কাল থেকে শুরু অমর একুশে বইমেলা ২০১৩, উদ্ভোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

কাল থেকে শুরু অমর একুশে বইমেলা ২০১৩, উদ্ভোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী



ঢাকা, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

শুক্রবার থেকে বাংলা একাডেমীতে শুরু হচ্ছে ৩০তম অমর একুশে বইমেলা-২০১৩। এবারের বইমেলা স্টল থাকবে ২৭৪টি। বৃহস্পতিবার সকালে বাংলা একাডেমীর আব্দুল কমিরম সাহিত্যে বিশারদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান, বাংলা একাডেমীর পরিচালক ও মেলার সদস্য সচিব শাহিদা খাতুন, ব্রাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামদুদুর রশিদ, চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর এবং আয়োজক প্রতিষ্ঠান স্টেপ মিডিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা তৌহিদ খান।

সংবাদ সম্মেলনে শামসুজ্জামান খান বলেন, “এবারের বইমেলা হবে শুধু প্রকাশকদের। আগে বইমেলা একটি মিনি বাণিজ্যে মেলায় পরিণত হয়েছিল। তবে এবার থেকে সে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। এ জন্য আমাদের অনেক বেগ পেতে হয়েছে। সেই ১৯৮৩ সাল থেকে বইমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটা আমাদের প্রাণের মেলা।”

জানা গেছে, মেলার এবারের গ্রন্থমেলায় ২৭৪টি প্রতিষ্ঠানকে ৪৬০টি ইউনিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৪৭টি প্রকাশক ও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ৪১৯ ইউনিট দেয়া হয়েছে। এছাড়াও ২৭টি সরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানরকে ৪১টি ইউনিট বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। ৪৫টি লিটল ম্যাগাজিনকে লিটল ম্যাগ কর্নারে স্থান দেয়া হয়েছে। বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত বই ৩০ ভাগ ও মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে ২৫ ভাগ কমিশনে বই কেনা যাবে।

এবারের অমর একুশে বইমেলাকে ভাষাশহিদ চত্বররে (সালাম, রফিক, জব্বার, বরকত ওশফিউরের নামে) বিন্যস্ত করা হয়েছে। এছাড়াও নজরুল মঞ্চের সামনে শিশুকর্নারে থাকবে শিশু-কিশোর বিষয়ক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। প্রতি বছরের মতো এবারো নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকবে নজরুল মঞ্চে। অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৩’র প্রচার কার্যক্রমের জন্য তথ্যকেন্দ্র থাকবে বর্ধমান ভবনের পশ্চিম বেদিতে। এছাড়া অবাধ তথ্য আদান-প্রদানের জন্য মিডিয়া সেন্টার ও ইন্টারনেট সুবিধা থাকবে।

২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল চারটায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে সেমিনার। বিশিষ্ট বাঙালিদের জন্মশত ও সার্ধশতবর্ষ এবং বাংলার বিস্মৃতপ্রায় ও সমকালীন মনীষীদের জীবন ও কর্ম নিয়েও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। থাকবে মাসব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এছাড়াও অমর একুশে বইমেলা ২০১৩ উপলক্ষে বাংলা একাডেমী শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন, সংগীত, সাধারণ জ্ঞান ও উপস্থিত বক্তৃতারও আয়োজন করেছে।
অমর একুশে গ্রন্থমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ২০১২ সালে প্রকাশিত গ্রন্থেও মধ্য থেকে গুণগতমান বিচারে সেরা গ্রন্থের জন্য প্রকাশককে ‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’এবং গ্রন্থমেলায় সর্বাধিকসংখ্যক মানসম্মত বই প্রকাশের জন্য শ্রেষ্ঠ তিনটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’দেয়া হবে।

শহীদদের স্মরণে প্রতিবছরই এই মেলা আয়োজন করে থাকে বাংলা একাডেমী।
জানা গেছে, প্রয়াত নন্দিত কথাসাহিত্যিক ও লেখক হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে এবারের বই মেলা উৎসর্গ করা হয়েছে ।

আগামী পহেলা ফেব্রুয়ারি বিকেল তিনটায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বইমেলার উদ্ভোধন করবেন। বাংলা একাডেমীর সভাপতি অ্যধাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ ও বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান।

গ্রন্থমেলার নিয়ে প্রতিদিন প্রকাশিত হবে বিশেষ বুলেটিন। এবারের মেলাতে গণমাধ্যমের জন্য স্টল, সরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত, দমকল বাহিনী, প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হেলথ স্টল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, সেবামূলকসহ গণমাধ্যমের স্টলও থাকছে। এ ছাড়াও বাংলা একাডেমীর সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে এমন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে স্টল বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে।

এবারের বইমেলার নীতিমালায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে গতবারের সমালোচিত ডোরেমন, বারবি, পোকেমন ও মিস্টার বিন-এর মতো পাইরেটেড বই। বাংলা একাডেমী আয়োজিত এ বইমেলাকে একাডেমী ১৯৮৪ সালে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’নামকরণ করে। এবার গ্রন্থমেলায় বিদেশী কোনো লেখকের বই বিক্রি করা হবে না বলে জানা গেছে।

অন্যান্য বছর একাডেমীর প্রাঙ্গণের বাইরে অনেক স্ট বসে। তবে এবার বাংলা একাডেমী মূল চত্বরের বাইরে কোনো স্টল বরাদ্দ বা অনুমতি দেয়া হয়নি। এবার গ্রন্থমেলা একাডেমীর ভেতরে সীমাবদ্ধ রাখায় প্রকৃত প্রকাশক এবং পুস্তক বিক্রেতারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কারণ গত বছর একাডেমীর মহাপরিচালক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন ২০১৩ সালের বইমেলা হবে শুধুই প্রকাশকদের।

মেলার প্রবেশে দুটি প্রবশ পথ থাকবে । একটি আনুবিক শক্তি কমিশনের সামনে এবং অপরটি দোয়েল চত্ত্বরের দিকে খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সামনে দিয়ে প্রবেশপথ তৈরি করা হবে। তবে দোয়েল চত্ত্বর থেকে টিএসসি পর্যন্ত সব ধরনের যানবহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। উভয় স্থান থেকে পায়ে হেঁটে মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে হবে।

মেলার সার্বিক বিষয়ে একাডেমীর উপ-পরিচালক (সমন্বয়ক জনসংযোগ) মুর্শিদুদ্দিন আহম্মদ বলেন, “ বইমেলা আমাদের প্রাণের মেলা। তাই বইমেলায় যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে সে জন্য নিরাপত্তা বেশ জোরদার করা হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে এবং এর আশেপাশের এলাকায় বিপুল পরিমাণে নিরাপত্তায় গোয়েন্দা, র্যাব ও পুলিশ সদস্য থাকবেন।”

এছাড়াও বিশেষ নিরাপত্তার জন্য মেলা প্রাঙ্গণসহ বিভিন্ন স্থানে ক্লোস সার্কিড ক্যামেরা বসানো হয়েছে বলে জানান তিনি।


পূর্বের সংবাদ