হলমার্ক কেলেঙ্কারির সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত,তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে।

৯ই সেপ্টেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম) অর্থমন্ত্রী  জানিয়েছেন, শুধু সোনালী ব্যাংক সংশ্লিষ্টরাই নয় হলমার্ক কেলেঙ্কারির সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে। মন্ত্রী বলেন, অনেকে দেশ ছেড়ে পালাবার চেষ্টা করছে। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা করা হবে। আজ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী সচিবালয়ে এসব কথা বলেন। হলমার্কের অর্থ কেলেঙ্কারির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, এক হাতে তালি বাজে না, সেখানে সকলের কিছু দোষ আছে। অতিকথন রয়েছে, সেটা আমিও করি। তবে জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে আমাদের সাবধান হওয়া উচিত। ব্যাংকিং সেক্টরে ধস দেশের জন্য খুব ক্ষতিকর, যার ইমেডিয়েট অ্যাকশন হয় বিদেশে। অর্থমন্ত্রী মুহিত বলেন, হলমার্কের মতো এত ভয়াবহ একটি ব্যাপার অনেকের দৃষ্টি এড়িয়ে যাওয়ায় আমার সন্দেহ, অনেক লোক ওই কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত। হলমার্ক কেলেঙ্কারিকে তিনি ‘ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের জালিয়াতি’ উলে¬খ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এর সঙ্গে হলমার্ক ও সোনালী ব্যাংকের সবাই কমবেশি জড়িত। জরুরি ভিত্তিতে এ বিষয়ে মামলা হওয়া উচিত। কারণ যারা এর সঙ্গে জড়িত, তারা দেশ ছেড়ে পালানোর ফন্দিফিকির করছে। পদত্যাগের বিষয়ে বিভিন্ন মহলের দাবির প্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, বিভিন্ন মহল থেকে আমার রেজিগনেশনের জন্য কথাবার্তা হচ্ছে, চিঠিপত্র আসছে, আমি সেগুলো দেখছি। এখনও কোন সিদ্ধান্ত নিইনি। অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আছেন আগুনের মধ্যে, আমার মতোই। কিন্তু আগুন দেখে তো পালিয়ে গেলে হবে না। আগুন নেভানো দরকার। পদত্যাগের বিষয়ে বিভিন্ন মহলের দাবির বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজারে তো এটাই দাবি, ফখরুল ইসলাম সাহেব আছেন, উনার বক্তব্য শুরু ও শেষ হয় এটা দিয়েই। তবে তিনি প্রায়ই অসত্য বক্তব্য দেন এমন মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি ওনাকে খুব বেশি চিনি না। একটু একটু পরিচয় আছে। কিন্তু আমি দেখি ওনার স্টাইলটা এরকম যে, অসত্যটা উনি খুব ভাল করে সামনে তুলে ধরেন। হলমার্ক প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, হলমার্ক বিষয়ে যথেষ্ট তদন্ত হয়েছে। সোনালী ব্যাংকে ফাংশনাল অডিট হয়েছে যা দেশে প্রথম, তাতে অনেক ভাল কাজ হয়েছে। মামলা করাটা খুব বেশি জরুরি এবং দ্রুত মামলা করে সে অনুযায়ী কিছু ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। এ ধরনের ঘটনার বিচার হওয়া জরুরি মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব তদন্ত করলে বের হয়। এখানে একটি ইমিডিয়েট অ্যাকশন অনেক সময় ভাল। অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় সব মহলে সমালোচনার মধ্যেও সরকার সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের মেয়াদ বাড়ালো কেন জানতে চাইলে মুহিত বলেন, আমার ব্যাপারে সবাই আক্রোশে রয়েছে। তবে একজন ফ্রড ধরা পড়লে আগে থেকে অবহিত হতে হবে। সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, এত কঠোর ব্যবস্থা আগে নেয়া হয়নি। সরকারের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগের পরিচালনা পর্ষদ রাখা হয়েছে কোরাম পূর্ণ করার জন্য, যাতে মামলাসহ যে কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া যায়। চীন থেকে ফিরে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হবে। ওদিকে পদ্মা সেতুর বিষয়ে এখনও ‘আশাবাদী’ মুহিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, আগামী ২১ তারিখ পর্যন্ত জাইকা ও এডিবি লাইফ লাইন দিয়েছে। আশা করছি ততদিনে পদ্মা সেতুর বিষয়ে একটি সুষ্ঠু সমাধান হবে। তখন বলবো। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা না হলে বিকল্প পথ খুঁজে রাখা হয়েছে উলে¬খ করে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে মতৈক্য হওয়া অসম্ভব কিছু নয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।