এক বছরে ১০জিবি দেশী ব্যন্ডউইথের বিক্রি কমেছে

দেশে ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়লেও কমছে দেশী ব্যান্ডউইথ বিক্রির পরিমাণ। স্থলপথে আনা ইন্টারনেট সংযোগের প্রভাবে অবিক্রিত থেকে যাচ্ছে সমুদ্রপথে আনা সংযোগ। এক বছরের ব্যবধানে সাবমেরিন ক্যাবলের ব্যান্ডউইথ বিক্রি কমেছে ১০ গিগাবাইট। ভারত থেকে ব্যান্ডউইথ আমদানি করে এই জয়গাটি দখল করছে ছয়টি ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্টেরিয়াল ক্যাবললিংক (আইটিসি) প্রতিষ্ঠান।

এ বিষয়ে সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন জানান, আইটিসিগুলোর কারণে অসম প্রতিযোগিতায় পড়তে হচ্ছে সাবমেরিন ক্যাবলকে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসা। এ ধারা চললে আগামি দিনে কোম্পানিটিকে বড় সংকটে পড়তে হবে।

চলতি অর্থ বছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) ৫৪ শতাংশ মুনাফা হারিয়েছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসিসিএল)। এই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির আয় কমেছে ৩৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত অর্থ বছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটি মুনাফা কেরছিল ৭১ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এ বছর তা কমে হয়েছে ৩৩ কোটি নয় লাখ টাকা। শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস চার টাকা ৮০ পয়সা থেকে কমে দুই টাকা ২১ পয়সা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে একচেটিয়া ব্যবসা করে আসছিল সাবমেরিন ক্যাবল। কিন্তু দুই বছর আগে সে ব্যবসায় ভাগ বসাতে শুরু করে ছয়টি ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্টেরিয়াল ক্যাবললিংক (আইটিসি)।বিটিআরসির লাইসেন্সধারী এসব প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে নিম্নমানের ব্যান্ডউইথ এনে কম দামে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, দেশীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যান্ডউইথের মূল্য যেখানে প্রতি মেগাবাইট ৪ হাজার ৮০০ টাকা, সেখানে এসব প্রতিষ্ঠান দুই হাজার টাকায় বিক্রি করছে সমপরিমাণ ব্যান্ডউইথ। এ কারণে ব্যান্ডউইথ ব্যবহারকারীরা সাবমেরিন ক্যাবল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। ঝুঁকছে আইটিসিগুলোর দিকে। তাতে অবিক্রিত থেকে যাচ্ছে সাবমেরিন ক্যাবলের ব্যান্ডউইথের পরিমাণ।
গত বছরের জুনে সাবমেরিন ক্যাবলের ব্যান্ডউইথ বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪২ গিগাবাইট। চলতি বছরের মার্চে তা কমে ৩২ গিগাবাইটে নেমে আসে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।