চলতি বছরে সীমান্তে ২৬ জন বাংলাদেশী নিহত

ডেস্ক নিউজ:-
সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিক হত্যা কোনোভোবেই বন্ধ হচ্ছে না। শনিবারও ঠাকুরগাঁও ও লালমনিরহাটে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে দুই বাংলাদেশী ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত হয়েছেন। চলতি বছরে কমপক্ষে ২৬ জন বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন। আইন ও শালিস কেন্দ্রের পরিচালক নূর খান জানান ভারত সীমান্তে হত্যা বন্ধে তার প্রতিশ্রুতি রাখছে না। বাংলাদেশের উচিত সীমান্তে হত্যা বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানো এবং প্রয়োজনে জাতিসংঘে যাওয়া।
শনিবার ভোররাত তিনটা ৫০ মিনিটে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার নাগরভিটা সীমান্তে আবারো ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ’র গুলিতে এক বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন। সীমান্তের ৩৭৬/৪এস পিলার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম আজিরুল (৩০)। তিনি বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দক্ষিণ দোয়ারী গ্রামের পোটলা মোহাম্মদের ছেলে। ঠাকুরগাঁও-৩০ বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, নাগরভিটা সীমান্তের ৩৭৬/৪এস পিলার এলাকায় রাত তিনটা ৫০ মিনিটে ভারতীয়-১৪ বিএসএফ’র তিনগাঁও ক্যাম্পের সদস্যরা গুলিবর্ষণ করে। এতে আজিরুলের মাথায় গুলি লাগলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। ঘটনার পরপরই নাগরবিটা ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা লাশ দেখতে পান। তারা তাৎক্ষণিকভাবে এর প্রতিবাদ জানায়। পরে শনিবার সকাল নয়টা থেকে সাড়ে নয়টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলেই বিএসএফর তিনগাঁও ক্যাম্প ও বিজিবির নাগরভিটা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর বিএসএফ ভারতের অভ্যন্তরে লাশ নিয়ে যান। ঠাকুরগাঁও-৩০ বিজিবির অধিনায়ক তৌহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, লাশ ফেরত আনার চেষ্টা চলছে। লালমনিরহাটের বুড়িরবাড়ী সীমান্তে শনিবার রাত সোয়া দশটার দিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে এক বাংলাদেশী গরু ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে বলে সীমান্ত এলাকার লোকজন জানিয়েছেন। নিহত বাবুল হোসেন ওই বাংলাদেশী ডাঙ্গাপাড়া গুচ্ছগ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে। সীমান্ত এলাকার লোকজন ও গরু ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, অপর এক সঙ্গীসহ বাবুল গরু আনতে বুড়িমারী স্থলবন্দর ও ভারতীয় চ্যাংড়াবান্ধা বিএসএফ ক্যাম্পের মধ্যস্থল ৮৪৩ নম্বর মেইন পিলারের কাছে গেলে বিএসএফ তাকে লক্ষ্য গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। অপরদিকে বাবুলের সঙ্গী দেশে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। ওই এলাকার লোকজন জানিয়েছেন, নিহতের লাশ ধরলা নদীর তীরে পড়ে আছে। লালমনিরহাট ৩১ বিজিবি‘র অধিনায়ক লে. কর্নেল খান মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন নদীতে লাশ পড়ে থাকার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। উল্লেখ্য, সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে বাংলাদেশী নিহতের ঘটনা কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না। বিএসএফ ও ভারতের সরকারের পক্ষ থেকে বার বার প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও সীমান্তে প্রায়ই ঝরছে নিরীহ বাংলাদেশীদের প্রাণ। এর একটি বিহিত চান সীমান্তের খেটে খাওয়া মানুষেরা। গত ১০ বছরে সীমান্তে এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশী নাগরিক। আর গত আট মাসে ২৬ জন বাংলাদেশী নাগরিক নিহত হয়েছেন। আইন ও শালিস কেন্দ্রের পরিচালক নূর খান জানান, ভারত বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও তারা সীমান্তে হত্যা বন্ধ করছে না। বিএসএফ রীতিমত তাড়া করে সীমান্তে বাংলাদেশের নাগরিকদের হত্যা করছে। তারা বাংলাদেশের সীমান্তে ঢুকেও হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উচিত সীমান্ত হত্যা বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা আরো জোরদার করা। প্রয়োজনে বিষয়টি জাতিসংঘে উত্থাপন করা যেতে পারে। নূর খান বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতে চার হাজার কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। ভারত দুই হাজার কিলোমিটারেরও বেশি এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে। কিন্তু তারা দুই দেশের সীমান্ত এলাকার মানুষের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ককে অস্বীকার করছে। তারা সীমান্ত অপরাধ দমনের নামে প্রায়ই নিরীহ বাংলাদেশীদের হত্যা করছে। সূত্র: ডিডব্লিউ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।