রাজাপুরে ১০ টাকার চাল কালো বাজারে বিক্রি অভিযোগ - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

রাজাপুরে ১০ টাকার চাল কালো বাজারে বিক্রি অভিযোগ



রহিম রেজা, ঝালকাঠি থেকে, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি দরের চাল কালো বাজারে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয় উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে ডিলারের গোডাউনে চাল বহনকারি গাড়ী চালককে ভাড়ার বদলে ৬ বস্তা চাল দেয়া হয়েছে। উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের কেওতা ও মোল্লারহাট এলাকার ডিলার (পরিবেশক) মো. ইদ্রিস হাওলাদারের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায়, ১০ টাকা কেজি দরে জনপ্রতি সর্বোচ্চ ৩০ কেজি করে চাল বিক্রি শুরু হয়। যারা এই চাল পাবেন, তাদের তালিকা করে ইতোমধ্যে তাদের কার্ড দেওয়া হয়। কার্ড বিতরণের সময়ও নানা দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।

 

এবার চাল বিতরণ কর্মসূচি শুরু পর থেকে কেওতা ও মোল্লারহাট এলাকার ডিলার ইদ্রিস হাওলাদারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়। তিনি কার্ডধারীদের চাল না দিয়ে তা বাইরে বেশি মূল্যে বিক্রি করেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগিরা। ৩০ কেজি করে জনপ্রতি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও কালো বাজারে দ্বিগুন মূল্যে কার্ড ছাড়াই বিক্রি করছেন তিনি। ৩০ কেজির বস্তা কারো কাছে ৬০০, কারো কাছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকাও বিক্রি করা হচ্ছে।উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া গ্রামের আবু তালেব বলেন, আমি চাল কেনার জন্য কার্ড পেয়েছি। শনিবার সকালে ডিলারের কাছে চাল আনতে গেলে তিনি আমাকে পরে আসতে বলেন। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনার জন্য এখনো চাল বরাদ্দ হয়নি।

 

বিষয়টি আমি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছি। একই দিনমজুর আবদুল কাদের সরদার বলেন, ‘আমার ঘরে চাল না থাকায় বাজারে চাল কিনতে যাই। এই সময় এক ব্যক্তি আমাকে ইদ্রিস হাওলাদারের গুদামে কমমূল্যে চাল পাওয়া যাবে বলে জানায়। তখন ওই চালের মান ভালো হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারি চালের মান বর্তমান বাজারের চালের চেয়ে অনেক ভাল। পরে আমি এক হাজার ৬০০ টাকায় ৩০ কেজি করে দুই বস্তায় ৬০ কেজি চাল কিনেছি।’ ট্রাক চালক মো. আলম ফকির বলেন, ‘আমি গাড়ীতে করে রাজাপুর খাদ্য গুদাম থেকে উপজেলার মোল্লারহাটে ডিলার ইদ্রিসের গুদামে চাল পৌঁছে দিয়েছি।

 

তিনি আমাকে ভাড়ার টাকা না দিয়ে ৬ বস্তা চাল দিয়েছেন। ছয় বস্তায় ১৫০ কেজি চাল রয়েছে। মোল্লারহাট বাজারের সেলুন মালিক ভবতোষ শীল বলেন, ‘আমার বাড়ি পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার কাঁঠালিয়া গ্রামে। আমার কোন কার্ড নেই। তবে আমি দুই বস্তা চাল ডিলারের কাছ থেকে এক হাজার ৬৫০ পঞ্চাশ টাকায় কিনেছি।’নারিকেলবাড়িয়া গ্রামের ইয়াসিন হোসেন বলেন, আমি ডিলারের গুদাম থেকে আটশ টাকায় এক বস্তা চাল কিনেছি। অথচ আমার কোন কার্ড নেই।শুক্তাগড় এলাকার মাওলানা আবদুল হক বলেন, আমি ডিলার ইদ্রিসের কাছে টাকা পেতাম। সেই সুবাদে ৬০০ টাকার বিনিময়ে আমাকে এক বস্তা চাল দিয়েছেন।এছাড়া শুক্তাগড় ইউনিয়নের আবদুল হালিম, মো. কালাম মোল্লা, লিনু বেগম, আবু তালেবসহ বেশকিছু কার্ড বিহীন সাধারণ মানুষ খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির এই চাল কালো বাজারের মাধ্যমে ডিলার ইদ্রিস হাওলাদারের কাছ থেকে বেশি মূল্যে কিনেছে বলে প্রমান পাওয়া গেছে। অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত ডিলার ইদ্রিস হাওলাদার বলেন, ‘আমি কার্ড ছাড়া কাউকে চাল দেই না। ওরা কি বলছে তা আমি জানি না।’ আমি সঠিকভাবেই চাল বিতরণ করিতেছি। জানতে চাইলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. নাজমুল হোসাইন বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে ডিলারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’


এ সম্পর্কিত আরো খবর

ঝালকাঠি এর অন্যান্য খবরসমূহ
পূর্বের সংবাদ