আবুল কালাম আযাদের মামলার রায় আজ - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

আবুল কালাম আযাদের মামলার রায় আজ



ঢাকা, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক আবুল কালাম আযাদের মামলার রায়ের জন্য  সোমবার দিন ধার্য করেছেন অন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।এ মামলার রায়ের জন্য আগামীকাল কার্য তালিকায় অর্ন্তভুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনাব্যুনালের রেজিস্ট্রার নাছির উদ্দিন মহমুদ।তিনি বলেন, ‘আইসিটি বিডি কেস নং ৫/২০১২- এর বিচারকাজ শেষে রায়ের তারিখ ঘোষণা করতে মামলাটি সিএভিতে রেখে দিয়েছিলেন। আজ ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট ১৯৭৩- এর ২০ (১) ধারা অনুসারে মামলার রায় দেয়ার জন্য মামলাটি অর্ন্তভুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন। সে অনুযায়ী আগামীকাল ২১ জানুয়ারি সোমবার দিন রায় দেয়া হবে।’রোববার রেজিস্ট্রার তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।

গত ২৬ ডিসেম্বর এ মামলায় উভয়পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়। মামলায় আইনি পয়েন্টে যুক্তি উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী। এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুর শুকুর খান তার যুক্তি উপস্থাপন শেষ করলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলার রায় যে কোনো দিন দেয়া হবে মর্মে সিএভিতে রেখে দেন।

চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু সাংবাদিকদের বলেন, ‘বহুল আকাঙ্ক্ষিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটকদের মধ্যে একজনের রায় আগামীকাল সোমবার হতে যাচ্ছে। যার জন্য জাতি অপেক্ষমান ছিল।’

প্রসিকিউটর সাহিদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আযাদের বিরুদ্ধে মোট ৮টি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল, সে বিষয়ে আমরা সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেছি এবং অপরাধ প্রমাণে সক্ষম হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য ও তথ্য-প্রমাণ পেশ করে আইনি যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে।’

যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে প্রসিকিউটর মাওলানা আযাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করেন।

গত বছরের ২২ মার্চ চিফ প্রসিকিউটরের মাধ্যমে মাওলানা আযাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারের আবেদন জানালে ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এরপর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন এবং এ অবস্থায় তার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

এরআগে মাওলানা আযাদের বিরুদ্ধে জব্দ তালিকার সাক্ষীসহ মোট ২২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। রাষ্ট্র নিযুক্ত (ডিফেন্স ল’ইয়ার) আইনজীবী তাদের জেরাও শেষ করেন।

গত বছরের ৪ নভেম্বর আযাদের বিরুদ্ধে ৮টি সুনির্দিষ্ট ঘটনায় অভিযোগ গঠন করা হয়। ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে ১০টি ঘটনায় ২২টি অভিযোগের ভিত্তিতে মোট ৪৪৮ পৃষ্ঠার অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

এরপর একই বছরের ৭ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল আবুল কালাম আযাদের অনুপস্থিতিতে বিচার শুরুর আদেশ দিয়ে তার পক্ষে আইনি লড়াই করতে সরকারের খরচে মো. আব্দুস শুকুর খানকে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেন।

২০১২ সালের ২৬ জুলাই তদন্তসংস্থা মাওলানা আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে তদন্তকাজ শেষ করে প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে দাখিল করে। এরপর ৩ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল।


পূর্বের সংবাদ