ঝালকাঠিতে ভাসমান পেয়ারার হাটে ক্রেতা-পাইকার কম আসায় বিপাকে চাষী ও ব্যবসায়ীরা, ৫ কোটি টাকার ক্ষতির শঙ্কা - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :
করোনায় পর্যটক কম, পুরেদমে জমেনি ভাসমান বাজার

ঝালকাঠিতে ভাসমান পেয়ারার হাটে ক্রেতা-পাইকার কম আসায় বিপাকে চাষী ও ব্যবসায়ীরা, ৫ কোটি টাকার ক্ষতির শঙ্কা



মোঃ আঃ রহিম রেজা, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

থাইল্যান্ডের ফ্লটিং মার্কেট কিম্বা কেরালার ব্যাক ওয়াটার ডিপের মত ঝালকাঠির পেয়ারা, আমড়া, লেবু কিম্বা স্থানীয় ভাবে উৎপাদিত শাক-সব্জী ক্রয়-বিক্রয়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে সদর উপজেলার ভীমরুলীতে ভাসমান হাট। সারা বছরই এ হাট থাকে ক্রেতা-বিক্রেতায় সরগরম থাকতো। বিশেষ করে পেয়ারার মৌসুমে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা ভীড় জমান এ হাটের সৌন্দর্য উপভোগ করতে। কিন্তু এবছর করোনার প্রভাব পড়েছে দেশের বৃহত্তম ভাসমান এই হাটের উপর। পাওয়া যাচ্ছে না পাইকার উৎপাদিত পেয়ারা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষীরা। ফলে এ মৌসুমে প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষতির শঙ্কা করছে সংশ্লিষ্টরা। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনে প্রনোদনা দেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। সূত্র বলছে, ঝালকাঠি সদর উপজেলার কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নের ভীমরুলী নদীর উপর গড়ে ওঠা ভাসমান হাটে পেয়ারা, আমড়া, লেবু ছাড়াও বারো মাস নিজেদের উৎপাদিত কৃষি পন্য বেচা-কেনা করেন এই অঞ্চলের কমপক্ষে ২০ টি গ্রামেরও বেশি কৃষকরা। তবে পেয়ারার মৌশুমকে কেন্দ্র করে আষাঢ় থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত বাজারটি থাকে সরগরম। ক্রেতা-বিক্রেতা ছাড়াও দেশী-বিদেশী অসংখ্য পর্যটকে ঠাসা থাকে হাট এবং আশে-পাশের পেয়ারা বাগান। বন্ধু-বান্ধব,আত্বীয়-স্বজন কিম্বা পরিবার-পরিজন নিয়ে দলে-দলে আসে ভাসমান এ হাটের আপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে। অনেকে পিকনিক করতেও আসেন। বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি সদর, বানারিপাড়া ও পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি উপজেলার চারটি ইউনিয়ন জুড়ে রয়েছে প্রায় তিনশ বছরের পুরানো বিশাল সুমিষ্ট দেশী পেয়ারা বাগান। চাষীরা ছোট-ছোট নৌকায় করে বাগান থেকে পেয়ারা সংগ্রহ করে হাটে নিয়ে আসে, আর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকাররা তা কিনে ট্রলার কিম্বা ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন মোকামে নিয়ে যায়। এ বছর করোনার প্রভাবে পাইকার,পর্যটক কোনটাই তেমন আসছেনা। ফলে একদিকে যেমন বিপাকে পরেছে চাষীরা,অন্যদিবে পর্যটকদের বাগানে ঘুরিয়ে আনন্দ দেয়ার কাজে ব্যাবহৃত ইঞ্জিন চালিত নৌকাগুলো অলস পড়ে থাকায় বেকার হয়ে পড়েছে মাঝিরা পার্কটিও বন্ধ থাকায় হতাস এর উদ্যোক্তারা। প্রচলিত কৃষির পাশাপাশি পেয়ারা চাষের জন্য দেশে-বিদেশে আলাদা পরিচিতি পেয়েছে ঝালকাঠি। কয়েক দশকে পেয়ারা সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ঝালকাঠির উন্নয়নে পেয়ারার সম্ভাবনা নজর কেড়েছে সরকারেরও। জেলা ব্র্যান্ডিংয়ের তালিকায় জায়গা পেয়েছে বাংলার আপেল খ্যাত ফলটি। জেলায় পেয়ারার আবাদ বাড়ানো ও উৎপাদিত পেয়ারা দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য নেওয়া হচ্ছে নানামুখী পরিকল্পনা। ‘পেয়ারা আর শীতলপাটি, এ নিয়ে ঝালকাঠি’- শ্লেøাগানের মধ্যদিয়ে পেয়ারার উৎপাদন ও বিক্রি ১০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ লক্ষ্য পূরণে পেয়ারার জাত সংরক্ষণ, আধুনিক ও প্রযুক্তিগত চাষ ব্যবস্থার বিকাশে চাষিদের প্রশিক্ষণ, নতুন নতুন বাগান সৃজন, পেয়ারা সংরক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণসহ বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমনকি এখানকার পেয়ারা শুধু ফল হিসেবে বিক্রি না করে জ্যাম-জেলিসহ বিকল্প পণ্য তৈরির মাধ্যমে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে।


