ঝালকাঠিতে কলেজ শিক্ষক বরখাস্ত

নেত্রকোনায় স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর এবার চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়েছেন ঝালকাঠি সরকারি কলেজের হিসাব বিজ্ঞা বিভাগের শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান। গত সোমবার শিক্ষা সচিব মো. সোহরাব হোসাইন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের আদেশ দেয়া হয়েছে।

 

এর আগে গত ৮ জুলাই নেত্রকোনা জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যনালের বিচারক রোকনুজ্জামানের আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মো. মনিরুজ্জামান ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার জগইরহাট গ্রামের বাবুল হাওলাদারের ছেলে। বিসিএস ৩৩ ব্যাচের ওই শিক্ষক ঝালকাঠি সরকারি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

 

মামলার এজাহার ও বাদীর আইনজীবী হুমায়ুন কবীর জনির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৮ অক্টোবর কলেজ শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার কান্দুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আজিজের মেয়ে লাবণী আক্তারকে (২৩) বিয়ে করেন। মুঠোফোনে পরিচয়ের পর তাদের এই বিয়ে হয়। লাবণী বর্তমানে আনন্দ মোহন কলেজে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী।

 

বিয়ের প্রায় দুই বছর পর স্ত্রী লাবণীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন মনিরুজ্জামান। টাকা দিতে না পারায় ওই শিক্ষক স্ত্রীকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে তালাক দেয়ার হুমকি দেন। এ ঘটনায় গত বছরের ৪ জুন লাবণী আক্তার বাদী হয়ে নেত্রকোনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যনালে মনিরুজ্জামানকে আসামি করে যৌতুক মামলা করেন। ওই মামলায় মনিরুজ্জামান হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের জন্য জামিন নিয়ে আসেন। গত ৩ জুলাই জামিনের মেয়াদ শেষ হয়।

 

পরদিন ৪ জুলাই ওয়ারেন্ট ইস্যু হলে ৮ জুলাই দুপুরের দিকে তিনি আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন। আদালতের বিচারক তা নামঞ্জুর করে মনিরুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর গত সোমবার ২৩ জুলাই রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা সচিব মো. সোহরাব হোসাইন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের আদেশ দেয়া হয়।

 

জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ দ্রুত কার্যকর করার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের একান্ত সচিব, ঝালকাঠি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষসহ বিভিন্ন দফতরে অনুলিপি দেয়া হয়েছে।’ সরকারী কলেজের উপাধ্যক্ষ মোঃ আফতাব হোসেন জানান, আমাদের কাছে শিক্ষক মরিুজ্জামানের সাময়িক বরখাস্তের একটি আদেশ এসে পৌছেছে। আমরা বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া করছি।