নাঙ্গলকোটের মৌকরায় ডাকাতিয়া নদীর ওপর ঝুঁকি নিয়ে পারাপার!

নাঙ্গলকোট উপজেলার মৌকরা ইউপির চারিতুপা গ্রামের ডাকাতিয়া নদীর অংশের ওপর কোনো সেতু নেই। এ অঞ্চলের প্রায় ৫ হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা কাঠের সাঁকো। যার বর্তমান অবস্থা খুবই নড়বড়ে। মাঝখানের কাঠগুলো ভাঙনের ফলে সাঁকো দিয়ে চলাচল করা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যে কোন সময় নদীর জোয়ারের পানিতে ভেসে যেতে পারে এ সাঁকো। এ ছাড়া সাঁকো পার হতে গিয়ে এই এলাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ডাকাতিয়া নদীর ওপর চারিতুপা অংশে ২৪০ ফুট লম্বা ও ৪ ফুট চওয়া একটি কাঠের সাঁকো। ১৯৮৮ সালের পূর্বে এখানকার মানুষ নদীর ওপর নৌকা দিয়ে চলাচল করতেন। নৌকাই ছিল তাদের একমাত্র ভরসা। পরে তারা বাশেঁর সাঁকো নির্মাণ করেন। গ্রামবাসীর নিজ অর্থায়নে ২০১৩ সালে এই কাঠের সাঁকোটি নির্মান করা হয়।

কালক্রমে রোদ-বৃষ্টিতে বিজে আস্তে আস্তে কাঠগুলো নষ্ট হয়ে যায়। ভাঙ্গতে শুরু করেছে সাঁকোর মাঝখানের কাঠগুলো। কোন মতে তালগাছের ডাসা দিয়ে চিপ বেধে সাঁকোটি ব্যবহার করছেন। যা একেবারে ব্যবহারের অনুপযোগি।

 

স্থানীয় আব্দুল ওহাব নতুন কুমিল্লাকে জানান, আবু তাহের, সাব্বির আহম্মেদ ও নুরুন নবী ভূঁইয়া সহ শতাধিক লোক জানান, তাদের দূর্ভোগের আর শেষ হয়না। স্কুল কলেজ পড়–য়া ছাত্র-ছাত্রী সহ প্রায় লোকজন প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনার কবলে পড়তে হয়। বর্ষায় এলে অনেক ছাত্র-ছাত্রী স্কুল বন্ধ করে দেয়। উর্ধতন কতৃপক্ষের নিকট বারবার ধরনা দিলেও কোন সুফল পায়নি। নির্বাচন আসলে দেখা মিলে জনপ্রতিনধিদের, এর আগে নয়। তারা সরকারের কাছে সেতুটি দ্রুত নির্মাণ করার জন্য দাবি জানান।

 

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী জাবেদ হোসেন নতুন কুমিল্লাকে বলেন, উধর্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট ফাইল পাঠানো হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে সেতুর নির্মাণ কাজ করার প্রক্রিয়া হয়ে আসবে।

 

নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী অফিসার দাউদ হোসেন চৌধূরী নতুন কুমিল্লাকে জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই, খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।