বিএসএফ সৈন্য নিহতের ঘটনায় দুই দেশের দুই কথা - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

বিএসএফ সৈন্য নিহতের ঘটনায় দুই দেশের দুই কথা



অনলাইন ডেস্ক, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

বাংলাদেশের সীমান্তে এক ভারতীয় সৈন্য নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে সীমান্তে চরম উত্তেজনা চলছে। এরই মধ্যে উত্তেজনাটি উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী পর্যায়ে আলোচিত হচ্ছে।

দুই দেশের কর্তৃপক্ষ আলাদা আলাদা বিবৃতি দিয়ে ঘটনার বর্ননা দিয়েছে। উভয় দেশের বিবৃতিতে ঘটনাটি দুই রকম বর্ননা পাওয়া গেছে।

বিজিবি তাদের দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ভারতীয় সেনারা প্রথমে গুলি চালিয়েছে। পরে আত্মরক্ষার্থে আমরা পাল্টা গুলি চালায়। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

অন্য দিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ দাবি করছে তাদের কোন সৈন্য গুলিই চালায় নি।

বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী ব্যাটালিয়নের অধীনে চারঘাট বিওপি সংলগ্ন এলাকায় পদ্মা পাড়ে আনুমানিক ৩৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারত থেকে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারী ৩ জন জেলেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে দেখা যায়।

বর্তমানে দেশে মা ইলিশ সংরক্ষণের মৌসুম চলছে। তাই একজন মৎস্য কর্মকর্তার সাথে তিন জনের একটি টিম নদীতে গিয়ে এক জেলেকে আটক করে। আটকের সময় তার সাথে থাকা অন্য দুজন পালিয়ে যায়।

বিজিবি আরো জানায়, ঘটনার পর বিএসএফের চারজন সদস্য বাংলাদেশের সীমানার ৬৫০ গজ ভেতরে এসে ওই জেলেকে ফিরিয়ে নিতে চায়। কিন্তু বিজিবি জানায়, নিয়মানুযায়ী পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাকে হস্তান্তর করা হবে।

বিজিবির বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বিজিবি টহল দল বিএসএফ সদস্যদেরকে আরও জানায় যে, আপনারাও অবৈধভাবে বাংলাদেশে এসেছেন, তাই আপনাদেরকেও নিয়ম অনুযায়ী পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফের নিকট হস্তান্তর করা হবে। তখন বিএসএফ সদস্যরা আতংকিত হয়ে জোরপূর্বক ধৃত জেলেকে নিয়ে ঘটনাস্থল হতে চলে যেতে চাইলে বিজিবি সদস্যরা তাদের বাধা প্রদান করে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এসময় বিএসএফের লোকেরা গুলিবর্ষণ করে, এবং তখন বিজিবিও আত্মরক্ষার্থে গুলি করে। এতে বিএসএফের একজন নিহত এবং আরেকজন আহত হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এই ঘটনা ‘অনাকাঙ্খিত’ হিসাবে বলে বর্ণনা করেছে। তিনি বলেন, এখন দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সর্বোচ্চ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি বৈঠকের যোগাযোগ চলছে। এতে দুই দেশের সম্পর্কে কোন ধরনের প্রভাব পড়বে না বলেও মনে করেন তিনি।

অন্যদিকে ভীন্ন রকমের ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন ভারতীয় সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী। বিএসএফের দক্ষিণবঙ্গ অঞ্চলের ডিআইজি এস এস গুলেরিয়া বলেন, বিজিবির দেওয়া এই তথ্য মানতে নারাজ বিএসএফ। ভারতীয় কোন সেনা গুলিই চালায়নি বলে দাবি করেছেন তিনি।

বিএসএফের এই কর্মকর্তা বলেন, সকাল সাড়ে দশটার দিকে আমাদের ৫ সদস্যকে নিয়ে পোস্ট কমান্ডার নির্ধারিত পতাকা বৈঠকে যান। বৈঠকের পরেও আটক জেলেকে ছেড়ে দিতে অসম্মত হয় এবং বিএসএফের সদস্যদের ঘিরে ফেলে বিজিবি সদস্যরা।

তিনি বলেন, ঘটনার পরে ক্রমেই পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নেওয়া স্পীডবোটে করে ফিরে আসছিল বিএসএফের টীম। এ সময় হঠাৎ বিজিবি গুলি চালানো শুরু করলে ভারতীয় ওই সেনা নিহত হয়।

ভারতের সরকারি কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, গোলাগুলিতে হেড কনস্টেবল বিজয়ভান সিংয়ের মাথায় গুলি লাগে, আর হাতে গুলি লাগে নৌকাচালকের।

মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই সিং মারা যান বলে তারা জানান।

এই ঘটনার পরে বিএসএফ বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সেখানে গিয়েছেন।

বিজিবি এবং বিএসএফ-এর মহাপরিচালকদের মধ্যে ফোনে কথাও হয়েছে বলে জানা গেছে।

এই প্রসঙ্গে বিএসএফর অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজি সলিল কুমার মিত্র বলেন, এটা অভূতপূর্ব ঘটনা। এর আগে কখনও পতাকা বৈঠকের সময়ে গুলি চালানোর ইতিহাস নেই।

পতাকা বৈঠক মানেই দুই বাহিনীর সম্মতি নিয়ে আলোচনা। সেখানে কেন বিজিবি গুলি চালালো, এটাই স্পষ্ট নয়। এরকম ঘটনা অনভিপ্রেত।

বিজিবি কর্মকর্তা ফেরদৌস মাহমুদ পরে জানান, সীমান্তে এখন কোন উত্তেজনা নেই, তবে বিজিবি সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে শুক্রবার এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বসে বিষয়টার সুরাহা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।


আন্তর্জাতিক এর অন্যান্য খবরসমূহ
জাতীয় এর অন্যান্য খবরসমূহ