প্রধান আসামী এনামুলের ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর : সাগর-রুনি হত্যাকান্ড

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যায় পুলিশের প্রধান সন্দেহভাজন আসামি দারোয়ান এনামুলক ওরফে হুমায়ূন কবিরকে আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে ঢাকার আদালত।  রোববার শুনানি শেষে বিকাল ৩টায় মহানগর হাকিম শাহরিয়ার মাহমুদ আদনান এ আদেশ দেন।  এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এনামুলকে আদালতে নিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন- র‌্যাবের সিনিয়র এএসপি মো. জাফরুল্লাহ। এরপর বেলা ৩টার দিকে রিমান্ডের শুনানির সময় নির্ধারন করেন   মহানগর হাকিম আদালত। গতকাল শনিবার ভোর ৫টায় গোপন সংবাদে র‌্যাব-৯ এবং র‌্যাবের একটি গোয়েন্দা দল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রেল স্টেশন থেকে এনামুলকে আটক করে।

এ বিষয়ে র‌্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান পরে সকাল ১১টায় র‌্যাব সদরদপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে জানান, চাঞ্চল্যকর সাগর-রুনি হত্যা মামলাটি র‌্যাব শুরু থেকেই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে আসছে।

তিনি বলেন, এ পর্যন্ত সর্বমোট ১২৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মোট আটজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে এবং মোট ১৬ জনের ডিএনএ টেস্টের নমুনা পরীক্ষার জন্য বিদেশ পাঠানো হয়েছে।

র‌্যাব মহাপরিচালক আরও বলেন, তারা এই হত্যা মামলার মূল সন্দেহভাজন আসামি এনামুল ছদ্মবেশে ঢাকায় আত্মগোপন করে আছে বলে জানতে পারে। সে একটি সিকিউরিটি কোম্পানিতে চাকরি করছে জানতে পেরে গোয়েন্দা শাখার নজরে এনে তার গতিবিধির ওপর বিশেষ নজরদারি শুরু করা হয়।

তিনি বলেন, নজরদারির বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে বার বার জায়গা বদল করে। এরইমধ্যে র‌্যাবের নিকট সংবাদ আসে আসামি এনামুল শুক্রবার রাতে ঢাকা-সিলেটগামী সুরমা মেইল ট্রেনে উঠে শ্রীমঙ্গল যাচ্ছে।

‘ওই তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাবের গোয়েন্দা দল সুরমা মেইল ট্রেনে উঠে এনামুলের খোঁজ করতে থাকে। কিন্তু এনামুল কৌশল পরিবর্তন করে ব্রাণবাড়িয়ার রেল স্টেশনে নেমে পড়ে। পরবর্তীতে র‌্যাব ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রেল স্টেশনে নেমে এনামুলকে আটক করতে সক্ষম হয়’ যোগ করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার পাওয়ার পরপরই র‌্যাব নিহত দম্পতির বাড়ির সিকিউরিটি গার্ড এনামুল ওরফে হুমায়ুনকে খুঁজছিল। হত্যাকাণ্ডের পর গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকার থেকে তার ছবি সংগ্রহ করে।

এক পর্যায়ে গত বছরের ৯ অক্টোবর হুমায়ুন ওরফে এনামুলকে ধরিয়ে দিতে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দীন খান আলমগীর।

অবশ্য এর আগে হুমায়ুন ওরফে এনামুলকে হত্যাকাণ্ডের পরপরই আটক করেছিল পুলিশ। কিন্তু কয়েকদিন জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তখন পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, বাসার দারোয়ান এনামুলের কাছ থেকে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ভাড়া বাসার শয়নকক্ষে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারওয়ার ও তার স্ত্রী এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।