মাওলানা সাঈদীর রায় যে কোনো দিন

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায় যে কোনো দিন দেয়া হবে মর্মে সিএভিতে রেখেছেন ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল যে কোনো দিন রায় দেয়া হবে বলে জানান। স্কাইপি কেলেঙ্কারির জের ধরে মাওলানা সাঈদীর মামলায় দ্বিতীয়বারের মতো তার আইনজীবী ও প্রসিকিউশনের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হলে ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। পরে প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, দ্বিতীয়বার সাঈদীর মামলায় যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়েছে। সাঈদীর বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা ও ধর্ষণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ অভিযোগ প্রমাণ করতে প্রসিকিউশন সক্ষম হয়েছে।

তিনি বলেন, গত ২০১১ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। আজ সব কার্যক্রম শেষে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান আদেশের দিন ধার্য করেন।

হায়দার আলী বলেন, ‘আসামির বিরুদ্ধে আনীত ২০টি অভিযোগের মধ্যে ১৯টি প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের দাখিলকৃত দালিলিক প্রমাণ এবং সাক্ষীদের জবানবন্দির মাধ্যমে আশা করছি তার সর্বোচ্চ শাস্তি হবে।’

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে। প্রসিকিউশনের আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্য ও বানোয়াট।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সুবিচার চাই। মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে তিনবার অবিচার করা হয়েছে। চতুর্থবার আমরা ট্রাইব্যুনালের কাছে ন্যায়বিচার আশা করছি।’

সাঈদীর আরেক আইনজীবী মিজানুল ইসলাম বলেন, ‘দেলোওয়ার হোসেন শিকদার নামের এক রাজাকারের অভিযোগ সাঈদীর ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছে প্রসিকিউশন।

তিনি বলেন, ‘শিকদার এবং সাঈদী এক নয়। শিকদার ভিন্ন ব্যক্তি। প্রসিকিউশন তার অভিযোগ সাঈদীর নামে চালিয়ে দিচ্ছে।’

এর আগে গত ৬ ডিসেম্বর উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে সাঈদীর মামলার রায় যে কোনো দিন দেয়া হবে উল্লেখ করে মামলাটির রায় ঘোষণা অপেক্ষমান (সিএভি) রাখে ট্রাইব্যুনাল-১।

কিন্তু স্কাইপি কেলেঙ্কারি প্রকাশ হওয়ায় ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বিচারপতি নিজামুল হক ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করলে বিচারপতি এটিএম ফজলুল কবীরকে চেয়ারম্যান করে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। এ কারণে সাঈদীর মামলার যুক্তিতর্ক আবারো শুরু হয়।

এ মামলায় সাঈদীর বিরুদ্ধে ২০১১ সালের ৭ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। তার বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ (আইও) ২৭ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেয়। তাদের মধ্যে ২০ জন মামলায় আনীত অভিযোগ বিষয়ে এবং ৭ জন জব্দ তালিকার বিষয়ে সাক্ষ্য দেয়।

আসামিপক্ষ তাদের জেরা করে। এছাড়া প্রসিকিউশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলার আইও’র কাছে দেয়া ১৫ সাক্ষীর জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর থেকে সাঈদীরপক্ষের সাক্ষীদের সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। সাঈদীর পক্ষে সাফাই সাক্ষী হিসেবে ১৭ জন সাক্ষ্য দেয়। প্রসিকিউশন এ সাক্ষীদের জেরা করে।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় সাঈদীকে ২০১০ সালের ২৯ জুন গ্রেপ্তার করা হয়। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার আবেদনের প্রেক্ষিতে ওই বছরের ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এ মামলায় ২০১১ সালের ১১ জুলাই সাঈদীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। ১৪ জুলাই তার বিরুদ্ধে এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। ওই বছরের ৩ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পিরোজপুর জেলায় হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ এবং এ ধরনের অপরাধে সাহায্য করা ও জড়িত থাকার ঘটনায় ২০টি অভিযোগ আনা হয় সাঈদীর বিরুদ্ধে। কিন্তু আদালত ১৯টি অভিযোগ আমলে নিয়ে আদশ দেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।