সারা দেশে ২১ সাংবাদিক আহত, গুলিবিদ্ধ ১২ জন

যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি ও জামায়াত নিষিদ্ধের দাবিতে শাহবাগে সরকার সমর্থকদের আন্দোলন থেকে ইসলাম অবমাননার বিরুদ্ধে ইসলামী দলগুলোর ডাকে মুসল্লিদের বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে দায়িত্ব পালনরত কমপক্ষে ২১ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় সংঘর্ষের সময় পুলিশের ছোড়া টিয়ারশেল ও রাবার বুলেটে আরটিএনএন- এর নিজস্ব প্রতিবেদক রোমান কবিরসহ ১২ জন আহত হয়েছেন। আর ঢাকা ও চট্টগ্রামে মুসল্লিদের হামলায় ৯জন সংবাদকর্মী আহত হয়েছেন।

গুলিবিদ্ধ সব সাংবাদিককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার বাদ জুমা মুসল্লিরা শাহবাগ অভিমুখে মিছিল বের করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ মুসল্লিদের ছত্রভঙ্গ করতে রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। টিয়ারশেলের আঘাতে রোমান কবির আহত হন।

এ সময় মুসল্লিদের লক্ষ্য করে পুলিশের ছোঁড়া গুলিতে আরও আহত হন গাজী টিভির প্রতিবেদক মাসুদুর রহমান, আরিফুর রহমান হীরা, একাত্তর টিভির আরিফুজ্জামান পিয়াস, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির ক্যামেরাম্যান নুরুল ইসলাম, আমার দেশ পত্রিকার চিফ ফটোগ্রাফার্স মীর আহমেদ মীরু, আল-আমিন, হাসান এবং বিটিভির ক্যামেরাম্যানসহ ১২ জন। তাৎক্ষণিকভাবে বাকিদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

এছাড়া বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় বিক্ষুব্ধ মুসল্লিরা তিন সাংবাদিকদের উপর হামলা চালিয়েছে। হামলার শিকার তিন সাংবাদিক হলেন- মাছরাঙা টিভির প্রতিবেদক আবদুল্লাহ তুহিন, এটিএন বাংলার ক্যামেরাম্যান ইমরান তুহিন ও এটিএন নিউজের ক্যামেরাম্যান মেজবাহ ফেরদৌস।

সংবাদ সংগ্রহের সময় আওয়ামী লীগ ও বামদের চ্যানেল আখ্যা দিয়ে এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের ক্যামেরাম্যানের ওপর হামলা চালায় মুসল্লিরা। এ সময় তাদের রক্ষা করতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েন মাছরাঙার প্রতিবেদক তুহিন।

এদিকে, শুক্রবার বাদ জুমা চট্টগ্রাম নগরীর আন্দরকিল্লা মোড়ে মুসল্লিদের বিক্ষোভের সময় হামলায় আহত হয়েছেন ছয়জন সংবাদকর্মী। এ হামলায় সাংবাদিকদের ক্যামেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মুসল্লিদের হামলার শিকার সাংবাদিকরা হলেন- যুগান্তরের আলোকচিত্রী রাজেশ চক্রবর্তী, ইনকিলাবের আলোকচিত্রী কুতুব উদ্দিন, মাছরাঙার ক্যামেরাম্যান রবিউল টিপু, এটিএন বাংলার ক্যামেরাম্যান ফরিদ উদ্দিন, এটিএন নিউজ- এর ক্যামেরাম্যান অমিত দাশ ও বণিকবার্তার প্রতিনিধি ওমর ফারুক।

এদের মধ্যে ইনকিলাবের কুতুব উদ্দিনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুমার নামাজের পরপরই আন্দরকিল্লা জামে মসজিদ থেকে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি মোড়ে আসার পর পরই হামলার ঘটনা ঘটে। পরে সাংবাদিকরা সেখান থেকে সরে যান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।