মুফতি আমিনী আর নেই

ঢাকা, ১২ ডিসেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)-বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের (একাংশ) চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনী আর নেই (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাহে রাজিউন)।মঙ্গলবার রাত সোয়া ১২টার দিকে তিনি রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আব্দুল লতিফ নেজামী মুফতি আমিনীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, রাতে এশার নামাজ শেষে নেতা-কর্মীদের নিয়ে তিনি বৈঠকে বসেন। হঠাৎ করে বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাকে রাত ১১টার দিকে রাজধানীর রানমন্ডি শঙ্করে ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই তিনি রাত সোয়া ১২টার দিকে মারা যান।

মৃত্যুকালে বর্ষীয়ান এই ইসলামী ব্যক্তিত্বের বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে, ৪ মেয়ে সন্তান ছাড়াও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

মুফতি আমিনীর মৃত্যুর খবরে তার রাজনৈতিক ১৮ দলীয় জোট এবং আলেম সমাজের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মুফতি আমিনী ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির আমীর ও সাবেক চারদলীয় এবং বর্তমান ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ছিলেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত দুই বছর ধরে তিনি লালবাগে গৃহবন্দি অবস্থায় ছিলেন।

মুফতি আমিনী লালবাগ জামেয়া কোরআনিয়া এবং বড় কাটারা আশরাফুল উলুম মাদ্রাসা ছাড়াও অসংখ্য দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। দেশ-বিদেশে তার হাজার হাজার ছাত্র-ভক্ত-মুরিদ রয়েছেন।

বর্তমান সরকারের সংশোধিত নতুন সংবিধানকে ‘ডাস্টবিনে’ ছুড়ে মারা হবে বলে বিরূপ মন্তব্য করলে মুফতি আমিনীকে আদালতের তলবের মুখোমুখি হতে হয়।

এরপর তার এক ছেলে হঠাৎ করে বেশ কয়েক দিন নিখোঁজ ছিলেন। এ নিয়ে সে সময়ে বেশ আলোচনার ঝড় ওঠে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিাকে উদ্দেশ্য করে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন- ‘আল্লাহ আমার ছেলেকে এই সরকার তুলে নিয়ে গেছে। তার সন্তানকেও তুমি নিখোঁজ করে দাও।’

এ নিয়ে সে সময়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। এছাড়া সরকারের নারী নীতি, শিক্ষানীতিসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্ছার কণ্ঠ ছিলেন মুফতি আমিনী।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট থেকে তিনি ২০০১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

সংবিধান নিয়ে বিরূপ মন্তব্য এবং নারী উন্নয়ন নীতির বিরোধিতায় কর্মসূচি দিলে তাকে এক পর্যায়ে লালবাগ মাদ্রাসা সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ের মধ্যেই সরকার গৃহবন্দি করে রাখে। দীর্ঘদিন তাকে প্রকাশ্য সমাবেশে দেখা যায়নি।

গত শতকের ৮০ দশকে খেলাফত আন্দোলনে যোগ দেয়ার মাধ্যমে আমিনীর রাজনৈতিক জীবনের শুরু। পরে তিনি খেলাফতে ইসলামী নামে আলাদা দল গঠন করেন এবং তার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

এরপর কয়েকটি ইসলামী দল মিলে ইসলামী ঐক্যজোট গঠিত হলে এর মহাসচিব হন আমিনী, এর চেয়ারম্যান ছিলেন শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক। আজিজুল হকের মৃত্যুর পর আমিনী হন জোটের চেয়ারম্যান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।