শাহবাগে ফ্যাসিবাদের প্রতিধ্বনিঃ অভিযোগ বিএনপি'র - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

শাহবাগে ফ্যাসিবাদের প্রতিধ্বনিঃ অভিযোগ বিএনপি’র



ঢাকা, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

শাহবাগে ‘৭৫-এর একদলীয় ফ্যাসিবাদের সুস্পষ্ট প্রতিধ্বনি পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। শাহবাগের আন্দোলনকে সামনে রেখে সরকার বিভিন্ন ধরনের কুটিল ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে বলেও দাবি দলটির। সোমবার বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও দপ্তর সম্পাদক রুহুল কবীর রিজভী আহমেদের স্বাক্ষরে সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতি শাহবাগের সড়ক অবরোধ কর্মসূচির ব্যাপারে দলীয় অবস্থানের কথা স্পষ্ট করে বিএনপি। বিবৃতিতে বিএনপি অভিযোগ করে, ‘শাহবাগ চত্বরের সমাবেশ স্থলে আওয়ামী লীগের বুদ্ধিজীবী ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা আমার দেশ, নয়াদিগন্ত, সংগ্রাম পত্রিকায় অগ্নিসংযোগ করেছে এবং পত্রিকাগুলো বন্ধ করে দেয়ার জন্য প্রতিদিন হুমকি দিচ্ছে।’ ‘পাশাপাশি মানুষের মত-প্রকাশের স্বাধীনতার স্বপক্ষে নির্ভীক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও গণতন্ত্রের স্বপক্ষে আপোষহীন উচ্চকণ্ঠ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবী ড. পিয়াস করিমকেও নানাভাবে হুমকি দেয়া হয়েছে’ অভিযোগ বিএনপির। বিএনপির দাবি, ‘এই সমস্ত ঘটনার মধ্য দিয়ে ’৭৫-এর একদলীয় ফ্যাসিবাদের সুস্পষ্ট প্রতিধ্বনি পাওয়া যাচ্ছে।’ গত মঙ্গলবার থেকে শাহবাগে শুরু হওয়া সরকার সমর্থকদের একটানা সাত দিনের আন্দোলনের ব্যাপারে দলটির পর্যবেক্ষণও জানানো হয় বিবৃতিতে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এরই মধ্যে নব্য বাকশালী আক্রমণ শুরু হয়ে গেছে শাহবাগ চত্বরে। আওয়ামী লীগ নেতাকে মঞ্চে উঠতে বাধা দেয়ায় লাকী আক্তারের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী। মঞ্চের ওপরেই তার মাথায় এবং পিঠে প্রচণ্ড আঘাত করেছে ছাত্রলীগের কর্মীরা।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যারা নিরীহ শ্রমিক বিশ্বজিতের হত্যাকারী, রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এসিড নিক্ষেপ করে শিক্ষক ছাত্রদের মুখ যারা বিকৃত করে দিয়েছে, যারা কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের কুপিয়ে আহত করে এবং কক্ষে আটকিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়েছে, যারা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষ্পাপ ছাত্রীদের নির্যাতন করে সেঞ্চুরির উৎসব করেছে- তাদেরকে সাথে নিয়ে কোনো আন্দোলনেই নৈতিকতা যোগ হতে পারে না।’ ‘শাহবাগ চত্বরে লাকীরা লাঞ্চিত এবং শারীরিকভাবে নির্যাতিত হচ্ছেন। এই সমস্ত ঘটনার মধ্য দিয়েই প্রমাণিত হয় যে, হুমকি-আক্রমণ এবং নানা অপকৌশলে তরুণদের আন্দোলনকে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী নিজেদের উদ্দেশ্য সাধনে ব্যবহার করছে’ দাবি করে বিএনপি অভিমত দেয় ‘প্রতিটি আন্দোলন সফল হয় উচ্চ নৈতিকতার মাত্রা যোগ হলে।’ বিবৃতিতে তরুণদের উদ্দেশে বিএনপি বলে, ‘প্রখ্যাত বাম নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ শিকদারসহ ৪০ হাজার প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মী ও মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করে যারা চরম ফ্যাসিবাদী একদলীয় শাসনের প্রতিষ্ঠা করেছিল, তাদের হাতের ক্রীড়নক হওয়া থেকে সাবধান থাকতে হবে তরুণদের।’ দলটি তরুণদের সতর্ক করার জন্য বলে, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত করার এক অশুভ অভিপ্রায় নিয়েই শাহবাগ চত্বরকে ব্যবহার করার চক্রান্তে মেতে উঠেছে সরকার।’ বিবৃতি বিএনপি শাহবাগের আন্দোলনে তত্ত্বাবধায়ক পুনর্বহালের দাবি যুক্ত করার যুক্তি তুলে ধরে বলে, ‘ক্ষমতাসীন দল ছাড়া সারাদেশে দল-মত-শ্রেণী-পেশার সকল মানুষ আজ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে সোচ্চার। একমাত্র নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে মানুষ তার নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার স্বাধীনতা লাভ করে।’ এতে বলা হয়, ‘দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অন্তর্নিহিত শক্তি ছিলো বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রেরণা।  তাই তরুণদের এই আন্দোলনে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে পুনঃস্থাপনে দাবির বিষয়টি থাকলে এটি আরো সার্থক হয়ে উঠতো।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পদ্মাসেতু কেলেঙ্কারি, শেয়ারবাজার ধ্বংস, সোনালী ব্যাংক-হলমার্ক ও ডেসটিনি কেলেঙ্কারির মাধ্যমে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করে যারা লক্ষ লক্ষ মানুষকে সর্বশান্ত করেছে, তাদেরকে আইনের ফাঁক দিয়ে রেহাই দেয়া হচ্ছে, কারণ এরা সবাই ক্ষমতাসীন দলের সাথে সম্পর্কযুক্ত। এই লুটেরেরাও মানবতাবিরোধী এবং এরাও অপরাধী। এদের বিচারের জন্য শাহবাগ চত্বরে তরুণদের বর্তমান আন্দোলনে একটি সোচ্চার দাবি হতে পারতো, তাহলেই কেবলমাত্র আন্দোলন সর্বব্যাপী রূপ লাভ করতো।’ এছাড়াও বিবৃতিতে বিএনপি বলে, ‘যারা দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছে, সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা করছে, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার ওপর বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানীর লাশ ঝুলিয়ে দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের নির্লিপ্ততাকে আন্দোলনের দাবিতে অন্তর্ভুক্ত করলে শাহবাগ চত্বরের আন্দোলন আরো গ্রহণযোগ্য হতো। কারণ এগুলোও মানবতাবিরোধী অপরাধ।’‘ক্ষমতাসীন দল ও মন্ত্রিসভায় থাকা স্বাধীনতাবিরোধীদের বিচারের দাবিও একই সঙ্গে উচ্চারিত হলে সারাদেশের মানুষের কাছে শাহবাগের আন্দোলনকারী তরুণদের দাবি আরো যথার্থ হয়ে উঠতো’ মনে করে বিএনপি। ‘সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী, কমিশনার চৌধুরী আলম, শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলামসহ অসংখ্য মানুষের গুম এবং গুপ্ত হত্যা যে সরকারি মদদেই ঘটে চলেছে তা কারো জানতে বাকি নেই। তরুণদের দাবিনামাতে বর্তমান সরকারের এই প্রাণঘাতি অপকর্মের বিষয় উল্লেখ থাকলে’ শাহবাগের আন্দোলন দল-মত নির্বিশেষে একটি অভিন্ন মাত্রা পেত বলে বিবৃতিতে দাবি করে বিএনপি।


পূর্বের সংবাদ