স্থানীয়রা জানান, ঝালকাঠির পেয়ারার জন্য প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা, নীতিমালা ও উদ্যোগ। এ বছর করোনার কারণে পাইকার আসছেন না। জলবায়ু পরিবর্তনে দেরিতে ফলন এবং অপেক্ষাকৃত কম হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা। আসছে না দেশি-বিদেশি পর্যটকও। তাই এ বছর দামও অনেক কম। প্রতিমণ পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে ১৫০-২৫০ টাকায়। দাম নিয়ে হতাশ পেয়ারা চাষিরা। সদর উপজেলার কীর্তিপাশা, গাভারামচন্দ্রপুর ও নবগ্রাম ইউনিয়নকে ঘিরে জেলার পেয়ারা চাষ বিকাশ লাভ করেছে। ঝালকাঠি কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, প্রতি মৌসুমে প্রায় ৭৫০ হেক্টর জমিতে পেয়ারা চাষ হয়। হেক্টরপ্রতি উৎপাদন প্রায় ১০ হাজার কেজি। সেই হিসাবে এক মৌসুমে ঝালকাঠিতে প্রায় ৭৫ লাখ কেজি পেয়ারা উৎপাদন হয়। জেলায় স্বরূপকাঠি, মুকুন্দপুরী ও চায়না জাতের পেয়ারা চাষ হয়। এ সময়ে জেলার আশপাশের প্রায় ৩০ গ্রামের পেয়ারা বাগানে চাষিদের ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায়।


পেয়ারা চাষের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কীর্তিপাশা ইউনিয়নের ভীমরুলী ভাসমান হাটের নাম। নৌকায় করে পাকা পেয়ারা নিয়ে ট্রলারে থাকা পাইকারদের সাথে দর কষাকষি করে পছন্দমতো মূল্য পেলেই বিক্রি করে দেন চাষিরা। ভীমরুলী হাটের পেয়ারা বিক্রেতা গৌতম মিস্ত্রি বলেন, ‘এ সময় ভীমরুলী খালে জমে ওঠে ভাসমান পেয়ারার বাজার। ৫০-৬০ বছর আগে থেকে প্রতি মৌসুমে এ হাট বসছে। হাটটি দেশে-বিদেশে পরিচিত হয়ে উঠেছে। বেড়েছে বেচাকেনা। ঝালকাঠির পেয়ারা পেয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। সবে নতুন পেয়ারা হাটে আসতে শুরু করেছে। বেচাকেনা চলবে আরও এক-দেড় মাস। শুরুর দিকে বেচাকেনা কম হলেও এক মৌসুমে প্রায় ২ কোটি টাকার পেয়ারা বেচাকেনা হয়।’ ভীমরুলী হাটের ২ কিলোমিটার দূরে ইকো রিসোর্ট ব্যবসা করছেন অনুপ হালদার। তিনি জানান, ভীমরুলী হাট ঘিরে আশেপাশে এলাকায় গড়ে উঠছে রিসোর্ট ও পর্যটনকেন্দ্র। এতে পর্যটকের ভিড়ে অনেক সময় হাটের কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়। পর্যটকবাহী ট্রলারের ভিড়ে পেয়ারা বোঝাই নৌকাগুলো ভিড়তে সমস্যায় পড়ে। পর্যটকরা পেয়ারা বাগানে ঢুকে যান। ফল পাড়েন। এতে বাগানের গাছ ও ফল নষ্ট হয়। তবে আমরা চাই না পেয়ারা বাগান ও হাটে পর্যটকদের আনাগোনা বন্ধ করতে। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। ভাসমান বাজারে ফ্রি ওয়াইফাই: ভাসমান হাটে শাক-সবজি ও ফলমূল বিক্রি হয়। স¤প্রতি ভাসমান এ বাজারে ফ্রি ওয়াইফাই জোন চালু হয়েছে।


