ঢাকায় উৎফুল্ল নিউইয়র্কের ৫ ষ্টেট সিনেটর : স্পিকার সহ ফারুক খান এমপি’র সাথে সাক্ষাৎ - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

ঢাকায় উৎফুল্ল নিউইয়র্কের ৫ ষ্টেট সিনেটর : স্পিকার সহ ফারুক খান এমপি’র সাথে সাক্ষাৎ



শিব্বীর আহমেদ, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

সকল জল্পনা-কল্পার অবসান ঘটিয়ে এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সফর করছেন নিউইয়র্কের ৫জন ষ্টেট সিনেটর। আমিরাত এয়ারলাইন্সের দুটি ফ্লাইটে তারা পৃথক পৃথকভাবে গত ২০ অক্টোবর রোববার রাজধানী ঢাকায় পৌঁছান। তাদের একজন একটি ফ্লাইটে অপর ৪জন আরেকটি ফ্লাইটে ঢাকার পৌছার পর ঢাকার আতিথেয়তায় তারা উৎফুল্ল বলে জানা গেছে। গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের অতিথি হিসেবে ষ্টেট সিনেটরগণ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি এবং জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যন, সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) ফারুক খান এমপি’র সাথে সাক্ষাৎ ছাড়াও সিলেট চেম্বার অব কমার্স-এর মতবিনিময় সভায় যোগদান ছাড়াও সিলেটে চা বাগান, ঢাকায় বঙ্গবন্ধু মমোরিয়াল যাদুঘর ও সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার পরিদর্শন করেছেন বলে ঢাকা থেকে প্রাপ্ত খবর জানা গেছে। 


সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘গুড উইল ভিজিট’-এ নিউইয়র্কের বাংলাদেশী কমিউনিটি বিশেষ করে ব্রঙ্কসবাসী বাংলাদেশীদের কাছে ‘লুইস ভাই’ হিসেবে পরিচিত ষ্টেট সিনেটর লুইস সেপুলভেদার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সফরকারী অন্যান্য সিনেটরগণ হচ্ছেন- ষ্টেট সিনেটর জেমস স্কুফিস, ষ্টেট সিনেটর লিরয় কমরি, ষ্টেট সিনেটর জন ল্যু ও ষ্টেট সিনেটর কেভিন এ পার্কার। প্রতিনিধি দল আগামী ২৬ অক্টোবর শনিবার নিউইয়র্কে ফিরে আসবেন বলে জানা গেছে। প্রতিনিধি দলের সাথে আরো ৩জন স্টাফ রয়েছেন। 


বাংলাদেশ সফরের উদ্দেশ্য নিউইয়র্কের ৫ জন ষ্টেট সিনেটর আমিরাত এয়ার লাইন্সের ফ্লাইটে  গত ১৮ অক্টোবর শুক্রবার ঢাকার উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক ত্যাগ করেন। তারা বাংলাদেশে এক সপ্তাহের মতো অবস্থান করবেন। সিটেরদের মধ্যে লিরয় কমরি সকালের ফ্লাইটে আর বাকী ৪জন রাতের ফ্লাইটে নিউইয়র্ক ত্যাগ করেন। 


উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরী চলতি বছরের প্রথম দিকে নিউইয়র্ক সফরকালীন সময়ে ষ্টেট সিনেটর লুইস সেপুলভেদা তার সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তখন স্পীকার তাদেরকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। তারই প্রেক্ষিতে ষ্টেট সিনেটরগণ বাংলাদেশ সরকারের পরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের অতিথি হয়ে বাংলাদেশ সফরে যাচ্ছেন। 


এছাড়াও ব্যক্তিগত উদ্যোগে ষ্টেট সিনেটরদের বাংলাদেশ সফরকালীন সময়ে ঢাকা সফর করছেন ডেমোক্র্যাট দলীয় মূলধারার রাজনীতিক মোর্শেদ আলম, কুইন্স ডেমোক্র্যাট পার্টির ডিষ্ট্রক্ট এট লার্জ এটর্নী মঈন চৌধুরী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহ নেওয়াজ, বাংলাদেশ সোসাইটির সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুর রহীম হাওলাদার ও আইটি স্পেশালিষ্ট মির্জা গালিব। এছাড়াও ষ্টেট সিনেটরদের বাংলাদেশ সফর কভার করার জন্য বাংলা পত্রিকা ও টাইম টেলিভিশন-এর একটি প্রতিনিধি দলও নিজস্ব উদ্যোগে ঢাকা সফরে রয়েছেন।  


সংশ্লিস্টরা জানান, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সুসম্পর্ককে আরো জোরদার বিশেষ করবে। নিউইয়র্ক তথা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশীদের বন্ধু হিসেবে তারা প্রবাসীদের জন্মস্থান বাংলাদেশ দেখতে আগ্রহীও বটে। যার ফলে তারা এই সফরে যাচ্ছেন। আর এই সফরের মধ্য দিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন বিষয়ে সংশ্লিস্ট কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করবেন। তারা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রিত অতিথি থাকবেন। বাংলাদেশী কমিউনিটির সঙ্গে নিউইয়র্কের আইন প্রণেতাদের বন্ধন মজবুত করাই মূল উদ্দেশ্য হওয়ায় এই সফরের নাম রাখা হয়েছে ‘গুড উইল ভিজিট’। সপ্তাহব্যাপী এই সফরে উল্লেখ্যযোগ্য কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং সংসদের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ফারুক খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের আমন্ত্রণে নৈশভোজে। এছাড়াও তারা কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প, ঢাকায় বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল মিউজিয়াম এবং সিলেটে চা বাগান পরিদর্শন করবেন।  প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের বৈদেশিক আয়ের প্রধান উৎস তৈরী পোষাক খাতের দুটি ফ্যাক্টরিও পরিদর্শন করবেন বলে জানা গেছে।    


