হরতালে অচল দেশ, নিহত ৩

জামায়াতের ডাকা হরতালে বিভিন্ন স্থানে পিকেটারদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে।মিছিল আর বিক্ষিপ্ত পিকেটিং মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে  দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল। পুলিশের গুলিতে কক্সবাজারে চার কর্মী নিহতের প্রতিবাদে এই হরতাল আহ্বান করা হয়। । কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন এক হরতাল সমর্থক। রাজধানীর বাড্ডায় পিকেটারদের ধাওয়া খেয়ে একটি গাড়ি উল্টে গিয়ে এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, গুলি ও টিয়ার শেল বর্ষণ এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠিপেটার ঘটনা ঘটেছে। এতে সারা দেশে জামায়াতের অন্তত ২০০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। গ্রেফতার হয়েছেন প্রায় ২০০। হরতাল চলাকালে দূরপাল্লার কোনো যানবাহন চলাচল করেনি। অভ্যন্তরীণ  রুটেও চলাচলকারী যানবাহনের সংখ্যা ছিল হাতেগোনা। রাজধানীর বেশির ভাগ এলাকা ছিল যানবাহনশূন্য। কোনো কোনো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রহরায় যানবাহন চালানোর চেষ্টা চললেও তাতে যাত্রীসংখ্যা ছিল খুবই কম। দোকানপাট খোলা রাখার ব্যাপারে ঘোষণা দেয়া হলেও বেশির ভাগ এলাকার দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমা বন্ধ ছিল। স্কুল-কলেজ খোলা রাখার ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেয়া হলেও বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গতকাল বন্ধ ছিল। যে দু-একটি খোলা ছিল তাতেও ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতি ছিল দু-একজন। হরতালে পুলিশ-র‌্যাব ছিল বেশ মারমুখো ও কঠোর অবস্থানে। পিকেটাররা যাতে রাস্তায় নামতে না পারে সে জন্য কড়া নির্দেশ ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর ওপর।

হরতালকালে রাজধানীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিল, নয়াপল্টন, পল্টন মোড়, বিজয়নগর, মালিবাগ, শান্তিনগর ও মগবাজার এলাকায় গতকাল কড়া হরতাল পালিত হয়েছে। এই এলাকায় কোনো দোকানপাট খোলেনি। বিকেল পর্যন্ত প্রায় কোনো যানবাহনও চলাচল করেনি। দু-একটি বাস চলাচল করলেও তা ছিল প্রায় যাত্রীশূন্য। বিশেষ করে বিআরটিসির কয়েকটি বাস যাত্রী ছাড়াই চলতে দেখা গেছে এসব এলাকায়। ভোর থেকেই এসব এলাকায় র‌্যাব পুলিশকে যুদ্ধংদেহি অবস্থায় সতর্ক প্রস্তুতি নিয়ে থাকতে দেখা গেছে। প্রতিটি সড়কের মোড়ে মোড়ে র‌্যাব-পুলিশ ছিল লক্ষণীয় প্রস্তুতি সহকারে। তবে এসব এলাকায় দু-একটি ছাড়া তেমন মিছিল পিকেটিং চোখে পড়েনি। সকাল ৮টার দিকে কমলাপুর বড় মসজিদের সামনে থেকে ইসলামী ছাত্রশিবির ঝটিকা মিছিল নিয়ে পিকেটিং শুরু করলে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। এ সময় কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে এলাকায় ভীতি ছড়িয়ে পড়ে।

বেলা ১১টার দিকে বিজয়নগর এলাকায় হরতালের সমর্থনে মিছিল বের হওয়ার পর একটি তুলার বস্তায় পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়। সাড়ে ১১টার দিকে নয়াপল্টনে হরতালের সমর্থনে একটি মিছিল বের হয়। এ সময় একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটলে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এ ছাড়া বেলা আড়াইটার দিকে বিজয়নগর মোড়ের কাছে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহজনক হিসেবে একজনকে আটক করে।

মতিঝিল, নয়াপল্টন, বিজয়নগর, কাকরাইল মোড়, শান্তিনগর, মালিবাগ, মগবাজার এলাকায় গতকাল বিকেল পর্যন্ত শপিংমল, প্লাজা, মার্কেট ও রাস্তার পাশের দোকানপাট বন্ধ ছিল। এসব এলাকার ফুটপাথে কিছু দোকানপাট পসরা সাজিয়ে বসলেও জনশূন্য সড়কে তাদের বিক্রি জমেনি। রাজধানীর ব্যস্ততম এই এলাকার সড়কগুলোতে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ছিল যান ও জনশূন্য। কিছু ওষুধের দোকান ও খাবার হোটেল রেস্টুরেন্ট খোলা থাকলেও তা ছিল প্রায় ক্রেতাশূন্য। হরতালের সমর্থনে জামায়াতে ইসলামী বা ছাত্রশিবিরের তেমন কোনো মিছিল পিকেটিং ছাড়াই কড়া হরতাল পালিত হয়েছে এসব এলাকায়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।