ফলে চাষিরা তাদের উৎপাদিত ফসল নৌকায় করে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অনলাইনেও বিক্রি করতে পারবেন। এতে থাকবে পেয়ারা, আমড়া, পেঁপে, কলা, কাঠাল, আনারস, লেবু, কাকরোল, মরিচ, বেগুন, শসাসহ বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি ও ফল-মূল। জানা যায়, মহামারী করোনায় মহাসংকটে পড়েছে ঝালকাঠির এ ভাসমান হাট-বাজার। কৃষিপণ্যের পাইকার না থাকায় উৎপাদিত সবজি আর ফল-মূল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। তাই ভাসমান বাজারে ফ্রি ওয়াইফাই জোন চালু করা হয়েছে। ফলে কৃষকরা তাদের কৃষিপণ্য অনলাইনে বিক্রি করতে পারবেন সারাদেশে। স্থানীয়রা জানান, গতবছর এ ভাসমান হাট-বাজার পরিদর্শন করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। পরিদর্শন শেষে তিনি ফ্রি ওয়াইফাই জোন চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ফলে স¤প্রতি ঝালকাঠির ভীমরুলী বাজারে চালু হয়েছে ফ্রি ওয়াইফাই জোন। ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহারকারী সুজন হালদার শানু বলেন, ‘বিভিন্ন মানুষ এ ওয়াইফাই সম্পর্কে জেনে গেছে। বাসায় বসে থেকে মানুষ যদি পণ্য চায়, তা তিনি পেয়ে যাবেন।’ সবজি চাষি দেবব্রত হালদার বিটু বলেন, ‘এখানকার সবজি উৎপাদনে কোনরকম সার বা রাসায়নিক দ্রব্য না দিয়ে জৈব সার ব্যবহার করা হয়। এতে সবজিতে পোকার আক্রমণও কম হয়। স্বাস্থ্যসম্মত ও সুস্বাদু সবজি উৎপাদন করা যায়।’ কৃষকর পঙ্কজ বড়াল ও গৌতম মিস্ত্রি বলেন, ‘করোনার কারণে দুর্দশায় পড়ছি। পাইকাররা আসছেন না। তাই আমরা সমস্যায় পড়ছি। সরকার আমাদের দিকে নজর না দিলে আমরা শেষ হয়ে যাব।’ ভিমরুলী ভাসমান পেয়ারা বাজান কমিটি সাধারণ সমম্পাদক জয়ন্ত মন্ডল জানান, এবছর করোনার কারনে পেয়ারা চাষিরা কমপক্ষে ৫ কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পরবে। বতমানে দাম কম হওয়ায় কৃষকরা বাগান থেকে পেয়ারা তুলে বিক্রি করতে আনার খরচও হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতি কৃষকরা না খেয়ে মরতে বসবে এবং ধার দেনায় আটকে পড়বে। তিনি দাবি করেন, সরকারের উচিত ঋণসহ বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে তাদের সহযোগীতা করা। ভিমরুলী বাজান কমিটির সভাপতি সঞ্জিত দারি জানান, করোনার কারনে এবছর ভাসমান হাট বা স্থানীয় বাজার জমেনি। লোকজন সমাগম কম এবং পাইকার ও পর্যটক না আসায় তেমন কোন বেচাবিক্রি নেই। এমন পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সরকারি সহযোগীতা প্রয়োজন। তিনি দাবি করে, আমের মত পেয়ারাও সরকারি সহযোগীতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা গেলে কৃষকরা অন্তত খরচ তুলতে পারবে। কীর্তিপাশা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস শুক্কুর মোল­া বলেন, ‘প্রতিদিন দেশি-বিদেশি পর্যটক আসেন এখানে। তবে তাদের জন্য কোনো অবকাঠামো সুবিধা নেই। স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগে কয়েকটি পার্ক গড়ে উঠেছে। রয়েছে কিছু রিসোর্ট। তবে এগুলো পর্যাপ্ত সুবিধা দিতে পারছে না।’ ঝালকাঠি কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. ফজলুল হক বলেন, ‘কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জেলার পেয়ারা চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, মৌশুমে এ হাটে যে পেয়ারা ১৪ কোটি টাকা বিক্রি হয় পাইকারদের হাত ঘুরে তা বিক্রি হয় ৪২ কোটি টাকা। সরকারি ব্যবস্থাপনায় কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি খুচরা বাজারে বিক্রির সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে তারা অনেক লাভবান হত। ঝালকাঠিতে এ বছর ৮শ হেক্টরে পেয়ারা আবাদ হয়েছে যা থেকে ৯ হাজার ৬শ মে.ট পেয়ারা উৎপাদিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী বলেন, ‘পেয়ারা চাষিদের উন্নয়নে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া দরকার; তা নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। পেয়ারাকে জেলার ব্র্যান্ড হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের অনলাইনে পণ্য বিক্রির সুবিধার্থে ফ্রি ওয়াফাই জোন চালু করা হয়েছে। এলাকার জনগণকে আমরা সুবিধা দিতে পেরেছি। ফলে তারা তাদের পণ্যগুলো ন্যায্য দামে বিক্রি করতে পারবেন। কৃষকরা ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবহার করে তাদের কৃষিপণ্যের অনলাইন বাজার ধরতে পারবেন। কৃষকরা চাইলে তাদের জন্য সরকারি প্রনোদনার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এছাড়া কৃষকদের উৎপাদিত পেয়ারা বিক্রির জন্য অনলাইন মার্কেট সৃষ্টির উদ্যোগ নেযা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
ছবিসহ
ঝালকাঠির জুবায়ের বিশ্ব রেকর্ডে গিনিস বুকে নাম লেখানোয় সংবর্ধনা
রহিম রেজা, ঝালকাঠি
নেক থ্রো ক্যাচেস ক্যাটাগরিতে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে গিনিস বুক অব ওয়ার্ল্ডে নাম লেকানো ঝালকাঠির ২২ বছরের যুবক আশিকুর রহমান জুবায়েরকে সংবর্ধনা দিয়েছে সদর উপজেলা পরিষদ। রোববার সকাল সাড়ে ১১ টায় পরিষদের অডিটরিয়ামে এ সংবর্ধনা দেয়া হয়। ২০১৬ সালের ৫ নভেম্বর জার্মানির মার্কেল গুর্ক ‘নেক থ্রো অ্যান্ড ক্যাচেস’ ক্যাটাগরিতে মিনিটে ৬২ বার বল নিক্ষেপ ও ধরে বিশ্বরেকর্ড গড়েন। জুবায়ের মিনিটে ৬৫ বার নেক থ্রো অ্যান্ড ক্যাচেসে বল নিক্ষেপ ও ধরে আগের রেকর্ডটি ভেঙ্গে বিশ্ব সেরার স্বীকৃতি পান। গত ৩০ জুলাই গিনেস বুক অব ওর্য়াল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের দেয়া এ সংক্রান্ত স্বীকৃতি পত্রটি জুবায়ের হাতে পৌঁছেছে। এ স্বীকৃতি তাকে অনন্য উচ্চতায় পৌছে দিয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা রোজী আক্তারের সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খান আরিফুর রহমান । অন্যান্যের মধ্যে সাবেক কাউন্সিলর জালাল আহমেদ এবং আশিকুর রহমান জুবায়ের অনুষ্ঠানের বক্তব্য রাখেন। এসময উপজেলা পরিদষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. মঈন তালুকদার, ইসরাত জাহান সোনালীসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যানগন উপস্থিত ছিলেন।