এদিকে ঢাকা যাওয়ার প্রাক্কালে গত ১৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ব্রঙ্কসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘গুড উইল ভিজিট’ টু বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতা ষ্টেট সিনেটর লুইস সেপুলভেদা তাদের বাংলাদেশ সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন। এসময় তিনি জানান, নিউইয়র্কে বাংলাদেশী কমিউনিটি একটি গ্রোয়িং কমিউনিটি। আমাদের সাথে বাংলাদেশী কমিউনিটির সুসম্পর্ক রয়েছে। আমরা আশা করছি এই সফরের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্ক তথা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের সৌহার্দ্য সম্প্রীতি আরো বৃদ্ধি পাবে।


পাশাপাশি বাংলাদেশের কৃষ্টি-কালচার সম্পর্কে আমরা আরো অবহিত হতে পারবো। এক প্রশ্নের উত্তরে লুইস সেপুলভেদা বলেন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার সুযোগ করে দেয়া, আবার নিউইয়র্কে বসবাসকারী বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা যেনো বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা জানতে পারে- তেমন ’এডুকেশন এক্সচেঞ্জ’ পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। আবার পর্যটন শিল্পের উন্নয়নেও ঢাকা-নিউইয়র্ক আরো ভূমিকা রাখতে পারে।


অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নিউইয়র্কের রাজনীতিতে উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় বাংলাদেশী কমিউনিটির সঙ্গে সম্পর্ক আরো গভীর করতে এই সফর ভূমিকা রাখবে।  



ঢাকা থেকে প্রাপ্ত খবরে প্রকাশ, জাতীয় সংসদ ভবনে সিনেটরদের সাথে বৈঠকে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি বলেছেন, বাংলাদেশের রয়েছে হাজার বছরের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখছেন।


নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশীরা সে দেশের শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রেখে চলেছেন। এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য বিভিন্ন স্কলারশিপ ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির অনুরোধ জানান। সংসদ ভবনে রোববার বাংলাদেশ সফররত যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য সিনেটর একটি প্রতিনিধি দল স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই অনুরোধ জানান। 


ষ্টট সিনেটর লুইস সেপুলভেদা’র নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন সিনেটর জন ল্যু, জেমস স্কুফিস, লিরয় কমরি ও কেভিন এ পার্কার। এসময় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে সিনেটরদের প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশ সফর করছেন। স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সাথে বৈঠকে সিনেটর লুইস সেপুলভেদা বলেন, বাংলাদেশীরা নিউইয়র্ক সিটিতে বড় অবদান রেখে চলেছেন। দীর্ঘদিন যাবত এই প্রতিনিধিদলের সদস্যরা নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশ সম্প্রদায়ের হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। এ কার্যক্রম আরও কার্যকর ও গঠনমূলক পদ্ধতিতে অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ সম্পর্কে জানতে তারা এ সফরে এসেছেন। এ সময় প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের সাথে শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিনিময় ও বাংলাদেশী কমিউনিটির জন্য তৈরি পোশাক ও খাদ্যপণ্য আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেন।


বৈঠকে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এসময় বাংলাদেশের উন্নয়নের বিবরণ দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশ নারীর ক্ষমতায়নে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সরকার নারীদের ক্ষমতায়নে যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ফলে দারিদ্রের হার ২১শতাংশে নেমে এসেছে।  তিনি বলেন, বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। তিনি বাংলাদেশে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ, মেট্রোরেল নির্মাণ, কর্ণফুলী ট্যানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, ১০০ ইকোনমিক জোন স্থাপন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ২১ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীতকরণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।


অপরদিকে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ৫ জন সিনেটর রোববার ফারুক খান এমপি’র সাথে সাক্ষাৎ করেন জাতীয় সংসদ কার্যালয়ে। অত্যন্ত জনপ্রিয় ও নিউইয়র্ক-এ বাংলাদেশীদের বন্ধু হিসাবে পরিচিত সিনেটর লুইস-এর নেতৃত্বে দলটির সাথে প্রবাসী বাঙালী, সহযোগী সংগঠন, রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা যায়। এসময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পররাষ্ট্র বিষয়ক স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্যও উপস্থিত ছিলেন।


এদিকে গুডউইল ভিজিটে বাংলাদেশ সফররত নিউইয়র্ক স্টেটের ৫জন সিনেটরের সাথে মত বিনিময় করেছেন সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর নেতৃবৃন্দ। গত ২২ অক্টোবর মঙ্গলবার সিলেটে এ উপলক্ষে একটি সভার আয়োজন করা হয়। সিনেটর লুইস সেপুলভেদা’র নেতৃত্বে সিনেটর জন ল্যু, জেমস স্কুফিস, লিরয় কমরি, কেভিন এ পার্কার সেখানে পৌছলে সিলেট চেম্বারের নেতৃবৃন্দ তাদেরকে আন্তরিক অভিননন্দ জানান। মতবিনিময়ে সিলেট চেম্বারের সদস্য, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। 


এছাড়াও নিউইয়র্ক থেকে ঢাকায় গমনকারী প্রবাসী বাংলাদেশীরাও এই সভায় যোগ দেন। এর আগে সিলেটের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন নিউইয়র্ক স্টেটের ৫জন সিনেটর। এসময় সিনেটর লুইস সেপুলভেদা ও অন্যান্য সিনেটররা বাংলাদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে অভাবনীয় বলে উল্লেখ করেন।