দুই ক্যাটাগরিতে ৭১ জন বিদেশি বন্ধুদের সম্মাননা

৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অনন্য অবদান রাখা বিদেশি বন্ধুদের সম্মাননা প্রদান করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ষষ্ঠ বারের মতো এ আয়োজন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সকাল ১০টায় শুরু হয়। রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে বিদেশি বন্ধুদের হাতে জাতীয় স্মৃতিসৌধের রেপ্লিকাসহ ক্রেস্ট ও সাইটেশন তুলে দিচ্ছেন। মঞ্চে তার সঙ্গে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা: দীপু মনি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন(অব.) তাজুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মা’ল আব্দুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, ডাকমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচটি ইমামসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দসহ বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত রয়েছেন।
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ভিডিও চিত্রে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের অংশ বিশেষ দেখানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ অনুষ্ঠান। পরে মুক্তিযুদ্ধে সম্মাননাপ্রাপ্তদের অবদান তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভুঁইয়া।

ষষ্ঠ পর্বের সম্মাননা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ২০৩ জন বিদেশি বন্ধুকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। ৭১ জন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা তাঁদের প্রতিনিধি সম্মাননা নিতে ঢাকায় এসেছেন।

এ পর্বে সম্মাননা পাচ্ছেন কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট ফিদেল কাস্ত্রো, যুক্তরাজ্যের প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী লর্ড হ্যারল্ড উইলসন, মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজৎ সিং অরোরাসহ বেশ ক’জন বিদেশি বন্ধু।

এবারের সম্মাননা পাওয়া বিদেশি বন্ধুদের মধ্যে কয়েকজন পাকিস্তানিও রয়েছেন। এবারের সম্মাননা তালিকায়
উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রয়াত বন্ধুর নাম থাকায় আসবেন তাঁদের প্রতিনিধিরা।

প্রয়াত বাবার পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করবেন পাকিস্তানি সাংবাদিক হামিদ মির। আইনজীবী আসমা জাহাঙ্গীরও আসবেন তাঁর বাবার পক্ষে সম্মাননা নিতে। এবার প্রতিষ্ঠান হিসেবে সম্মাননা পাচ্ছে ভারতের রেডক্রস সোসাইটি।

জানা গেছে, এবারও ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’ ও স ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ এ দুই ক্যাটাগরিতে সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা পাচ্ছেন কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট ফিদেল কাস্ত্রো ও প্রয়াত সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড হ্যারল্ড উইলসন।

ফিদেল কাস্ত্রোর পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করবেন কিউবার রাষ্ট্রদূত আবেলার্দো কুয়েতো সোসা। হ্যারল্ড উইলসনের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করবেন তাঁর ছেলে প্রফেসর রবিন উইলসন।

বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা গ্রহণ করবেন ভারতের হিরস্ময় কুমার ভট্টাচার্য, অধ্যাপক মৃন্ময় ভট্টাচার্য, রূপেন্দ্র চন্দ্র ভৌমিক, ধিরাজ চৌধুরী, অধ্যাপক অমিয় চৌধুরী, হিমাংশু মোহন চৌধুরী, রাখাল চন্দ্র রায় চৌধুরী, জেনারেল শঙ্কর রায় চৌধুরী, সন্দ্বীপ দাস, অধ্যাপক মিহির কান্তি দেব, পি সি সরকার জুনিয়র, পি সি জোশী, ধ্রবতী লাহিরী, মুনশী মোহাম্মদ ফজলে কাদের, উৎপল মিশ্র, রঘু রাই, জ্যোতি প্রসাদ সাইকিয়া, চন্দ্র শেখর সমল, অধ্যাপক প্রিয়দর্শন সেনশর্মা, মোহনলাল সাহা, সিম্যান চমন সিং, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মূখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর পক্ষে তমাল ভট্টাচার্য, প্রয়াত জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার পক্ষে লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মহিন্দার সিং, আবু সাইদ আইয়ুবের পক্ষে তাঁর ছেলে অধ্যাপক পুশান আইয়ুব, প্রয়াত অধ্যাপক পূর্ণেন্দু কুমার বসুর পক্ষে নাতি অনির্বাণ বসু, প্রয়াত কবিতা বোসের পক্ষে ছেলে সুমন্ত বোস, প্রয়াত প্রশান্ত চৌধুরীর পক্ষে ছেলে মানস চৌধুরী, প্রয়াত হরিসাধন দাশগুপ্তের পক্ষে ছেলে রাজা দাশগুপ্ত, শহীদ ক্যাপ্টেন এম এস ডুগ্গালের পক্ষে ভাই কর্নেল(অব.) এস এস ডুগ্গাল, শহীদ মেজর অনুপ সিং গাহলাউটের পক্ষে ভাই ব্রিগেডিয়ার
(অব.) অজয় গাহলাউট, প্রয়াত কৃপেশ রঞ্জন ঘোষের পক্ষে তাঁর স্ত্রী শিবানী ঘোষ, প্রয়াত ইপ্সিতা গুপ্তের পক্ষে তাঁর ভাগ্নে অভিরূপ বিশ্বাস, শহীদ রাইফেলম্যান পতি রাম গুর‍ুংয়ের পক্ষে স্ত্রী শ্রীমতী গৌমায়া গুরুং, প্রয়াত রানু মুখোপাধ্যায়ের পক্ষে বুলবুল রায়, প্রয়াত বিজয় সিং নাহারের পক্ষে ছেলে রতন সিং নাহার, প্রয়াত মেজর জেনারেল অ্যান্টনি হ্যারল্ড অ্যাডওয়ার্ড মিশিগানের পক্ষে মেয়ে নিহা দেওয়ান, জিতেন্দ্র চন্দ্র পালের পক্ষে সুস্মিতা ধর পাল, প্রয়াত ভাইস অ্যাডমিরাল স্বরাজ প্রকাশের পক্ষে স্ত্রী শকুন্তলা প্রকাশ, শহীদ সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট শমসের সিং শর্মার পক্ষে বাবা গুরদিপ সিং, অধ্যাপক অনিল কুমার সরকারের পক্ষে ছেলে নিলেন্দ্র সরকার, অর্জুন সেনগুপ্তের পক্ষে স্ত্রী জয়শ্রী সেনগুপ্ত এবং প্রয়াত লেফটেন্যান্ট জেনারেল সগত শিংয়ের পক্ষে ছেলে কর্নেল (অব.) রণবিজয় সিং।

নেপালের রাজনীতিবিদ ড. নারায়ণ খাদকা, ড. রাম শরণ মহৎ, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক ডি বি লামা, পাকিস্তানের মানবাধিকার কর্মী নাসিম আখতার, প্রয়াত ইকবাল আহমেদের পক্ষে হাজরা গাফফার আহমেদ, বেগম তাহিরা মজুমদার আলীর পক্ষে নাঈমা জাফর মালিক, প্রয়াত মীর গাউস বকশ বিজেন্দ্রর পক্ষে ছেলে সিনেটর মির হাসিল খান বিজেন্দ্র, প্রয়াত ফয়েজ আহমেদ ফয়েজের পক্ষে মেয়ে সালিমা হাশমি, প্রয়াত হাবিব জালিবের পক্ষে মেয়ে তাহিরা জালিব, প্রয়াত মালিক গোলাম জিলানির পক্ষে মেয়ে আইনজীবী আসমা জাহাঙ্গীর, প্রয়াত শামীম আশরাফ মালিকের পক্ষে ছেলে জাফর মালিক, ওয়ারিস মিরের পক্ষে তাঁর ছেলে সাংবাদিক হামিদ মির, প্রয়াত কাজী ফয়েজ মোহাম্মদের পক্ষে ছেলে জাভেদ কাজী, প্রয়াত আনোয়ার পীরজাদোর পক্ষে ছেলে জাফর আহমেদ পীরজাদা, আহমদ সালিমের পক্ষে হুমায়রা আশফাক বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা গ্রহণ করবেন।

এছাড়া ফ্রান্সের আব্বাস আত্তার, জাপানের তোমিয়ো মিজোকামি, হেইজি নাকামুরা, যুক্তরাষ্ট্রের ডেভিড নালিন, প্রয়াত কবি অ্যালেন গিন্সবার্গের পে রবার্ট মার্ক রোজেনথাই, প্রফেসর গুস্তাভ এফ পাপানেকের পক্ষে ছেলে ড. থমাস এইচ পাপানেক, প্রফেসর হানা পাপানেকের পক্ষে ছেলে ড. থমাস এইচ পাপানেক, অস্ট্রেলিয়ার প্রয়াত প্রফেসর হারবার্ট ফেইথের পক্ষে ছেলে ডেভিড হেইথ, সুইডেনের প্রয়াত এসভেন ল্যাম্পেলের পক্ষে নাতি ফিলিপ ল্যাম্বে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা গ্রহণ করবেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।