ট্রাইবুনাল সংশোধন বিল পাস হলো সংসদে

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনী বিল রোববার বিকেলে সংসদে পাস হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ব্যক্তির পাশাপাশি সংগঠনকেও বিচারের আওতায় আনার বিধান সংযুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষের পাশাপাশি রাষ্ট্রপক্ষেরও আপিলের সমান সুযোগ রেখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনী যাচাই বাছাই শেষে সংসদে রিপোর্ট পেশ করে এ সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। তবে যে কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আপিল করার সুযোগ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়াও স্থায়ী কমিটি আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে টানা ৬০ দিন সময় দেয়ার সুপারিশ করেছে। তবে শুক্রবার এক বিবৃতিতে চলমান যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে দোষীসাব্যস্ত হওয়া আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দেয়ার বিধান রেখে আনা আইন সংশোধনের প্রস্তাব না করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির বাংলাদেশ বিভাগের গবেষক আব্বাস ফয়েজ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড দিতে দেশে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টির সুযোগে সরকার কর্তৃক সংশোধিত আইন ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে।’

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত সন্দেহভাজনদের বিচারে ২০১০ সালে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) গঠন করা হয়।
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন সাজা দেয়ার পর তা প্রত্যাখান করে ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শাহবাগের সরকার সমর্থকদের  বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে গত সোমবার মন্ত্রিসভা আইনটি সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন করে।
বুধবার এটি সংসদে উত্থাপন করা হয়। সংসদ একদিনের মধ্যে প্রস্তাবিত সংশোধনী বিলটি যাচাই-বাছাই করার সময় বেঁধে দেয়।
বিলটিতে কিছু পরিবর্তন এনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি তাদের প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার সংসদে উত্থাপন করা হয়।

সংসদে উত্থাপিত ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ২০১৩’ বুধবার সন্ধ্যায় আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বিশেষ বৈঠকে সংশোধিত বিল সংসদে পাশ হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।