আন্তর্জাতিক আদালত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের বিরুদ্ধে গেলে আমরা নীরব থাকবো না’ - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

আন্তর্জাতিক আদালত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের বিরুদ্ধে গেলে আমরা নীরব থাকবো না’



অনলাইন ডেস্ক, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতকে এই মর্মে হুমকি দিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত যাতে কোনো ভাবেই আফগানিস্তানে বর্তমানে এবং অতীতে কর্মরত যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত কোনো ব্যাপারে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু অথবা বিচার প্রক্রিয়া চালু না করে।

হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপদেষ্টা জন বোল্টন সোমবার সুইজারল্যান্ডের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং দেশটির অন্যান্য মিত্রদের জন্য ‘ব্যাখ্যাতীত’ ও ‘ভয়ঙ্কর’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ গঠন করার উদ্যোগ ‘সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য’।

বোল্টন বলেন, ‘তত্ত্বীয় ভাবে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত অপরাধীদের কে তাদের অপরাধের জন্য অভিযুক্ত করে এবং এর মাধ্যমে অপরাধের শিকার ব্যক্তিকে সুবিচার দেয় ও ভবিষ্যতে তাকে এধরনের নির্যাতন থেকে সুরক্ষা দেয়।’

‘তবে কার্যত, আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত মূলত অকার্যকর, অ-বিবেচনাযোগ্য এবং ভয়ঙ্কর।’

‘যদি আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত আমাদের বিরুদ্ধে, ইসরাইলের বিরুদ্ধে বা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোনো মিত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চায় তবে আমরা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবো না।’

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত যদি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে কার্যক্রম হাতে নেয় তবে যুক্তরাষ্ট্র আদালতটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত করার মাধ্যমে চপেটাঘাত দিতে প্রস্তুত আছে।

‘আমরা আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের বিচারক এবং এর আইনজীবীদের কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করবো। আমরা তাদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবো এবং তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রের ফৌজদারি আইনের আওতায় আনবো।’-বোল্টন এমনটি জানান।

তিনি আরো বলেন, ‘যেসকল কোম্পানি বা দেশসমূহ যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতকে সহযোগিতা করবে তাদের বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্র একই ব্যবস্থা নিবে।’

ওয়াশিংটনের ফেডারেলিস্ট সোসাইটিতে দেয়া এক বক্তব্যে বোল্টন এসব কথা বলেন।

ওয়াশিংটন সোসাইটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ক্ষমতাধর একটি আইনি প্রতিষ্ঠান।

বোল্টন স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের একজন প্রসিকিউটর আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী কর্তৃক বন্দীদের প্রতি নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত করার জন্য আহ্বান জানান।

বোল্টন আরো বলেন, আফগানিস্তান বা অন্যকোনো দেশের সরকার আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতকে এধরনের তদন্ত করার জন্য কোনো অনুরোধ জানায়নি।

তবে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত যেকোনো সময় কাগজে কলমে তদন্ত আরম্ভ করতে পারে।

বোল্টন এই বলে হুমকি দেন যে, ‘যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিকদের এবং মিত্রদের রক্ষা করার জন্য যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত রয়েছে।’

‘আমরা আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতকে কোনো সহযোগিতা করবো না। আমরা নিশ্চিত ভাবেই আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের এধরনের কার্যক্রমে যোগ দিবো না। আমরা আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতকে নিজে নিজে মৃত্যুবরণ করতে দিবো।’-বোল্টন একথা জানান।

আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত যেটি সুইজারল্যান্ডের হেগে অবস্থিত এবং এই আদালতের যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা এবং মানবতা বিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে বিচার চালানোর ক্ষমতা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন রোম স্টাটুটে স্বাক্ষর করেছিলেন এবং এই রোম স্ট্যাটুট অনুযায়ীই আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত প্রতিষ্ঠা করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ক্লিনটনের পথ অনুসরণ করেননি। বুশ পরবর্তী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতকে সহযোগিতা করার জন্য কিছু পদক্ষেপ হাতে নিয়েছিলেন।

সূত্রঃ ডেইলি সাবাহ।


এ সম্পর্কিত আরো খবর

পূর্বের সংবাদ