুমালুপিনার যুদ্ধ জয়ের ৯৬তম স্মরণ উপলক্ষে দেশটিতে আলোচনা সভার আয়োজনের কথা রয়েছে।