ঝিনাইদহ করোনা উপসর্গে ২ জনের মৃত্যু মসজিদের খাটিয়া না দেওয়ায় মাটিতে রেখে জানাযা, গ্রামের কেউ কবর খুড়তেও আসেনি - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

ঝিনাইদহ করোনা উপসর্গে ২ জনের মৃত্যু মসজিদের খাটিয়া না দেওয়ায় মাটিতে রেখে জানাযা, গ্রামের কেউ কবর খুড়তেও আসেনি



রুহুল আমিন সৌরভ, স্টাফ রিপোর্টার, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

ঝিনাইদহে করোনার উপসর্গ নিয়ে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দিবাগত সন্ধ্যা রাতে তাদের মৃত্যু হয়। এদের মধ্যে একজন ঝিনাইদহ সদর ও একজন কালীগঞ্জ উপজেলা বাসিন্দা। মৃত্যুর পর করোনা পরীক্ষার জন্য তাদের নমুনা সংগ্রহ করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া তাদের বাড়ি লক-ডাউন করে লাল পতাকা টানিয়ে দিয়েছে প্রশাসন।


এদিকে কালীগঞ্জে নিহত ব্যক্তির দাফনের কাজে গ্রামের কেউ সহযোগীতা করেনি। এমনকি গ্রামের কেউ কবর খুড়তেও এগিয়ে আসেনি। পরে কালীগঞ্জ থেকে যাওয়া বিশেষ টিমের সদস্যরা নিহতের পরিবারের দুই সদস্যের সহযোগীতায় কবর খোড়ে। এরপর গ্রামের মসজিদে খাটিয়া না দেওয়ায় মাটিতে রেখে জানাযার নামাজ পড়ানো হয়।


কালীগঞ্জে মৃত ব্যক্তির জামাই বোরহান উদ্দিন জানান, তার শ্বশুর গত ৪/৫ দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। এছাড়া তার সর্দি ও শ্বাসকষ্ট ও ছিল। গত শুক্রবার বিকেলে তিনি কালীগঞ্জ শহওে আমার বাড়িতে আসে। শনিবার রাতে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। এসময় কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর মারা যায়।

কালীগঞ্জে করোনা রোগীদের দাফন কাফনে তৈরি বিশেষ টিমের প্রধান উপজেলা মসজিদের খতিব মাওলানা রুহুল আমিন জানান, আমাদের আগেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের রোগীদের দাফনের কাজে পুলিশ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে সার্বক্ষনিক সহযোগীতার কথা থাকলেও তারাও তেমন সহযোগীতা করেনি। কালীগঞ্জে প্রথম এই ব্যক্তিকে দাফন করতে গিয়ে প্রতিটি ধাপে চরম বিপাকে পড়তে হয়েছে। আল্লাহ না করুক পরবর্তিতে এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যেন না পড়তে হয় তা দেখবেন স্থানীয় প্রশাসন এমনটি আশা এই ঈমামের।


এদিকে ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন ডা: সেলিনা বেগম জানান, গেল রাত ৯ টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার খাঞ্জাপুর গ্রামে এক বৃদ্ধ শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও ঠান্ডা কাশি নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। অন্যদিকে একই দিন সন্ধ্যায় প্রচন্ড জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক বৃদ্ধা মারা যায়।


সিভিল সার্জন আরো জানান, যেহেতু মৃতদের শরীরে করোনার কিছু লক্ষণ রয়েছে তাই নমুনা সংগ্রহ করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে পরীক্ষার জন্য। এছাড়া বিভিন্ন জেলা তেকে ঝিনাইদহে এসেছে ১০৯ জন, যাদের বিমেষ নজরদারীতে রাখা হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর

ঝিনাইদহ এর অন্যান্য খবরসমূহ