বৃষ্টিভেজা ধ্বংস্তুপে উদ্ধার তৎপরতা : মৃতদেহ উদ্দার ৩৪৮জন,৮৬৯ জন নিখোঁজ,৩৩১হস্তান্তর

সাভারে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ নেতা সোহেল রানার মালিকাধীন রানা প্লাজা’র ধ্বংসস্তূপ থেকে ঘটনার চতুর্থ দিন শনিবার বেলা সোয়া ৩টা পর্যন্ত আরও ২২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে উদ্ধার কাজ অব্যাহত রয়েছে।এ নিয়ে জীবিত উদ্ধারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫১০ জনে। তবে সাভার থানায় জমা হওয়া তালিকাতে ভবন ধসের ঘটনায় এখনও ৮৬৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। আর প্রায় শতাধিক নাম তালিকার অপেক্ষায় রয়েছে।

এছাড়া ‘রানা প্লাজা’র ধ্বংসস্তূপ থেকে শনিবার বেলা সোয়া ৩টা পর্যন্ত ৩৪১ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৩১ জনের মরদেহ সনাক্তের পর তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

অন্য লাশগুলো হস্তান্তরের অপেক্ষায় সাভার অধর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় রাখা হয়েছে। আর  আহতদের নেয়া হচ্ছে এনাম মেডিকেলে কলেজ ও হাসপাতালে। সেখানে আজও নিহত ও নিখোঁজদের হাজার হাজার স্বজনরা ভিড় করেছেন।আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) শনিবার ব্রিফিংয়ে লাশ, জীবিত উদ্ধার ও হস্তান্তরের এ তথ্য জানিয়েছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে আটকে পড়াদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে। এর মধ্যেই অভিযানে যদি একটি দুটি প্রাণের সন্ধান মিললে উদ্যম পাচ্ছে উদ্ধারকর্মীরা। পচে যাওয়া লাশের উৎকট গন্ধ ঠেলে প্রাণের সন্ধানে ছুঁটে চলছেন তারা সুড়ঙ্গ থেকে সুড়ঙ্গে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তৈরি করছেন নতুন নতুন সুড়ঙ্গ।

ধসে পড়া রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে শনিবার সকালে ১৯ জন এবং পরে দুপুরে আরও ৩জনকে উদ্ধারের খবর প্রচার করে সময় টেলিভিশন। টেলিভিশনের চিত্রে দেখা গেছে, উদ্ধারকর্মীরা তাদের বের করে অ্যাম্বুলেন্সে তুলছেন। তাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে হাসপাতালে।

দুপুরের পরে অঝরো বৃষ্টি নামলে উদ্ধারকাজে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটে। তবে ভ্যাপসা গরমে বৃষ্টিতে উদ্ধারকর্মীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। এ সময় বৃষ্টির মধ্যেই উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখেন তারা।

ধ্বংসস্তূপ থেকে শুক্রবার রাতেও বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়, যাদের মধ্যে কয়েকজন অক্ষত রয়েছেন। ওইদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ৩২টি লাশ ও ৯০ জনকে জীবিত উদ্ধার করার কথা জানায় আইএসপিআর।

৫৬ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত নয়তলা ওই ভবন ধসে পড়ে এখন দুই তলার উচ্চতা নিয়ে আছে। আর কনক্রিট কেটে কেটে ভেতরে তল্লাশি চালাচ্ছে উদ্ধারকর্মী দল। উদ্ধারকারীরা আশা দিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও জীবিত মানুষ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জীবিত সর্বশেষ ব্যক্তিটিকে উদ্ধার না করা পর্যন্ত তল্লাশি চলবে বলে সরকারের নির্দেশ রয়েছে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী কাজ চলছে বলে জানিয়েছে উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া সামরিক বাহিনী।

উল্লেখ্য, সাভার বাস স্ট্যান্ড এলাকায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্থানীয় যুবলীগ নেতা সোহেল রানার মালিকানাধীন নয়তলা ‘রানা প্লাজা’ ২৩ এপ্রিল ফাটল ধরার পরের দিন ২৪ এপ্রিল বুধবার সকালে ধসে পড়ে। ভবনটির চারটি তলায় পাঁচটি পোশাক কারখানায় প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক কাজ করছিলেন ঘটনার সময়।

শ্রমিকদের অভিযোগ, ফাটল দেখা দেয়ার পর তারা ঢুকতে না চাইলেও কারখানা মালিকরা তাদের কাজে যোগ দিতে বাধ্য করেন।

এ ঘটনায় দুই গার্মেন্ট মালিকসহ মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ভবনের মালিক যুবলীগ নেতা সোহেল রানা পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আর হাই কোর্ট রানা ও ওই ভবনের গার্মেন্টস মালিকদের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আদালতে হাজিরে নির্দেশ দিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।