সাভারের ‘রানা প্লাজা’র ধ্বংসস্তূপ উদ্ধারকাজে ভারি যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত রবিবার

সাভারের ‘রানা প্লাজা’র ধ্বংসস্তূপ থেকে আটকে পড়াদের উদ্ধারে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হবে কিনা সেবিষয়ে রোববার সকালে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আর এর মধ্যদিয়ে বড় ধরনের অভিযানে যেতে পারে উদ্ধারকর্মীরা। শনিবার রাত ৯টার দিকে সাংবাদিকদের নিয়মিত ব্রিফিংকালে এ তথ্য জানান আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক শাহীনুল ইসলাম। তিনি বলেন, রবিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে। এরপর সকাল ৭টায় দুর্ঘটনাস্থলের বিভিন্ন জায়গা সাংবাদিকরা ঘুরে ঘুরে দেখানো হবে।

‘সকাল ৮টায় উদ্ধার অভিযান সমন্বয় কমিটির সভা হবে। সে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কখন থেকে ভারি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হবে নাকি উদ্ধার তৎপরতা যেভাবে চলছে, সেভাবেই চলবে’ যোগ করেন তিনি।

অবশ্য শাহীনুল বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত প্রাণের স্পন্দন পাওয়া যাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত ভারি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত একজনের জীবিত থাকার সম্ভাবনা থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এভাবেই উদ্ধার কাজ চালানো হবে।’

এদিকে, রাত ৯টা ৩৫ মিনিটের দিকে ঝড় শুরু হলে কিছুক্ষণের জন্য উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। তবে ঝড়ে মাত্রা কমে আসলে উদ্ধারকর্মীরা ফের উদ্ধারকাজ শুরু করেন। বৃষ্টি হলেও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে প্রত্যয়ী তারা।

লাশের উৎকট গন্ধ ও বৃষ্টির বাধা সব ধরনের প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করেও উদ্ধারকাজ করে যাচ্ছে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সাধারণ উদ্ধারকর্মীরা। এক্ষেত্রে তাদের প্রেরণা যোগাচ্ছে জীবিতদের উদ্ধার।

রাত ১০টার দিকে রানা প্লাজার তৃতীয় তলায় আরো চার জীবিত নারীর সন্ধান পায় উদ্ধারকর্মীরা। এনিয়ে আজও ৩৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলো। আরও কয়েকজনের জীবিত থাকার বিষয়টি সনাক্ত করেছে উদ্ধারকর্মীরা।

শনিবার রাত ১১টা পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩৫২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব লাশ পার্শ্ববর্তী অধরচন্দ্র স্কুল মাঠে রাখা রয়েছে। এদের মধ্যে ৩৪৬টি লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে ৩৮ লাশ পড়ে আছে।

প্রসঙ্গত, ফায়ার সার্ভিসের ঘোষণা অনুযায়ী ৭২ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের সময়সীমা আগামীকাল শনিবার সাড়ে ৯টায় শেষ হয়। তবে এরপরও জীবিতদের সন্ধান মেলায় সময় বেঁধে দিয়ে উদ্ধার অভিযানের অবস্থান থেকে সরে আসে কর্তৃপক্ষে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্থানীয় যুবলীগ নেতা সোহেল রানার মালিকানাধীন নয় তলা ‘রানা প্লাজা’ গত বুধবার সকালে ধসে পড়ে। একটি তলার সঙ্গে একটি তলা মিশে এটি এখন তিন তলায় পরিণত হয়েছে।

ধসে পড়ার সময় ওই ভবনে পোশাক শ্রমিকসহ চার হাজারের মতো লোক কর্মরত ছিল। এরপর থেকেই হতাহতদের উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থা। এতে সহযোগিতা করছে স্থানীয়রাও।

এখনও সহস্রাধিক লোক ভবনের ভেতর চাপা পড়ে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে সময় যত গড়াচ্ছে, জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনাও ক্ষীণ হয়ে আসছে।

মঙ্গলবার বিকেলেই ভবনটিতে বড় ধরনের ফাটল দেয়। এরপর ব্যাংকসহ কিছু কার্যালয় বন্ধ করে দেয়া হয়। কিন্তু বুধবার সকালে ভবনের পোশাক কারাখানাগুলোতে শ্রমিকদের কাজ করতে বাধ্য করে ভবন ও কারখানার মালিকরা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।