ছবিসহ
করোনায় জম লেবুর কদর, দামও ভাল পাচ্ছেন কৃষকরা
ঝালকাঠিতে ভাসমান হাটে লেবুর রাজত্ব! ২২ গ্রামের লেবু যাচ্ছে সারাদেশে
রহিম রেজা, ঝালকাঠি
ভিটামিন-সিযুক্ত রসালো লেবুর ঘ্রাণে মাতোয়ারা ঝালকাঠির ২২ গ্রাম। চলতি মৌসুমে জমে উঠেছে ঝালকাঠির ভিমরুলীর ভাসমান লেবুর হাট। করোনা পরিস্থিতিতে মেনি কদর তেমনি দাম। প্রতিদিন এখানে লাখ লাখ লেবু কেনা-বেচা হচ্ছে। পাইকাররা নৌকা থেকে লেবু কিনে গাড়িতে করে বরিশাল আড়তে নিয়ে বিক্রি করছে। অনেকে মালবাহী ট্রলার বা ট্রাকের নিয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। জানা যায়, ঝালকাঠির বাউকাঠি, শতদশকাঠি, ভিমরুলী, কাফুরকাঠি, আটগড়, গাভারামচন্দ্রপুর, পোষন্ডা, ডুমুরিয়া, খেজুরা, কির্ত্তীপাশা, মিরাকাঠিসহ ২২টি গ্রাম এখন লেবুর ঘ্রাণে মাতোয়ারা। প্রতিদিন এসব গ্রামের কৃষকরা গাছ থেকে লেবু সংগ্রহ করে নৌকায় ভিমরুলী বাজারে নিয়ে আসে। অপেক্ষমান পাইকাররা নৌকায় বসেই লেবু কিনে রাখছে। লেবুচাষিরা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার ফলন কম হওয়ায় দাম বেশি। গত বছর ১ পোন (৮০টি) লেবু ছিল দেড়শ’ টাকা। এবার তা ২শ’-৪শ টাকা। গ্রামের কৃষকরা কাঁদি কেটে লেবু চাষ করছেন। একেকটি কাঁদি ১শ’ থেকে ১১০ হাত লম্বা এবং ৭-৮ হাত চওড়া হয়। প্রতিটি কাঁদিতে ২২টি গাছ লাগানো যায়। এরকম ১ বিঘার কাঁদিতে লেবু চাষ করতে খরচ হয় ৫০ হাজার টাকা। ফল ধরার পরে প্রতি বছর লেবু বিক্রি করে দেড় থেকে ২ লাখ টাকা পাওয়া যায়। সে হিসেবে লেবু বিক্রি করে প্রতি বছর কৃষকরা আয় করছে দেড় থেকে ২ কোটি টাকা। লেবুর পাইকার মিলন ব্যাপারী জানান, পটুয়াখালী থেকে মালবাহী ট্রলার এলে সেই ট্রলারে পটুয়াখালী মোকামে পাঠানো হয়। ওখানের কাচামাল বিক্রেতাদের আগেই চুক্তি করা থাকে। কেনা দামের ওপর লাভ রেখে বিক্রি করা হয়। লেবুচাষি মানিক মজুমদার জানান, ঝালকাঠির এ লেবুর কদর ও সরবরাহ হয় ঢাকা, বরিশাল, ফরিদপুর, মাদারীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। ফলন ধরার পর দু’ভাবে লেবু বিক্রি করে থাকি। প্রথমত স্থানীয় ভিমরুলী বাজারে পাইকারদের কাছে। এছাড়াও গাছে ফল আসার পর পাইকারদের কাছে বাগান বিক্রি করি এককালীন নগদ টাকায়। লেবুচাষি সুভাষ, অতুল হালদার জানান, তারা সহজ শর্তে ঋণ পেলে এবং কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেলে লেবু চাষ আরও স¤প্রসারণ করতে পারবে। সহজ শর্তে ঋণের সুফল তাদের ভাগ্যে জোটে না। তাই চড়া সুদে এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে। ঝালকাঠি কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. ফজলুল হক বলেন, ‘এ লেবু ছোট হলেও ভেতরে পর্যাপ্ত রস থাকে। ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ লেবুর প্রতি সবারই কম-বেশি আকর্ষণ আছে। লেবুচাষিদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সার্বিক পরামর্শ দেওয়া হয়।’

মোঃ আঃ রহিম রেজা
ঝালকাঠি।
০১৭১৮৫৫১৬৮১
১৯.০৮.২০


উপজেলা এর অন্যান্য খবরসমূহ
জেলা এর অন্যান্য খবরসমূহ
ঝালকাঠি এর অন্যান্য খবরসমূহ
পূর্বের সংবাদ