হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যানের পাসপোর্ট জব্দ করার নির্দেশনা চেয়ে হাই কোর্টে রিট

ঢাকা, সেপ্টেম্বর ১৭ (খবর তরঙ্গ ডটকম)- অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায়  ইউনুস আলী আকন্দ নামের একজন আইনজীবী সোনালী ব্যাংক থেকে নিয়ম ভেঙে তোলা ঋণের টাকা আদায় এবং হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যানের পাসপোর্ট জব্দ করার নির্দেশনা চেয়ে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেছেন ওই আইনজীবী সোমবার সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি দায়ের করেন।

এই রিটে বিবাদী করা হয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, একই ব্যাংকের রূপসী বাংলা হোটেল শাখার জেনারেল ম্যানেজার, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র‌্যাবের মহাপরিচালক, ঢাকার জেলা প্রশাসক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ন্ত্রিত সব বেসরকারি ব্যাংককে ।

ড. ইউনুস আলী আকন্দ জানান, মঙ্গলবার বিচারপতি সালমা মাসুদ নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে আবেদনটি শুনানির জন্য তোলা হবে, সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে জানায়, সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখা থেকে ছয়টি প্রতিষ্ঠান তিন হাজার ৬০৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা সরিয়ে নিয়েছে।

এই অনিয়মের অভিযোগে ইতোমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে সোনালী ব্যাংকের অন্তত ২০ জন কর্মকর্তাকে । ওএসডি করা হয়েছে দুই উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালককে। দুর্নীতি দমন কমিশন এ বিষয়টির তদন্ত করছে।

সে অনুযায়ী, হলমার্ক গ্রুপ থেকে ২ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা, টি এন্ড টি ব্রাদার্স থেকে ৬০৯ দশমিক ৬৯ কোটি টাকা, প্যারাগন গ্রুপ থেকে ১ শত ৪৬ দশমিক ৬ কোটি টাকা, নকশি নিট থেকে ৬৬ দশমিক ৩৬ কোটি টাকা, ডিএন স্পোর্টস থেকে ৩৩ দশমিক ২৫ কোটি টাকা, খানজাহান আলী কোম্পানির কাছ থেকে ৪ দশমিক ৯৬ কোটি টাকা আদায়ে আদালতের নির্দেশনা চেয়েছেন রিটকারী ইউনুস আলী।

এছাড়া তিনি এই অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনা নিয়ে ‘দোষারোপের খেলা’ তদন্তে একটি বিচারিক কমিশন গঠনে আদালতের নির্দেশনা চেয়েছেন। আরেকটি বিচারিক কমিশন গঠনের আদেশ চেয়েছেন সব সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের ‘অস্বাভাবিক ঋণ’ তদন্তের জন্য।

একইসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের ‘দায়ী’ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা গ্রহণে ব্যাংকিং বিভাগের সচিবকে নির্দেশ দিতে এবং হলমার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ এবং তার স্ত্রী, কোম্পানির চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলামের পাসপোর্ট জব্ধ করতেও আদালতের নির্দেশনা চেয়েছেন রিটকারী।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।