‘রানা ট্রাজেডি’তে এপর্যন্ত মৃতদেহ উদ্ধার ৩৩২,জীবিত উদ্ধার প্রায় ২৪০০, নিখোঁজ প্রায় ৬৩৮

সাভারে ‘রানা ট্রাজেডি’তে লাশ ও নিখোঁজদের  তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। মৃতদেহ উদ্ধার ৩৩২। জীবিত উদ্ধার প্রায় ২৪০০। নিখোঁজ প্রায় ৬৩৮। তিনটি অংক। আশঙ্কা হলো প্রথম অংক দুটি কেবলই বাড়ছে। আসলে বাড়ছে মৃতদেহের সংখ্যা। এর শেষ কোথায় কেউ জানে না। কখন শেষ মৃতদেহটি উদ্ধার করা হবে তাও অজানা। অন্যদিকে ভেতরে আটকেপড়া জীবিতদের আহাজারি আর কান্না যে হাহাকারের জন্ম দিয়েছে তার শেষ পরিণতি কী- কেউ বলতে পারছে না।

শুক্রবার রাত থেকে এখনো পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে বেশ কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

শনিবার সকালে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার মুখার্জী জানান, যতক্ষণ পর্যন্ত জীবিত ব্যক্তির অস্তিত্ব পাওয়া যাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে উদ্ধার অভিযান চলবে। গত ২৪ ঘণ্টায় একশজনেরও বেশি মানুষ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, কংক্রিট কেটে সুড়ঙ্গ করে সেখান থেকে আটকদের বের করে আনার জন্য এখন মরিয়া চেষ্টা চালানো হচ্ছে। গত রাত থেকে এ নিয়ে এরকম তিনটি পৃথক খুপরির সন্ধান পেলেন উদ্ধারকর্মীরা, যেখানে সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ হতে ৬০ জন মানুষ আটকে আছেন বলে তারা ধারণা করছেন। যাদের শনাক্ত করা গেছে তাদের কাছে একটি সরু ছিদ্রপথে টর্চলাইট এবং ছোট ছোট অক্সিজেন সিলিন্ডার পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে সাভারে উদ্ধার কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের মাইকে ঘোষণা দেয়া হয় যে, আরো বেশ কিছু জীবিত মানুষের সন্ধান মিলেছে ধ্বংসস্তূপের নিচে। ঘটনাস্থলের আশেপাশে যত অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে সেগুলো সব রানা প্লাজার সামনে এনে প্রস্তুত রাখতে বলা হয়।

এর আগে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সারাদিনে তারা ৭০ জনের বেশি মানুষকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেছেন।

উদ্ধার কাজে নিয়োজিত সেনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সব জীবিত মানুষকে উদ্ধার করা সম্ভব না হচ্ছে, ততক্ষণ তারা ধ্বংসস্তূপ সরাতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ঝুঁকি নেবেন না।

গত বুধবার ঢাকার কাছে সাভারে নয় তলা ভবনটি ধসে পড়ে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে এটি এ যাবতকালের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। নিহতের সংখ্যা ইতিমধ্যে তিনশ ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু আরো বহু মানুষ এখনো ভবনের নিচে চাপা পড়ে আছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে, ভবন ধসের ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভবনের মালিক যুবলীগ নেতা সোহেল রানা ও পাঁচটি গার্মেন্টসের মালিককে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে দুই গার্মেন্ট মালিক ও সোহেল রানার চার আত্মীয়কে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন। পোশাক শ্রমিকরা এটাকে ‘শ্রমিক হত্যা’ আখ্যায়িত করে দুদিন ধরে আন্দোলন করছে। শ্রমিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বিজিএমইএ শনি ও রোববার সারা দেশের সব পোশাক কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের বক্তব্য নিয়ে সারা দেশে যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে তাতে তিনি বিচলিত হয়েছেন বলে মনে হয়  না। শুক্রবার সন্ধ্যায় ক্র্যাবের এক অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেছেন, তার বক্তব্য মিডিয়া বিকৃত করেছে। তবে তার বক্তব্য কোনো প্রিন্ট মিডিয়ায় ছাপা হয়নি, প্রচারিত হয়েছে বিবিসি বাংলায়। এতে তার রেকর্ডকৃত বক্তব্য বিকৃত করার কোনো সুযোগ নেই। আর এ কারণেই সম্ভবত তার দলের লোকেরাও তার ওপর ক্ষেপেছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।