ইরাকে মার্কিন দূতাবাস অবরোধের হুমকি - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

ইরাকে মার্কিন দূতাবাস অবরোধের হুমকি



অনলাইন ডেস্ক, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসটিকে ঘিরে ইরান-পন্থী বিক্ষোভকারীরা একটি দীর্ঘমেয়াদী অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

তারা দূতাবাসের চারপাশে তাঁবু খাটিয়েছেন এবং বলছেন, ইরাক থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা অবরোধ উঠিয়ে নেবেন না। খবর বিবিসি বাংলার

মঙ্গলবার এসব বিক্ষোভকারী মিছিল করে বাগদাদের ‘গ্রিন জোন’ এ মার্কিন দূতাবাসের দিকে যায় এবং দূতাবাসের ভেতরে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে। তারা দূতাবাসের একটি অংশে ভাঙচুর করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়।

কয়েকদিন আগে একটি আধাসামরিক বাহিনীর কয়েকজন সদস্য মার্কিন বিমান হামলায় নিহত হওয়ার জের ধরে হাজার হাজার মানুষ বাগদাদের পথে নামেন।

আবু মাহদি আল-মুহান্দিসসহ কয়েকজন সিনিয়র মিলিশিয়া ও প্যারামিলিটারি নেতা শোভাযাত্রাকারীদের সাথে পায়ে হেঁটে গ্রিন জোনের দিকে যান।

ঐ এলাকায়ই ইরাকের অধিকাংশ সরকারি অফিস ও বিদেশি দূতাবাস অবস্থিত।

ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও তাদের ওই জোনে প্রবেশ করে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের বাইরে রাস্তায় সমবেত হওয়ার সুযোগ দেয়।

ইরান-সমর্থিত কাতাইব হেজবোল্লাহর ওপর মার্কিন হামলা চলে গত রোববার। এতে অন্তত ২৫ ব্যক্তি নিহত হন।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, মার্কিন লক্ষ্যবস্তুর ওপর রকেট হামলার পাল্টা জবাব দিতেই তারা ঐ বিমান হামলা চালিয়েছেন।

এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামিনি শিয়া আধাসামরিক বাহিনী কাতাইব হেজবোল্লাহর ওপর মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন দূতাবাসে হামলার পেছনে ইরান রয়েছে, একথা বলার পর মি. খামিনি তার নিন্দা করেন।

ট্রাম্প টুইটারে এক পোস্টে লেখেন, যে কোন প্রাণহানি ও দূতাবাসের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানকে “চরম মূল্য দিতে হবে।

তিনি বলেন, এটা কোন সতর্কবাণী না, এটা একটা হুমকি।

ওদিকে বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের কাছে বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা দূতাবাসের ওপর ঢিল ছোঁড়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস এবং স্টান গ্রেনেড ছুঁড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে।

মার্কিন সরকার ঘোষণা করেছে যে অবনতিশীল পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সেখানে অতিরিক্ত সংখ্যক সেনা মোতায়েন করা হবে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার জানিয়েছেন, আরও ৭৫০ জন মার্কিন সৈন্য সেখানে পাঠানো হচ্ছে।

এই মুহূর্তে ইরাকের বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫,০০০ সৈন্য মোতায়েন আছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর