হ্নীলার এক যুবক মিয়ানমারে ইয়াবা আনতে গিয়ে ২৫ বছর সাজা

রোহিঙ্গাদের খপ্পরে পড়ে ওপারে ইয়াবা আনতে গিয়ে টেকনাফের হ্নীলা স্থানীয় এক বেকার যুবক হাতে-নাতে আটক হয়ে সাজা নিয়ে মিয়ানমার কারাগারে রয়েছে বলে গুরতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এপার সীমান্তে চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে এঘটনায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

 

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, গত মাসের ৩১ জুলাই রাতে উপজেলার হ্নীলা অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা বস্তিতে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের কিয়ারীমং পাড়ার মৃত আবদুস সালামের পুত্র সাদেক উল্লাহ (৩২) ও মৃত নুর আলমের পুত্র ইলিয়াছ (২৭) মিলে ফুসলিয়ে প্রলোভনে ফেলে হ্নীলা চৌধুরীপাড়ার দিন-মজুর আব্দুস সালাম প্রকাশ গুইট্টার পুত্র শামসুল আলম প্রকাশ মেসিকে (১৯) নিয়ে ইয়াবার চালান আনতে ওপারে তথা মিয়ানমারে যায়। তারা ক্যাংব্রাং পয়েন্ট হয়ে আড়াই লাখ ইয়াবার চালান নিয়ে ফেরার পথে ভোররাতে স্পীডবোট নিয়ে টহল দেওয়ার সময় মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর নজরে পড়লে ধাওয়া করে।

 

সুচতুর ইয়াবা চালান বহনকারীরা ইয়াবার চালান নদীতে ভাসিয়ে দিয়ে বিজিপিকে লোভে ফেলার চেষ্টা করে। কিন্তু বিজিপি সদস্যরা স্পীডবোট চালিয়ে ইয়াবার চালান বহনকারী ৩জনকে ইয়াবাসহ হাতে-নাতে আটক করে। আটক দুই রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশী যুবককে ১৩ হাজার ইয়াবা ও সীমান্ত অতিক্রমের পৃথক মামলায় মিয়ানমার আদালতে হাজির করা হয়। আদালত বাংলাদেশী যুবক শামসুল আলম প্রকাশ মেসিকে অনুপ্রবেশের দায়ে ৫বছর এবং ইয়াবা বহনের দায়ে ২০ বছর সর্বমোট ২৫ বছরের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। এই খবর দিন-মজুর গুইট্টার বাড়িতে পৌঁছলে কান্নাকাটি শুর হয়।

 

এদিকে স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে রোহিঙ্গা সাদেকুল্লাহ ওপারে পথ-ঘাট পরিচিত হওয়ায় বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে জেলের ছদ্মবেশে ওপার হতে ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদকের চালান এনে মোচনী, লেদা, আলীখালী, রঙ্গিখালী লামার পাড়া, উলুচামরী কোনারপাড়া, গাজীপাড়া, নাটমোরা পাড়া ও রসুলাবাদ এলাকার চিহ্নিত ইয়াবা গডফাদারদের নিকট সরবরাহ দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

হ্নীলা ইউপির ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার জামাল উদ্দিন স্থানীয় যুবক হ্নীলা চৌধুরী পাড়ার দিন-মজুর আব্দুস সালাম প্রকাশ গুইট্টার পুত্র শামসুল আলম প্রকাশ মেসি ওপারে ইয়াবাসহ আটক এবং ২৫ বছর কারাদন্ডের সত্যতা ২৭ আগস্ট নিশ্চিত করেছেন। এব্যাপারে মিয়ানমারে সাজাপ্রাপ্ত যুবকের দিন-মজুর পিতা আব্দুস সালাম গুইট্টা জানান, ‘আমার ছেলে লেদা রোহিঙ্গা হতে বিয়ে করার কারণে তাদের সাথে পরিচয় হয়। রোহিঙ্গারাই আমার ছেলেকে লোভে ফেলে জীবনটাই নষ্ট করে দিয়েছে’।