ড. কামাল রানাসহ শ্রমিক হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে আদালতে যাবেন

সংবিধান প্রণেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড.কামাল হোসেন সাভারের রানা প্লাজার মালিক যুবলীগ নেতা সোহেল রানাসহ সব শ্রমিক হত্যাকারী গামেন্টস মালিকের ফাঁসির দাবি এবং বিদ্যমান আইনের সংশোধনী চেয়ে রোববার আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন । শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে গামেন্টস শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের ‘সাভার ট্র্যাজেডি, আইন ও সর্বোচ্চ শাস্তি এবং ক্ষতিপূরণ শীর্ষক’ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ ঘোষণা দেন।

ড. কামাল বলেন, “আমাদের স্মরণশক্তি দুর্বল। এক ঘটনা ঘটার পর অন্য ঘটনায় আগের ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায়। কমিশন ও তদন্ত কমিটির রিপোর্টে আমরা আজ পর্যন্ত একজন খুনি মালিককেও গ্রেফতার করতে পারিনি। এ ধরনের ঘটনা স্বাধীন বাংলায় যাতে আর ঘটতে না পারে সেজন্য আমাদের শক্তি অর্জন করতে হবে। তাই রোববার আমি আদালতে যাচ্ছি।”  তিনি বলেন, “অর্থনৈতিক ক্ষমতা দিয়ে আজ রাজনৈতিক ক্ষমতাকে ক্রয় করা হচ্ছে। প্রতিটি নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্য চলছে। ফলে মাহমুদুর রহমান মান্নার মতো লোকেরা মনোয়ন পাচ্ছেন না।  কিন্তু নির্বাচন কমিশন এর বিচার করছে না। আমরা ভেবেছিলাম রাজনীতিতে জনগণের ভূমিকা থাকবে, কিন্তু তা হয়নি। রাজনীতি এখন হাওয়া ভবন আর নতুন নতুন ভবনের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে।”
তিনি আরো বলেন, “আজ পরিহাসের সঙ্গে বলতে হয়, এতদিন শ্রমিক মারা গেল আর এখন মালিকরা মারা যাচ্ছেন। মালিকরা বড় দু’দলের সঙ্গে আঁতাত করে চলেন। তারা শ্রমিকদের স্বার্থ দেখবেন না। সামনে সময় আসছে। নির্বাচনের আরো আট মাস বাকি। আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। কতিপয় বড় দলের কাছে জিম্মি না থেকে নিজেরা শক্তি অর্জন করে ক্ষমতায় যাই।” এছাড়া নিজেদের স্মরণ শক্তি জাগিয়ে রাখতে প্রতিদিন টিভিতে টকশোতে তিনি সাভারের ঘটনা জনগণকে মনে করিয়ে দেয়ার জন্যও আলোচকদের আহ্বান জানান।
তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, “কারাখানা বিপর্যয়ে সারা বিশ্বে প্রথম স্থানে বাংলাদেশ। পৃথিবীর ইতিহাসে কারখানা ধসে ১০২৮ জনের প্রাণহানি ঘটেনি। আর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান। সেখানে ২০০৬ সালে ৩০০ লোকের প্রাণহানি ঘটেছিল। ”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে কারখান ধসে দায়ী তিনটি পক্ষ। ভবন ও গার্মেন্টস মালিক (হত্যার অভিযোগে), বিজিএমইএ (মালিকদের সংগঠন হিসেবে কারখানায় কাজের পরিবেশ না দেখায়) ও সরকার ( মন্ত্রণালয় থাকা সত্বেও গার্মেন্টস ভবনগুলোকে অবহেলা করা)।”
তিনি নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ জনগণের ট্যাক্সের টাকা থেকে না দিয়ে মালিকদের পকেট থেকে দেয়ার আহ্বান জানান।
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “সাভারের ঘটনা ৪২ বছরের নষ্ট রাজনীতির পরিণতি। হয়তো এ রাজনীতি আরো ৪২ বছর চলবে। একটি ঘটনা ঘটার কিছুকাল পরেই আমরা ভুলে যাই। ইস্যুর নিচে ইস্যু চাপা পড়ে। রানা প্লাজাও হয়তো তাজরীনের মতো হারিয়ে যাবে।”
তিনি বলেন, “স্মৃতি গিলে খেতে খেতে আমরা এখন জাতি গিলে খাচ্ছি। সামনে নির্বাচন, আমাদের এখানের অনেকেই হয়তো বড় দু’দলের দিকে চলে যাবেন। তাই এই দু’এক মাসের মধ্যেই অন্তত শ্রমিকদের জন্য হলেও শ্রম আইন সংশোধনের জন্য আমাদের কাজ করা দরকার। যাতে হাজার শ্রমিক হত্যার দায়ে কারো ২/৩ বছরের জেল না হয়।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আসিফ নজরুল বলেন, “এক হাজার শ্রমিক হত্যার দায়ে সোহেল রানাকে ১০০০ বার ফাঁসি দেয়া হলেও ক্ষতিগ্রস্ত স্বজনদের ক্ষতিপূরণ হবে না। তারপরও মালিকদের মধ্যে উদাহরণ সৃষ্টির জন্য রানাকে ফাঁসি দেয়া প্রয়োজন। ”
সংগঠনের সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইলের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরো বক্তব্য দেন সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, শ্রম আইনজীবী নেসার আহমেদ, গার্মেন্টস শ্রমিক নেত্রী তাছলিমা আক্তার লিমা প্রমুখ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।